বিয়ের জন্যে পাকিস্তানি মেয়েদের খোঁজে চাইনিজ পুরুষরা, তারপর...

প্রকাশিত: ০৩:৪২ অপরাহ্ণ, ৭ মে ২০১৯

ছবি: ইন্টারনেট থেকে নেয়া।

পাকিস্তানের সংখ্যালঘু খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের শত শত নারী চীনে চলে গেছেন কোনো চাইনিজ পুরুষের ঘরণী হয়ে।  তবে তাদের চীনে নিয়ে গিয়ে পতিতাবৃত্তিতে নিযুক্ত করা হচ্ছে।  সম্প্রতি চাইনিজ পুরুষদের বিয়ের জন্যে পাকিস্তান বড় বাজারে পরিণত হয়েছে। 

পাকিস্তানের ‘প্রোস্টিটিউশন রিং’ এ কাজে সক্রিয় হয়ে উঠেছে এবং কর্তৃপক্ষ ১২ জনকে আটকও করেছে বলে জানায় সংবাদ মাধ্যম রয়টার্স। 

আটককৃতদের মধ্যে ৪ জন চাইনিজ ছাড়াও ৪ জন পাকিস্তানি আছে।  বিষয়টিতে নজরদারি করছে পাকিস্তানের ফেডারেল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি (আফআইএ), জানান জামিল আহমাদ নামের এক উর্ধ্বতন কর্মকর্তা। 

পাকিস্তানের খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের মেয়েদের মধ্যে বিয়ের ধুম পড়েছে। চাইনিজরা এসে দ্রুত বিয়ের জন্যে মেয়ে খুঁজছেন। আবার পাকিস্তানে মানবপাচারের সঙ্গে জড়িত দালালরাও চাইনিজদের বিয়ে দিতে মেয়ে খুঁজে দিচ্ছেন।  অনেক সময় এরা গির্জার বাইরে দাঁড়িয়ে বিয়ের জন্যে মেয়ে খুঁজে থাকেন।  মেয়ে বা মেয়ের পরিবারের কাছে টোপ হিসেবে বড় অঙ্কের অর্থের লোভ দেখানো হচ্ছে।  মেয়ের অভিভাবকদের হাতে কয়েক হাজার ডলার ধরিয়ে দিয়ে বলা হচ্ছে, তাদের চাইনিজ জামাই ধর্মান্তরিত ধনী খ্রিস্টান।  বিয়ে করেই মেয়েদের নিয়ে দ্রুত চলে যাওয়া হচ্ছে চীনে।      

আহমাদের বরাত দিয়ে রয়টার্স জানায়, পাকিস্তানি নারী পাচারের সংখ্যা বৃদ্ধির খবর পায় এফআইএ।  এর পর থেকেই তৎপরতা চালিয়ে এর পেছনের গ্যাংটির পরিচয় বের করা হয়েছে।  চাইনিজ পুরুষরা এই নারীদের বিয়ে করে চীনে নিয়ে তাদের পরিততাবৃত্তিতে ছেড়ে দিচ্ছে। তবে এখানে একযোগে কয়েকটি গ্যাং সক্রিয় থাকতে পারে। মূলত তাদের টার্গেট পাকিস্তানের সংখ্যালঘু খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের ওপর।  

চীনের নারী ও কম বয়সী মেয়েরা পাচার হয়ে যাচ্ছে চীনে।  ইসলামাবাদে অবস্থিত চাইনিজ অ্যাম্বেসিও অবৈধ ও পাচারের উদ্দেশ্যে দুই দেশের বিয়ের বিষয়ে সাবধান করে দিয়েছে।  গত মাসেও অবৈধ বিয়ে আটকাতে পাকিস্তানি নিরাপত্তা বাহিনীকে সহায়তা দিয়েছে চাইনিজ অ্যাম্বেসি।  অবশ্য এ নারীদের পাচার করা হচ্ছে দেহের প্রত্যঙ্গ নেয়ার জন্যে- এমন খবর পুরোপুরি ‘অপপ্রচার ও ভিত্তিহীন’ বলে জানানো হয়েছে।     

ফয়সালাবাদে আয়োজিত এমনই এক বিয়ে তদন্তের গতি ঘুরিয়ে দেয়। সেখান থেকে এক চাইনিজ নারী ও পুরুষ এবং ভুয়া যাজককে আটক করা হয়। ওই চাইনিজ পুরুষের সাথে বিয়ের জন্যে একটি পাকিস্তানি খ্রিস্টান মেয়েও ছিল। 

আটককৃতরা স্বীকার করেছেন যে, তারা কমপক্ষে ৩৬ জন পাকিস্তানী মেয়েকে চীনে পাঠিয়েছে। সেখানে তাদের পতিতাবৃত্তিতে নিয়োজিত করা হয়েছে। 

বিডি২৪লাইভ/এএস

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য: