প্রচ্ছদ / জাতীয় / বিস্তারিত

সেগুনবাগিচায় গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রী

যারা দুর্নীতির সঙ্গে থাকবেন, তাদের চাকরি ছাড়তে হবে

প্রকাশিত: ০৫:৫৬ অপরাহ্ণ, ২৫ এপ্রিল ২০১৯

ছবি: সংগৃহীত

গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম বলেছেন, ‘সেবা সহজীকরণের প্রক্রিয়া শুরু হলে আমরা মন্ত্রণালয়সহ প্রতিটি দপ্তরে একটা অভিযোগ বাক্স রাখবো। শুনতে চাই কারা দুর্নীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত। জানতে চাই কাদের কারণে মানুষ কাঙ্ক্ষিত সেবা পাচ্ছেনা। বুঝতে চাই মানুষ কতোটা সেবা পাচ্ছে। কারণ আমাদের দায়িত্ববোধের জায়গা আমরা এড়িয়ে যেতে পারি না।

বৃহস্পতিবার (২৫ এপ্রিল) দুপুরে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষের সম্মেলন কক্ষে জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষের সেবা সহজীকরণ বিষয়ে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, আমরা আসবো-যাবো, কাঁধে কোনো দায় নেবো না, এটা হতে পারে না। যারা সচ্ছতার সঙ্গে কাজ করবেন, তারা চাকরিতে থাকবেন। যারা অস্বচ্ছ হবেন, দুর্নীতির সঙ্গে থাকবেন, তাদের চাকরি ছেড়ে বাড়ি চলে যেতে হবে অথবা অন্য কোথাও চলে যেতে হবে। আমি যতদিন এই মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে আছি, আমি চাইব মন্ত্রণালয়সহ দপ্তর-সংস্থার সবাইকে সততার সঙ্গে, স্বচ্ছতার সঙ্গে নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে।

গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রী বলেন, ‘আবাসন নাগরিকের অন্যতম মৌলিক অধিকার। সকলের জন্য আবাসন, কেউ থাকবে না গৃহহীন। সেই লক্ষ্যে শেখ হাসিনা সরকার কাজ করছে। যখন দেখি নাগরিকগণ আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় অথবা রাজনৈতিক ব্যক্তিদের কাঙ্ক্ষিত আচরণ না পেয়ে অসহায় অবস্থায় ঘুরছে, তখন মনে হয় ঐ জায়গায় আমি থাকলে একই কষ্ট আমার হতো।

সেজন্য দীর্ঘসূত্রিতার অবসান ঘটাতে হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, মানুষের ভোগান্তির অবসান ঘটাতে হবে, সেবাকে সহজ করতে হবে, স্বচ্ছতা আনতা হবে, সততা আনতে হবে। সুশাসন যদি আমরা নিশ্চিত করতে না পারি, মানুষের কাঙ্ক্ষিত স্বপ্ন বাস্তবায়ণ হবে না, নাগরিকগণ মৌলিক অধিকার পাবে না। যারা দায়িত্বে আছি সকলকে ভাবতে হবে জনগণ মালিক, তাদের প্রতি আমাদের শ্রদ্ধাবোধ থাকতে হবে।

মন্ত্রী বলেন, জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষে অনেক ভোগান্তির অভিযোগ আমার কাছে এসেছে। দেড় কাঠা বা পৌনে দুই কাঠা জমির মালিকের একটা বিক্রয় অনুমতি বা একটা মিউটেশনের জন্য অনেক কষ্ট করতে হয়। নাগরিক সমাজের প্রতি দায়িত্ববোধের জায়গা থেকে আমরা চিন্তা করলাম, গবেষণা করা দরকার মানুষের ভোগান্তি কেনো। নাগরিক সেবা প্রদানের ক্ষেত্রে অচলায়তন ভাঙার জন্য মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন ১২টি সংস্থা নিয়ে আমরা কাজ করছি।

জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষের পিয়ন থেকে শুরু করে চেয়ারম্যান প্রত্যেকে জনগণের কাছে দায়বদ্ধ উল্লেখ করে তিনি বলেন, জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষের সেবা প্রদানের ২৬টি পর্যায়ের বিন্যাস করা হয়েছে। দেশের সাধারণ মানুষের স্বার্থে সেবা সহজীকরণের প্রক্রিয়া আমরা শুরু করেছি। বাংলাদেশ সরকারের গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়েই প্রথম মানুষের সেবা সহজ করার জন্য, ভোগান্তি কমানোর জন্য আমরা নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছি। এটা একটা বৈপ্লবিক পরিবর্তন।

সরকার ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান নয় উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, প্রয়োজনে রাজউক ও জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষকে সরকার ভর্তুকি দেবে, কিন্তু জনগণের ঘাড়ে অতিরিক্ত ট্যাক্স চাপিয়ে তাদের কষ্ট বাড়ানো এবং তার ভেতর থেকে আমাদের সুবিধা নেয়া, এটা কাঙ্ক্ষিত নয়, সে লক্ষ্যে আমরা কাজ করছি।

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন, জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মোঃ রাশিদুল ইসলাম, গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মোঃ আখতার হোসেন।

বিডি২৪লাইভ/এইচকে

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য: