শিমুল বারী

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট

লন্ডন, নয়াপল্টন ও নাজিমউদ্দিন রোড

বিএনপির রাজনৈতিক তিন ‘কেন্দ্রস্থল’

১১ মে, ২০১৯ ১৪:৪৭:২৮

ছবি: ইন্টারনেট

বিএনপি দেশের অন্যতম বড় দল হওয়ার পরও, তাদের সেন্টার (কেন্দ্রস্থল) এখন তিন জায়গায় অবস্থিত বলে দাবি করেছেন বিশিষ্ট সাংবাদিক আবু সাঈদ। রাজনীততে ক্ষমতার ভারসম্য যদি না থাকে তবে দলের ক্ষতির সঙ্গে সঙ্গে গণতন্ত্রের জন্যও ক্ষতিকর।

সম্প্রতি দেশের একটি বেসরকারি টেলিভিশনের টকশো অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করে তিনি এ দাবি করেন।

আবু সাঈদ বলেন, বিএনপির ক্ষমতার সেন্টার কোন জায়গায় তা দেশবাসী জানে না। তবে আমার মনে হয়, তিন জায়গায় অবস্থান করছে বিএনপির সেন্টার। এক নম্বর খালেদা জিয়ার কারাবাস নাজিমউদ্দিন রোডে, দ্বিতীয় তারেক রহমানের আবাসস্থল লন্ডন এবং তৃতীয়ত বিএনপি অফিস নয়াপল্টন। একটি দলের মাঝে যদি ক্ষমতার ভারসম্য না থাকে, তবে সেই দলটি রাজনৈতিক ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে বাধ্য। এ জন্যই বর্তমানে বিএনপির হ–য–ব–র–ল অবস্থা বিরাজ করছে।

তিনি আরও বলেন, রাজনীতির মাঠে যদি বিএনপিকে সক্রিয় ভাবে অংশ গ্রহণ করতে দেয়া হয় তবে রাজনীতি ও গণতন্ত্রের জন্য মঙ্গল কিন্তু ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ বিএনপিকে রাজনীতিতে কোনঠাসা করতে গিয়ে রাজনীতিরই শুধু ক্ষতি করছে না, একই সঙ্গে গণতন্ত্রকেও হুমকির মুখে ফেলে দিচ্ছেন। রাজনীতিতে বিএনপিকে স্পেস দিতে হবে কিন্তু সরকার বিএনপিকে কোন স্পেসই দিচ্ছে না। কোন শূন্য স্থানই শূন্য থাকে না, তা পূরণ হয়ে যায়। বিএনপির শূন্যতায় যদি কোন অপশক্তি সেই জায়গা দখল করে তবে গণতন্ত্রের জন্যই কাল হয়ে দাঁড়াবে। গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থার জন্যই বিএনপিকে সভা-সমাবেশ রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড করতে দিতে হবে। নয়তো গণতন্ত্র কার্যত মুখ থুবড়ে পড়বে বলে সরকারকে সতর্ক করে দেন বর্ষীয়ান এই সাংবাদিক। রাজনীতিতে সকল দলের মত প্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করাও সরকারের দায়িত্ব বলেও জানান তিনি।

বিএনপিকে এরশাদের সাথে তুলনা করতে গিয়ে আবু সাঈদ বলেন, বিএনপি এখন জাতীয় পার্টির মত আনপ্রেডিক্টবল দলে পরিণত হয়েছে। কখন কি করে, তা এই মুহূর্তে বলা মুশকিল। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর থেকেই নির্বাচন বর্জনের হুমকি দিয়ে আন্দোলনের কথা বলছিল দলটি কিন্তু কি দেখতে পেলাম, তাদের (বিএনপি) সংসদ সদস্যদের শেষ মুহূর্তে শপথ নেওয়া, এবং দলের তিন রকম বক্তব্য। তাদেরকে (বিএনপি) এরশাদের দলের মত অবস্থাকেই মনে করিয়ে দিচ্ছে। একবার বলছে দলীয় সিদ্ধান্তে শপথ নিয়েছেন, আবার বলছে চাপ ছিল সরকারের পক্ষ থেকে এবং সর্বশেষ ফখরুল সাহেব শপথ নিলেন না, এটাও দলীয় সিদ্ধান্ত। আদৌ বিএনপির মাঝে কি হচ্ছে? এই মুহূর্তে বলা মুশকিল। তাদের দলের মহাসচিবকে পদ দেওয়া হলেও তাকে ক্ষমতা দেওয়া হয়নি বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তিনরকম বক্তব্যই প্রমাণ করে দলটির বর্তমান অবস্থা। এখন সত্যিই দলটি আনপ্রেডিক্টবল এরশাদের দলের ন্যায়। বিএনপি একের পর এক সিদ্ধান্ত হীনতার জন্য দলটি দিনকে দিন জনবিচ্ছিন্ন হয়ে যাচ্ছে বলেও জানান এই সাংবাদিক।

তিনি আরও বলেন, যুদ্ধাপরাধ ইস্যু নিয়েই দলটি সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগেছিল। এমন কিছু বিষয় আছে যা নিয়ে সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগলে তার মাশুল দিতে হয় যা বর্তমানে বিএনপি দিচ্ছে। দলটির গুছিয়ে উঠার সমর্থ আছে, তবে সাংগঠনিক ভাবে অনেক দুর্বল হয়ে গেছে। তাও কাটিয়ে আসা সম্ভব, যদি দলের মাঝে অভ্যন্তরীণ কোন্দল নিরসন করা সম্ভব হয়।

বিডি২৪লাইভ/এসবি/এমআর

বিডি টুয়েন্টিফোর লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মতামত: