প্রচ্ছদ / রাজনীতি / বিস্তারিত

শপথ নেয়ার পর যা বললেন জাহিদুর

প্রকাশিত: ০৬:৫২ অপরাহ্ণ, ২৫ এপ্রিল ২০১৯

ছবি: সংগৃহীত

সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নিয়েছেন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঠাকুরগাঁও-৩ আসন থেকে নির্বাচিত বিএনপির প্রার্থী জাহিদুর রহমান জাহিদ। তিনি শপথ নেওয়ার পর মিশ্র প্রতিক্রিয়া লক্ষ করা যায় বিএনপির নেতাকর্মী ও আমজনতার মধ্যে।

স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী বৃহস্পতিবার বেলা ১২টায় জাতীয় সংসদ ভবনে তার দপ্তরে জাহিদুর রহমানকে শপথবাক্য পাঠ করান। শপথ অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন সংসদ সচিব জাফর আহমেদ খান।

সংসদ সচিবালয় জানিয়েছে, একাদশ সংসদ নির্বাচনে জয়ী ৩০০ প্রার্থীর মধ্যে জাহিদকে নিয়ে মোট ২৯৫ জন এ পর্যন্ত শপথ নিয়েছেন। বিএনপি থেকে নির্বাচিত আর পাঁচজন এখনও শপথ নেওয়ার বাকি।

গত ৩০ ডিসেম্বর একাদশ সংসদ নির্বাচনে বিএনপির ভরাডুবির মধ্যেও ঠাকুরগাঁও-৩ আসন থেকে নির্বাচিত হয়ে চমক সৃষ্টি করেন ধানের শীষের প্রার্থী জাহিদুর রহমান জাহিদ। স্বতন্ত্র হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা আওয়ামী লীগ নেতা ইমদাদুল হককে তিনি হারিয়ে দেন চার হাজার ভোটের ব্যবধানে।

শপথ নেওয়ার পর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, ‘দলের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে শপথ নিয়েছি। দল আমাকে বহিষ্কার করতে পারে জেনেও আমি শপথ নিয়েছি। দল বহিষ্কার করলেও আমি দলে আছি।’

একাদশ সংসদে বিএনপির প্রথম সংসদ সদস্য হিসেবে জাহিদ বৃহস্পতিবার শপথ নেওয়ার পর তাকে অভিনন্দন জানান আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহাবুব-উল আলম হানিফ।

বিরোধী দলের এমপির শপথ নেওয়ার প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, আমরা বারবার বলে আসছি, ভোটারদের দায়বদ্ধতার প্রতি সম্মান দেখিয়ে আপনারা শপথ গ্রহণ করুন। জনগণ ভোট দিয়ে নির্বাচিত করেছে সংসদে আসার জন্য, সেই দায়বদ্ধতা থেকে শপথ নেওয়া উচিত। আজকে বিএনপির সাংসদ জাহিদুর রহমান জাহিদ শপথ নিয়েছেন, তাকে আমরা অভিনন্দন জানাই।

দলের সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে শপথ নেওয়ায় জাহিদকে ‘গণদুষমন’ বলেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়।

ঠাকুরগাঁও-৩ আসনের জাহিদের মতো বিএনপি থেকে আরও পাঁচজন এবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এর মধ্যে দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরও রয়েছেন।

হানিফ বলেন, আমরা আশা করি, বাকিরাও খুব শিগগিরই শপথ নেবেন।

জাহিদ জানান, এর আগেও তিনি তিনবার নির্বাচন করেছেন। চতুর্থবারে এসে নির্বাচিত হয়েছেন। ঠাকুরগাঁও-৩ আসনে এর আগে কখনও বিএনপি জয় পায়নি।

তিনি বলেন, আমি শপথ নেয়ার জন্য দলের কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে দেখা করেছি, কথা বলেছি; কিন্তু সম্মতি পাইনি। তারা কোনোভাবেই সম্মতি দেননি। দলের এখন পর্যন্ত সিদ্ধান্ত কেউ শপথ নেবে না। দল যদি মনে করে বহিষ্কার করবে, করতে পারে। কিন্তু আমি দলেই আছি। বহিষ্কার করলেও আমি বিএনপিরই একজন নিবেদিত প্রাণ। ছাত্রজীবন থেকে দীর্ঘ ৩৮ বছর ধরে আমি বিএনপির সঙ্গে সম্পৃক্ত। বিএনপি আমাকে বহিষ্কার করলেও আমি তো বিএনপি থেকে বহিষ্কার হব না।

সংসদে গিয়ে খালেদা জিয়ার মুক্তি চাইবেন উল্লেখ করে জাহিদ বলেন, আমার নেত্রী ৭৩ বছর বয়সে গণতন্ত্রের জন্য সংগ্রাম করে জেল খাটছেন। উনাকে যেন গণতন্ত্রের স্বার্থে মুক্ত করে দেয় সংসদে এ আহ্বানও জানাব। এটিই আমার প্রথম অঙ্গীকার।

‘আমার নেত্রীর মুক্তির জন্য সংসদে যে ভূমিকা রাখা দরকার, সেটি আমি করব। বিশেষ করে আমার এলাকার হাজার হাজার নিরপরাধ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের জন্য সংসদে দাঁড়িয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে আহ্বান জানাব’-যোগ করেন বিএনপির এ নেতা।

এদিকে নির্বাচনে ‘ভোট ডাকাতির’ অভিযোগ তুলে পুনর্নির্বাচনের দাবি তোলে বিএনপি ও ঐক্যফ্রন্ট।

গণফোরামের সুলতান মনসুর ও মোকাব্বির খান দলের সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে এমপি হিসেবে শপথ নেওয়ায় বিএনপির নির্বাচিতরাও একই পথে হাঁটতে পারেন বলে গুঞ্জন শোনা যাচ্ছিলো বেশ কিছুদিন ধরে। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নেতারাও বিএনপিকে সংসদে আসার আহ্বান জানান।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মওদুদ আহমদ গত ১৯ এপ্রিল এক অনুষ্ঠানে সংসদে না যাওয়ার দলীয় সিদ্ধান্ত তুলে ধরে বলেন, ‘আমাদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের (তারেক রহমান) সঙ্গে বসে আমরা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছি, আমাদের স্থায়ী কমিটি নিয়েছে। সুতরাং এখান থেকে ফিরে যাওয়ার বা কেনো পরিবর্তনের প্রশ্নই ওঠে না।’

তবে নির্বাচনে বিজয়ী সবাই যে ওই সিদ্ধান্ত নাও মানতে পারেন, সে ইংগিত সেদিন পাওয়া গিয়েছিল বিএনপির স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের কথায়।

তিনি বলেছিলেন, ‘আমরা শুনি, নির্বাচিতরা বলেন, জনগণের ইচ্ছ। কিন্তু তাদের মধ্যে শুনলাম না এই কথা যে অবৈধ সরকারকে বৈধতা দিতে আমরা পার্লামেন্টে যাব না।… উঁকি-ঝুঁকি মারছে নানা চোরাগলি পথ দিয়ে নানা কথা। কোন কথা সত্য কোন কথা মিথ্যা জানি না।’

কেরানীগঞ্জ থেকে ভোট করে পরাজিত গয়েশ্বর এর গত ২১ এপ্রিল আরেক অনুষ্ঠানে বলেছিলেন, বিএনপি থেকে নির্বাচিত কেউ সংসদের আশপাশ দিয়ে হাঁটলেও জাতি তাদের ক্ষমা করবে না।

তবে সেই হুঁশিয়ারিকে পাত্তা না দিয়ে সুলতান মনসুর ও মোকাব্বির খানের পথেই হাঁটলেন ভোটে জয়ী জাহিদুর রহমান।

বিডি২৪লাইভ/এইচকে

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য: