প্রচ্ছদ / বিনোদন / বিস্তারিত

একান্ত সাক্ষাৎকারে অশোক ধানুকা

বাংলাদেশের প্রতি আমার আবেগের যায়গা অনেক

২৪ এপ্রিল ২০১৯ , ০৬:০৩:০৩

ছবি: ইন্টারনেট থেকে

আরেফিন সোহাগ: অশোক ধানুকা ভারতীয় চলচ্চিত্র প্রযোজনা সংস্থা ‘এসকে মুভিজ’র কর্ণধার। বাংলাদেশ-কলকাতা মিলিয়ে তিনি প্রযোজনা করেছেন অসংখ্য সিনেমা। সর্বশেষ যৌথ প্রযোজনায় ‘ভাইজান এলো রে’, ‘চালবাজ’ নামে দুটি সিনেমা প্রযোজনা করেছে ‘এসকে মুভিজ’।

এই সিনেমা দুটির মুক্তি নিয়ে বাংলাদেশে একটু জটিলতা দেখা দিলেও শেষ পর্যন্ত মুক্তি মিলে। সিনেমা দুটিতে মূল ভূমিকায় অভিনয় করেন ঢালিউডের সুপারস্টার শাকিব খান।

বুধবার (২৪ এপ্রিল) ‘এসকে মুভিজ’র কর্ণধার অশোক ধানুকার সঙ্গে আলাপ হয় বিডি২৪লাইভ’র স্টাফ করেসপন্ডেন্ট আরেফিন সোহাগের। একান্ত এই আলাপে অশোক ধানুকা কথা বলেন সিনেমার নানান বিষয় নিয়ে।

কলকাতার সিনেমা কেমন চলছে? বর্তমান কি নিয়ে ব্যস্ত আপনি?
অশোক ধানুকা:
কলকাতার সিনেমার বর্তমানে খুবই ভালো অবস্থা দাদা। এখন সবাই (শিল্পীরা) কাজ নিয়ে ব্যস্ত আছেন। আমার এক সঙ্গে দুটি সিনেমার কাজ চলছে। আশা করি খুব শীঘ্রই দর্শক দেখতে পাবে। কলকাতাতে এখন সিনেমার চাহিদা বেড়েছে। সিনেমার দিকে ঝুঁকছে সবাই।

বাংলাদেশে আপনি অনেক সিনেমা নিয়ে কাজ করেছেন। কলকাতা এবং বাংলাদেশের মধ্যে পার্থক্য কি পেয়েছেন?
অশোক ধানুকা:
বাংলাদেশের প্রতি আমার আবেগের যায়গা অনেক আগে থেকে রয়েছে। সেখানে সব শিল্পীরা খুব আন্তরিক। সর্বশেষ আমি ‘ভাইজান এলো রে’, ‘চালবাজ’ নিয়ে কাজ করেছি। কলকাতার কাজ তো নিয়মিত করছি। সব যায়গাতে একটু সমস্যা তো থাকেই। তাই পার্থক্য তেমন পাইনি।

বাংলাদেশের কোন শিল্পীকে আপনার কাছে সেরা মনে হয়? এবং আমাদের সিনেমার জন্য পরামর্শ কি আপনার?
অশোক ধানুকা:
আমি শাকিব খান ছাড়া আর কাউকে দেখিনা। শাকিব খুব পরিশ্রম করা একজন শিল্পী। অভিনয়ে অনেক পাঁকা। কাজকে নিজের করে নিতে পারে খুব সহজে। শাকিব ছাড়া বাংলাদেশের সিনেমা চলবে না। আপনাদের ওখানে হিংসে আর রাজনীতি চলে সিনেমা নিয়ে। ওপার বাংলার সিনেমার কথা ভাবলে আমার কষ্ট লাগে। এত সুন্দর, বড় একটা প্লাটফর্ম শেষ হয়ে যাচ্ছে।

আপনাদের ওখানে প্রডিউসার নেই, আর যে দু-একজন আছে তারা সিনেমার জন্য আসে না, নিজেদের স্বার্থের জন্য আসে। এক মাত্র জাজ মাল্টিমিডিয়া ছাড়া আর কোন প্রতিষ্ঠান নেই যে নিয়মিত সিনেমা বানাবে। এই ভাবে তো সিনেমা টিকিয়ে রাখা যায়না দাদা। ঈদকে ঘিরে বাংলাদেশে সিনেমা তৈরি করা হয়, কিন্তু সে গুলো হলে চলে না। একমাত্র শাকিব খানের সিনেমা হলে দর্শক টানে। এক শাকিব খান দিয়ে কতদিন চলবে সিনেমা।

দর্শক এখন গল্প চায়, পাঁচটা গান আর একটু প্রেমের দৃশ্য দিয়ে সিনেমা বানালে দর্শক দেখবে না। নতুন কিছু বের করে আনতে হবে। রিমেক করে কপি করে সিনেমাকে বাঁচিয়ে রাখা যাবেনা।

আগামীতে আপনি বাংলাদেশে কি ধরণের সিনেমা নিয়ে কাজ করবেন?
অশোক ধানুকা:
না দাদা, আমার আর কোন ইচ্ছে নেই। আমি ওখানে আর সিনেমা বানাব না। আমাদের এখানে কাজ করে সময় পাচ্ছি না। আমি মুখ ফিরিয়ে নিয়েছি বাংলাদেশে সিনেমা বানানো নিয়ে। আমার সিনেমা মুক্তি নিয়ে সেখানে বাধা দেয়া হয়েছে। সিনেমা মুক্তি পেলে তো দুই দেশেরই লাভ। বাংলাদেশ আর কলকাতা বলে তো কোন কথা নেই। সিনেমা তো দর্শকের জন্য, দর্শক হলে আসলে দু’টাকা তো সবার পকেটেই যাবে। তবে এটা বলে রাখি, যদি কোন দিন ওখানকার সিনেমার পরিবেশ ভালো হয় তখন ভেবে দেখবো বিষয়টি।

কলকাতা এবং বাংলাদেশের দর্শক নিয়ে কিছু বলুন।
অশোক ধানুকা:
বাংলাদেশে প্রচুর সিনেমা পাগল দর্শক আছে। যারা সিনেমা দেখতে চায়। সিনেমা তৈরি হচ্ছে না ওখানে। কিন্তু আমাদের কলকাতাতে এত দর্শক ছিল না। ইদানিং আমাদের এখানেও দর্শক দেখা যাচ্ছে সিনেমা পাড়ায়।

প্রসঙ্গত, ‘ভাইজান এলো রে’, ‘চালবাজ’, ‘শিকারি’, ‘বাদশা দ্যা ডন’, ‘অঙ্গার’, ‘নিয়তি’, ‘নবাব’, ‘হিরো ৪২০’, ‘অগ্নি’, ‘আমি নেতা হবো’, ‘আশিকী’, রংবাজসহ অনেক সিনেমায় বাংলাদেশের সাথে যৌথ প্রযোজনা করেছে এসকে মুভিজ।

বিডি২৪লাইভ/এএস

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য: