গবাদিপশু ও টার্কি মুরগীর খামার করে স্বাবলম্বী যুবক

১০ মে ২০১৯ , ১১:৪০:০৭

ছবি: প্রতিনিধির পাঠানো।

ইমাম হোসেন, মীরসরাই, (চট্টগ্রাম) থেকে: নিজের উদ্যেম, অধ্যাবসায়, শ্রমের ও কর্মনিষ্ঠার বিনিময়ে স্বাবলম্বী হওয়ার প্রকৃষ্ট উদাহরণ মীরসরাইয়ের জোরারগঞ্জের যুবক আবু ইউছুপ প্রকাশ খানসাব (৩৪)। গরু, ছাগল, টার্কি মুরগী পালন করে স্বাবলম্বী হয়েছেন বেকার যুবক খানসাব। 

বর্তমানে খানসাব এলাকায় একজন পরিশ্রমী, কর্মঠ ও লাখপতি যুবক নামে পরিচিত। কর্মের মাধ্যমে তিনি নিজেকে পরিবর্তন করেছেন। গরু, ছাগল, হাঁস, টার্কি মুরগী, মংস্য খামার এবং ফলের বাগান করে ভাগ্যের চাকা ঘুরিয়েছেন তিনি। খানসাবের বাড়ি মীরসরাই উপজেলার জোরারগঞ্জ ইউনিয়নের দক্ষিণ সোনাপাহাড় গ্রামে। তার পিতার নাম ফজলুল করিম চৌধুরী সেলিম।

স্থানীয় সুত্রে জানা যায়, বেকার যুবক খানসাব প্রথমে বাড়িতে কবুতর পালনের মাধ্যমে কিছু পুঁজি সঞ্চয় করেন। এরপর ৬ বছর পূর্বে গ্রামের পাশে পাহাড়ের পাদদেশে এ খন্ড জমির উপর মাত্র ৬ টি গরু নিয়ে গড়ে তোলেন গরুর খামার। পরিকল্পনা করেন পরিশ্রম করে সংসারের অভাব দূর করবেন। শুরু করেন গরু পালন প্রক্রিয়া। আর দেখাও পান সফলতার। পরিকল্পনা অনুযায়ী ৬ বছর পূর্বে ৬টি উন্নত জাতের গরু ক্রয় করেন তিনি। তার পরিশ্রম পরিবারের সহযোগিতার সঙ্গে সঙ্গে উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিসের পরামর্শে গড়ে তোলেন খামার। ধীরে ধীরে তার সফলতার চাকা ঘুরতে শুরু করে আর হয়ে উঠেন স্বাবলম্বী দেখা পান সুখের ঠিকানা। সেই থেকে শুরু।

ধীরে ধীরে শ্রম, মেধা ও কর্মনিষ্ঠার মাধ্যমে গড়ে তোলেন গরু, ছাগল, টার্কি মুরগী, মৎস্য খামার। কোরবানের ৩-৪ মাস পূর্বে ৭০-৮০ টি গরু নিয়ে প্রাকৃতিক উপায়ে মোটাতাজাকরণ করে বিক্রি করে লভ্যাংশ আয় করেন।এভাবে পুঁজি বাড়িয়ে বর্তমানে ১০ একর (৩ একর নিজের, ৭ একর লিস্ট ) জমির মধ্যে তিনি একে একে গড়ে তুলেছেন গরু, ছাগল, হাঁস, টার্কি মুরগী, মৎস্য খামার। পাশাপাশি পাহাড়ে লাগিয়েছেন আম্রপালি জাতের আমগাছ। এছাড়া আছে লেবু, লিচু, পেঁপেসহ বিভিন্ন ফলজ গাছ। বর্তমানে তার খামারে ১৫০ টার্কি মুরগী, ৩০টি গরু, ২০টি ছাগল, ৩০টি আম্রপালি জাতের আমগাছসহ নানা জাতের ফলজ গাছ।

এ ব্যাপারে আবু ইউছুপ প্রকাশ খানসাব বলেন, ৬টি গরু দিয়ে শুরু করে আজ আমি স্বাবলম্ভী। এখন আমি গরুর খামারের পাশাপাশি ছাগল, হাঁস, টার্কি মুরগী, মাছের খামার, ফলজ গাছের বাগান করেছি। জোরারগঞ্জ বাজারে একটি কাপড়ের দোকান দিয়েছি। প্রায় ৫ একর জমি কিনেছি। আমার এখানে ৮জন শ্রমিক কাজ করে। আমি চাই আমার প্রকল্পগুলোতে আরো মানুষের কর্মসংস্থান দিতে যাতে করে তারাও স্বাবলম্বী হতে পারে।

এ ব্যাপারে প্রতিবেশী ব্যবসায়ী মেজবা উল আলম বাবুল বলেন, ছোট থেকে খানসাবের পরিবার খুব কষ্টে দিনাতিপাত করেছে। নিজের উদ্যেম, কর্মনিষ্ঠার গুণে এখন সে (খানসাব) লাখপতি। বাড়ি করেছে, কয়েক একর জমি ক্রয় করেছে খানসাব এছাড়া এলাকার বেশ কিছু বেকার যুবককে তার ফার্মে চাকুরীও দিয়েছে। তাকে দেখে এলাকার অনেক যুবক অনুপ্রাণিত হয়ে গরু, টার্কি মুরগী পালন করছে। কর্মগুণে যে কেউ স্বাবলম্বী হতে পারে তাঁর প্রকৃষ্ট উদাহরণ তো আবু ইউছুপ খান সাব।

বিডি২৪লাইভ/এএস

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য: