শিমুল বারী

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট

বিএনপির হাইকমান্ডকে জাফরুল্লাহ চৌধুরী

পদ ছাড়ুন, জামায়াতের সঙ্গ ত্যাগ করুন

১৪ মে, ২০১৯ ১৩:৫১:২৮

ফাইল ফটো

বিএনপির শীর্ষ পর্যয়ারে নেতারা এখনও ঘুমিয়ে আছেন। রাজনীতিতে ক্ষমতাসীন দলের কাছে বিএনপির নেতৃত্ব পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছে। এ বিষয়ে তাদের এখনও হুশ আসেনি বলে জানান গণস্বাস্থ্যের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী। তিনি বলেন, বিএনপির ব্যর্থ নেতৃত্ব দ্বারা আন্দোলন ও দলকে নতুন করে গুছানো সম্ভব নয়। তাই অতি শিগগিরই বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বের পদত্যাগ করে দলকে গুছিয়ে উঠতে সহযোগিতা করা প্রয়োজন বলে মনে করেন বরণ্যে এই রাজনৈতিক বিশ্লেষক।

সম্প্রতি দেশের একটি বেসরকারি টেলিভিশনের টকশো অনুষ্ঠানে এসে তিনি এসব কথা বলেন।

বিএনপি প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে তিনি বলেন, বিএনপির মাঝে চেতনার ঘাটতি রয়েছে। তারা এখনও রাজনীতিতে সাবালক হয়ে উঠতে পারেনি। তার প্রমান হচ্ছে জামায়াতের সঙ্গ ত্যাগ না করা। আমি বুঝে পাই না, কেন জামায়াতকে এখনও বিএনপি সঙ্গে রাখছে? রাজজনীতি থেকে জামায়াত ইতোমধ্যেই ফিনিশি হয়ে গেছে। জামায়াতের আর রাজনীতিতে দেয়ার কিছু নেই। এখনই বিএনপির বলা উচিত তোমরা (জামায়াত) সাফ হয়ে আস। মুক্তিযুদ্ধের সময় তোমাদের (জামায়াত) যেসব ভুল ত্রুটি রয়েছে, তার জন্য দেশবাসীর কাছে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে হবে। এছাড়া জামায়াতের পক্ষে এদেশে আর রাজনীতি করা সম্ভব নয় বলে আমি মনে করি। অবিলম্বে জামায়াতের বর্তমান নেতৃত্বকে বিএনপির এই বার্তা পৌছে দেয়া উচিত, তোমরা (জামায়াত) সাফ হয়ে আস তবেই তোমাদের সাথে রাজনীতি সম্ভব।

তিনি আরও বলেন, দেশে এক শ্রেণির লুটেরা গোষ্ঠীর আবিভার্ব ঘটেছে। তারা অর্থনীতিকে শুধু নিয়ন্ত্রণই করছে না, সরকারকে চাপেও ফালায় মাঝে মধ্যে। তাদের মধ্যে অন্যতম শিল্প গোষ্ঠী সামিট গ্রুপ। গত তিন মাসে এই প্রতিষ্ঠান ৫০০ কোটি টাকা লাভ করেছে। অথচ এরপরও সরকারের কাছে বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর দাবি তুলেছে। এটা কেমন ধরণের নৈতিকতা বলেন? এটাতো লুটেরা অর্থনীতির ছবি। জনগণের অধিকারের বিষয়ে সরকারকে আরও সচেতন হতে হবে। মন চাইলেই কি দাম বাড়িয়ে দিতে পারে শিল্প প্রতিষ্ঠান? এটার জন্য মুক্তবাজার অর্থনীতি দায়ী। দেশে এক সময় বড় ধরণের বিস্ফোরণ ঘটবে, তখন কিন্তু কেউ রক্ষা পাবো না বলে সরকারকে সতর্ক করে দেন বর্ষীয়ান এই রাজনৈতিক বিশ্লেষক।

জাফরউল্লাহ বলেন, সরকারের উচিত বিরোধী দলকে রাজনীতিতে স্পেস দেওয়া। গণতন্ত্রের স্বার্থে বিরোধীদল বিএনপিসহ অন্যান্যদের রাজনীতি করার সুযোগ করে দিন, নয়তো দেশের গণতন্ত্র বড় ধরণের ক্ষতির মুখে পরতে পারে। প্রধানমন্ত্রীকেই বুঝতে হবে, গণতন্ত্র এক দলের মর্জিতে চলতে পারে না। বহুদলের সমন্বয়েই গণতন্ত্রের সুবাতাস ছড়ায়। এই অনুধাবনটা সরকারের পক্ষে যত তাড়াতাড়ি বোঝা সম্ভব রাষ্ট্র ও দেশের মানুষের জন্য তত মঙ্গল।

বিডি২৪লাইভ/এমআর

বিডি টুয়েন্টিফোর লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মতামত: