চট্টগ্রামে ভাইকে বাঁচাতে গুলিতে নিহত বোন

১৩ মে, ২০১৯ ০৪:০৪:৩৯

ছবি: সংগৃহীত

বাকলিয়ার চিহ্নিত সন্ত্রাসী ছিলেন শাহ আলম (৩৮)। দুই হাতে দুটি পিস্তল নিয়ে ফিল্মি কায়দায় প্রতিপক্ষ রুবেলকে হত্যার জন্য তাদের ঘরে ঢুকে পড়েন। ভয়ংকর এই খুনির হাত থেকে রুবেলকে বাঁচাতে তার সামনে গিয়ে দাঁড়ান বোন বুবলি আক্তার।

একাধিক হত্যা মামলার আসামি শাহ আলম দেরি না করে বুবলি আক্তারকে টার্গেট করেই গুলি করে বসেন। সঙ্গে সঙ্গে মেঝে লুটিয়ে পড়েন বুবলি। শনিবার রাত ১০টায় বাকলিয়া থানার বজ ঘোনা মদিনা মসজিদ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। তবে শেষ রক্ষা হয়নি ঘাতক শাহ আলমেরও।

খুনের ৪ ঘণ্টা পর পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হন শাহ আলম। তবে বুবলি খুনের ঘটনায় তার বাবার হত্যা মামলায় পুলিশ শাহ আলমের ভাই নূরুল আলম ও তার সহযোগী মো. নবীকে গ্রেফতার করেছে।

বুবলির বাবা নোয়া মিয়া বাদী হয়ে বাকলিয়া থানায় মামলা করেন। এতে ৬ জনকে আসামি করা হয়েছে। আসামিরা হল- ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত শাহ আলম, তার ভাই নূরুল আলম (২৫), নবী হোসেন (৬০), মো. জাবেদ (২৪), মো. মুছা (৪০) ও আহমদ কবির (৪২)। অজ্ঞাত আরও চার-পাঁচজনকে আসামি করা হয়েছে। আসামিরা সবাই বজ ঘোনা মদিনা মসজিদ এলাকার বাসিন্দা।

দেড় বছর আগে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দা হাসানের সঙ্গে শাহ আলমের বিরোধ শুরু হয়। এরই জেরে ৬ মাস আগে শাহ আলম ছুরিকাঘাত করেন হাসানকে। ওই মামলায় গ্রেফতার হয়ে দীর্ঘদিন জেলে ছিলেন শাহ আলম। সম্প্রতি শাহ আলম জামিনে বেরিয়ে আসেন।

শনিবার সন্ধ্যায় শাহ আলম প্রতিশোধ নিতে তার সহযোগীদের নিয়ে হাসানকে মারতে যান। এ সময় হাসানের বন্ধু রুবেল শাহ আলমের হাত থেকে হাসানকে রক্ষা করেন। এতে শাহ আলম রুবেলের ওপরও ক্ষুব্ধ হন। রাত ১০টার দিকে রুবেলকে মারার জন্য খুঁজতে তাদের বাসায় যান শাহ আলম। প্রকাশ্যে অস্ত্র নিয়ে বাসায় ঢুকে রুবেলকে খুঁজতে থাকেন। একপর্যায়ে রুবেলকে টেনে-হিঁচড়ে বের করতে চাইলে সামনে এসে দাঁড়ান রুবেলের বোন বুবলি।

এ সময় বাধা হয়ে দাঁড়ানো বুবলির বুকে অস্ত্র ঠেকিয়ে গুলি করেন। শাহ আলম ঘরের বাইরে অস্ত্র নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকায় বুবলিকে হাসপাতালেও নিতে বিলম্ব হয়। শেষ পর্যন্ত অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে বুবলির মৃত্যু হয়।

বাকলিয়া থানার ওসি নেজাম উদ্দিন জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে হাজির হয় তাদের টিম। এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলা ছাড়াও পুলিশ সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করেছে। সেখানে শাহ আলমকে অস্ত্র নিয়ে মহড়া দিতে দেখা যায়।

তিনি বলেন, তারা খবর পান যে সন্ত্রাসী শাহ আলম কল্পলোক আবাসিক এলাকায় অবস্থান করছে। তখন তাদের টিম সেখানে অভিযানে যায়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে শাহ আলম ও তার সহযোগীরা গুলি ছুড়তে শুরু করে। আত্মরক্ষার্থে পুলিশও পাল্টা গুলি চালায়। পরে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় শাহ আলমকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠালে তাকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসকরা। বন্দুকযুদ্ধে ওসি নেজাম উদ্দিনসহ চার পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন বলে জানায় বাকলিয়া থানা পুলিশ।

আহত অন্য তিনজন হলেন- বাকলিয়া থানার এসআই জামাল চৌধুরী, এএসআই বিলাল ও এএসআই মোর্শেদ। তারা চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন। ঘটনাস্থল থেকে একটি পিস্তল ও দুই রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানান ওসি নেজাম উদ্দিন। উদ্ধার করা পিস্তলটি বুবলিকে হত্যায় ব্যবহার করা হয় বলে পুলিশের দাবি।

প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ জানতে পেরেছে, বজ ঘোনা এলাকার সন্ত্রাসী শাহ আলমের সঙ্গে স্থানীয় হাসান নামের এক যুবকের বিরোধ আছে। এই হাসান বুবলিদের আত্মীয় ও তার ভাই রুবেলের বন্ধু। সূত্র: যুগান্তর।

বিডি২৪লাইভ/এমআর

বিডি টুয়েন্টিফোর লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মতামত: