প্রচ্ছদ / বিনোদন / বিস্তারিত

ইমরুল নুর

বিনোদন প্রতিবেদক

ভালোবেসে গান করলে ফিডব্যাক আসবেই : অংকন

১৩ মে, ২০১৯ ১৫:০৪:০০

‘ইন্ডাস্ট্রিতে নতুনরা প্রতিনয়তই নানান সমস্যার মুখোমুখি হন। একজন শিল্পীকে অনেক স্ট্রাগল করে সামনে এগিয়ে যেতে হয়। স্ট্রাগল করার পরও কেউ হয়তো এগোতে পারে আবার অনেকেই পারে না। কারণ এখানে একটা প্লাটফর্ম থেকে বের হওয়ার পর নিজের একটা মৌলিক গান পেতে অনেক বেগ পোহাতে হয় নতুন শিল্পীকে। অনেক জায়গায় ঘুরতে হয়, তারপর যদি কাজের সুযোগ মেলে। তবে বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই ফল হয় নেগেটিভ। নিজের মৌলিক গান ছাড়া একজন শিল্পীর পরিচয় দেওয়ার মত কিছুই থাকেনা।’ কথাগুলো বলছিলেন আড়ং ডেইরি- ‘বাংলার গান’ রিয়্যালিটি শো’র মাধ্যমে পরিচিতি পাওয়া তরুণ প্রজন্মের কণ্ঠশিল্পী অংকন ইয়াসমিন। সঙ্গীত বিষয়ক এই প্রতিযোগিতায় দ্বিতীয় রানার আপ হওয়ার পর থেকে নিজেকে ব্যস্ত রেখেছেন বিভিন্ন টিভি ও স্টেজ শোয়ের মাধ্যমে। সেইসাথে গানের চর্চাটা চালিয়ে যাচ্ছেন নিয়মিতই।

গেল বছরের শেষের দিকে নিজের প্রথম মৌলিক গান নিয়ে হাজির হয়েছিলেন প্রতিভাবান এই শিল্পী। ‘ভালো থাকতে দিলি না’ শিরোনামের এই গানটি থেকে ভালো সাড়াও পেয়েছেন। রিয়্যালিটি শো থেকে বের হওয়ার দুই বছর পর প্রকাশ করতে পেরেছেন নিজের মৌলিক গান।

এ প্রসঙ্গে অংকন বলেন, নতুনরাই একদিন পুরনো হয়। পুরনোরাও এক সময় নতুন ছিল। কিন্তু একজন নতুন শিল্পীকে নিজের পরিচয় তৈরি করে নিতে জীবনের অর্ধেকটা সময়ই চলে যায়। নতুনদেরকে কেউই সুযোগ দিতে চায় না। ভরসা করতে পারে না। কিন্তু নতুনরা যদি ভালো সুযোগ পায় তাহলে যে তারাও জ্বলে উঠতে পারে এদেশে তার উদাহরণ অনেক রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, অডিও কোম্পানি বা প্রযোজক যারা রয়েছেন তারা নতুনদের পেছনে কম বিনিয়োগ করেন আর যারা পুরনো তাদের পেছনে বেশি বিনিয়োগ করেন। কিন্তু আমি বলতে চাই আমাদের দেশে নতুন অনেকেই আছেন যারা অনেক ভালো কাজ করছেন। তাদেরকে যদি ঠিকমত ব্যবহার ও প্রমোশন করা যায় তাহলে তারাও অনেকদূর যাবে, অনেক ভালো কাজ করবে বলে আমি মনে করি। সবাইকেই অনেক বেশি স্ট্রাগল করতে হয় আর নতুনদের তো সেটা অনেক বেশি করতে হয়। তাদেরকে যখন কেউ সাপোর্ট দিবে, উৎসাহ দিবে তখন তাদের মধ্যে ভালো কিছু করার উদ্দীপনা তৈরি হবে। তাই সবাই যদি সাপোর্ট করে বা তাদের পাশে দাঁড়ায় তাহলে তারা শ্রোতাদর্শকদের অনেক ভালো কাজ উপহার দিতে পারবে আর একজন শিল্পী তার প্রাপ্যটা পাবে।

সাম্প্রতিক সময়ে সংগীতাঙ্গনে যেমন এসেছে বিরাট পরিবর্তন তেমনি গান শোনার মাধ্যমেও এসেছে আমুল পরিবর্তন। অনেকেই যেটাকে বলছেন ‘ডিজিটাল গানের যুগ’। কিন্তু একটা সময় ক্যাসেট প্লেয়ারে করে গান শোনার বিষয়টি ব্যাপকভাবে প্রচলিত ছিল। নব্বই দশকের দিকে ফিতার ক্যাসেটে গানের অ্যালবাম প্রকাশের যুগটা শ্রোতাদের মনে এক অন্যরকম দাগ কেটে ছিল। দেশীয় সংগীত ইতিহাসে সবচেয়ে জনপ্রিয়তাও পেয়েছিল এই মাধ্যমটি। বিভিন্ন রঙ বেরঙের মোড়কে কাভার ক্যাসেটে গান শোনার মাধ্যমে ব্যবসা সফলের দিকে সর্বোচ্চ অবস্থানে দাঁড়িয়েছিল সংগীত জগত। যুগের পরিবর্তনে ক্যাসেট প্লেয়ারের পরে এলো সিডি প্লেয়ারের যুগ। কালের গর্ভে হারিয়ে যায় ক্যাসেটের যুগ। বছর কয়েক চলার পর সেই সিডি প্লেয়ারের যুগটাও জায়গা করে নিল ইতিহাসের পাতায়। যুগের সাথে তাল মিলিয়ে শুরু হলো অনলাইনে গানের প্রকাশনা।

বর্তমানে ক্যাসেট বা সিডিকে ছাড়িয়ে এক বিশাল জায়গা করে নিয়েছে অনলাইনের যুগ। এই যুগে আর ফিতা কিংবা সিডিতে গান প্রকাশ হয় না, হয় অনলাইনে। ইউটিউব, ওয়েবসাইট কিংবা ফেসবুকের মাধ্যমে শ্রোতারা যেকোনো সময় যেকোনো স্থান থেকে খুব সহজেই উপভোগ করতে পারছেন সেইসব গান। সেইসাথে মুঠোফোনের অ্যাপ্লিকেশন এর কারণে আরও বদলে যাচ্ছে শ্রোতাদের গান শোনার অভ্যাস।

একজন শিল্পীর পরিচয় তার অ্যালবামে। কিন্তু এখন আর সেই যুগ নেই। যুগের সাথে তাল মিলিয়ে অনেক কিছুই আজ হারিয়ে গিয়েছে। এখন অনলাইনে যার যত ভিউজ সেই হিট। কিন্তু অনেকেই আবার সেটা মানতে নারাজ। অনেকেই আবার সেই ফিতা বা সিডির যুগে জন্মাতে না পেরে আফসোসও করেন। সেই সময়টাকে নিজের করে নিতে পারেন নি বলে নিজের ভিতরেই কষ্ট চাপা রাখেন।

ক্যাসেট, ফিতা ও সিডির যুগের সময় প্রসঙ্গে এই শিল্পী বলেন, আমরা ক্যাসেট বা সিডির যুগ পাইনি। এটা নিয়ে অনেকের আফসোস না হলেও আমার অনেক আফসোস লাগে। আমি সে সময়টা পাই নি। আগে শিল্পীরা বলতেন এটা আমার অ্যালবাম, নিজের অ্যালবাম। একজন শিল্পীর পরিচয় মুলত অ্যালবামেই। কিন্তু এখন তো আর সে সুযোগ নেই। এখন গান অডিও, ভিডিওসহ অনেক দিক মাথায় রেখে কাজ করতে হয়। বিষয়টা এখন অনেক কঠিন হয়ে গিয়েছে। আবার যদি সেই সময়টা ফিরে আসতো! যেহেতু সেটা আর সম্ভব নয় তাই যুগের সাথে তাল মিলিয়েই আমাদের চলতে হবে। সবার দোয়া ও ভালোবাসা নিয়ে সামনে এগিয়ে যেতে চাই। সুস্থ ও সুন্দর থেকে যেন ভালো গান করে যেতে পারি সেই কামনাই করি। যেহেতু আমরা শিল্পী তাই গানের মাধ্যমে যেন দেশের জন্য হলেও কিছু করতে পারি এটাই চাওয়া।

গেল কিছুদিন আগে সর্বশেষ একটি কাভার গান প্রকাশ করেছেন অংকন। এছাড়াও গতকাল নতুন একটি মৌলিক গান কন্ঠ দিয়েছেন প্রতিভাবান এই কন্ঠশিল্পী। ‘আমারে ছাড়িয়া বন্ধুরে কোন আকাশে চন্দ্র হইয়া জ্বলো’ এমন কথার গানটি লিখেছেন লালন লোহানি এবং সুর ও সঙ্গীতায়োজন করেছেন শান শেখ। খুব শিগগিরই গানটি প্রকাশ করা হবে। নতুন এই গানটি নিয়ে অংকন বলেন, খুব অসাধারণ একটি গান। আমি যেহেতু বিরহের গান গাইতে পছন্দ করি তাই সেই গানের কথাগুলোকে নিজের ভেতর ধারণ করে, সেই কষ্টটা অনুভব করে গানটা গাই। এই গানটিও ঠিক এভাবেই করেছি। বিচ্ছেদ গান আমার সাথে খুব ভালো যায় আর আমি ভালো পারিও।

তিনি আরও বলেন, রোমান্টিক গান আমার সাথে খুব একটা যায় না। বিচ্ছেদ গান নিজের মত করে সেরাটা দিয়ে গাইতে পারি। তাই এই ধরনের গান আমার খুব ভালো লাগে। প্রত্যেকটা শিল্পীর একটা পরিচিতি বা নিজস্বতা থাকে। ফোক গান আমার প্রাণ। যেখানে আমি আমাকে তুলে ধরতে পারি। আমার গলায় যে বিশেষত্ব আছে সেটা যে গানে ফুটে উঠে সে গানই গাইতে আমার ভালো লাগে। প্রত্যেকটা শিল্পীর কন্ঠের নিজস্বতা আছে এবং সেটা থাকা দরকার। যেটা একজন শিল্পীকে তার নিজের পরিচয়ে বড় করবে।

যোগ করে তিনি আরও বলেন, আমি গানের ক্ষেত্রে ভীষণ চুজি। গান কম হোক কিন্তু যেটা হবে সেটা যেন ভালো কিছু হয়। যেটা মানুষ গ্রহণ করবে, ভালোবাসবে এবং আমার গাইতেও ভালো লাগবে এমন গানই আমি করবো। আমি বিশ্বাস করি গানকে ভালোবেসে গান করলে গানও আপনাকে ফিডব্যাক দিবে।

খুব শিগগিরই অংকনের আরও নতুন কিছু মৌলিক গান ও কাভার গান প্রকাশ পাবে। সম্প্রতি ঈদ উপলক্ষে বাংলাদেশ টেলিভিশনের ফোক ফিউশন শো অনুষ্ঠানটি শেষ করেছেন তিনি। আসছে ঈদে অনুষ্ঠানটি প্রচার করা হবে।

বিডি২৪লাইভ/আইএন/আরআই

বিডি টুয়েন্টিফোর লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মতামত: