প্রচ্ছদ / জাতীয় / বিস্তারিত

‘এনআইডি দেখে শিখতে পারে সরকারের অন্য সেবাদান প্রতিষ্ঠান’

৮ মে ২০১৯ , ০৪:২৩:৪১

ছবি: নিজস্ব

জাতীয় পরিচয়পত্র ও নিবন্ধন অনুবিভাগের (এনআইডি) মহাপরিচালকের দায়িত্ব পালন করছেন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ সাইদুল ইসলাম। তিনি দায়িত্ব নেওয়ার পর এনআইডি সেবায় গতি বাড়িয়েছেন। যেখানে এক সময় এনআইডি সেবা নেয়ার কথা শুনে মানুষ ভয় পেতেন। এটি অনেক ভোগান্তির বিষয়, অনেক সময়ের ব্যাপার ভাবতেন। সে সবের অবসান ঘটিয়ে এখন এনআইডি সেবায় চমক এনেছে এ মহাপরিচালক। একদিনেই এখন হারানো কার্ড উত্তোলন করা যায়। এনআইডি সংশোধন সেবাও দ্রুত পাওয়া যায়। এছাড়া সাইদুল ইসলামের সময়ে ইভিএম প্রকল্প সফলতা পেয়েছে। এসব বিষয়ে বিডি২৪লাইভের সাথে একান্ত সাক্ষাৎকার দিয়েছেন জাতীয় পরিচয়পত্র ও নিবন্ধন অনুবিভাগের(এনআইডি) মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ সাইদুল ইসলাম। তার দেয়া সাক্ষাৎকারে চুম্বক অংশ তুলে ধরা হল-

বিডি২৪লাইভ: এক সময় এনআইডি সেবা নিতে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সামনে মানুষ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকত। পাশে দালালদের উৎপাত ছিল। এসব থেকে কিভাবে এনআইডি সেবার মান উন্নত করলেন?
মোহাম্মদ সাইদুল ইসলাম: সহজে মানুষকে এনআইডি সেবা দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য। আমরা প্রথমে যে কাজটি করেছি সেটা হচ্ছে এনআইডি সেবা উপজেলা পর্যায়ে নিয়েছি। মানুষ এখন নিজ উপজেলায় সেবা পায়। এর আগে মাঠ পর্যায় থেকে হেড অফিসে যেসব কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্বে অভিযোগ এসেছে সেটা দ্রুত তদন্ত করে ব্যবস্থা নিয়েছি। আগে এনআইডিতে বাহিরের অনেক চক্র ছিল সেগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছি। এখন আমরা সার্বক্ষণিক এনআইডি সেবা মনিটরিং করি। কোন নাগরিক যাতে সেবা নিতে এসে ভোগান্তিতে না পরে সে বিষয়টিতে আমরা নজর দিয়েছি।

তিনি বলেন, হারানো কার্ড এখন ১ থেকে ২ ঘন্টার মধ্যে দেওয়া হয়। আমি এনআইডির সব কর্মকর্তাকে বলেছি নাগরিকদের সেবা দেওয়ার জন্য আমরা বসেছি। এখানে কেউ যেন হয়রানির শিকার না হয়। এ রকম অভিযোগ পেলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিনি আরও বলেন, প্রতিটি সেবা প্রতিষ্ঠান চেষ্টা করলে এ রকম আধুনিক সেবা দিতে পারে। একটি সঠিক পরিকল্পনা ও শ্রম দিলে অবশ্যই ভালো কিছু সম্ভব। 

বিডি২৪লাইভ: ইসির হেড অফিসে দ্রুত অধুনিক সেবা পাওয়া গেলেও মাঠ পর্যায়ে এখনও ভোগান্তির অভিযোগ পাওয়া যায়। এ বিষয়টি আপনি কিভাবে দেখছেন?
মোহাম্মদ সাইদুল ইসলাম: এখনও মাঠ পর্যায় থেকে কিছু অভিযোগ আসে, সেট সত্য। তবে আমরা তাদেরকে সতর্ক করেছি। কোন প্রকার অনিয়ম মেনে নেওয়া হবে না। হেড অফিসের সঙ্গে সমন্বয় করে সকল কাজ দ্রুত সমাধান করা হবে।

বিডি২৪লাইভ: এনআইডির সেবা কিভাবে আধুনিক করলেন?
মোহাম্মদ সাইদুল ইসলাম: আগে এনআইডির সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীরা কেমন ছিল। এখন কেমন দেখছেন, নিজেরা বিষয়টি একটু খেয়াল করে দেখলেই বুঝতে পারবেন। ইসির হেড অফিসে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে দ্রুত সেবা দেওয়া হচ্ছে। এখন আর এনআইডি সেবা নিতে এসে কোন নাগরিককে লাইনে দাঁড়াতে হয় না। প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট থাকলে বসে থেকে দ্রুত সেবা নিতে পারে। 

তিনি বলেন, আমরা দ্রুত সেবা দেওয়ার বিষয়টিকে গুরুত্ব দিচ্ছি। মানুষ দ্রুত সেবা পেলে দালালের কথা শুনবে না। একটু সময় বেশি লাগলেও নিজের কাজ নিজে করবে। এ কারণে আমরা দ্রুত সেবা দিতে চাই। তিনি উধারণ হিসেবে বলেন, মানুষ ১০ মিনিটে সেবা পেলে কি দালালের কাছে যাবে। প্রযোজনে ২০ মিনিট হলেও নিজে করবে।

বিডি২৪লাইভ: বর্তমানে স্মার্ট কার্ডের কি অবস্থা। সবাই স্মার্ট কার্ড কবে পাবে?
মোহাম্মদ সাইদুল ইসলাম: দেশের জনবল দিয়ে স্মার্ট কার্ড উৎপাদন করা হচ্ছে। আশা করি ২০২০ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে সবার হাতে স্মাট কার্ড পৌঁছানো যাবে। আর এনআইডি সেবা ও স্মার্ট কার্ডের জন্য নতুন একটি প্রকল্প নেওয়া হতে পারে। সে প্রকল্পে ইসির দক্ষ জনবল প্রথমে অগ্রধিকার পাবেন।

বিডি২৪লাইভ: মূল্যবান সময় দেয়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ। 
মোহাম্মদ সাইদুল ইসলাম: আপনাদেরকেও ধন্যবাদ। শুভ কামনা।

বিডি২৪লাইভ/আরএইচ/এমআর

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য: