প্রচ্ছদ / সারাবিশ্ব / বিস্তারিত

স্বপ্নযাত্রা হয়ে গেল মৃত্যুযাত্রা!

১৪ মে ২০১৯ , ০২:১১:৫১

ছবি: ইন্টারনেট

মনে প্রবল স্বপ্ন ছিলো লিবিয়া থেকে পাড়ি দিয়ে ইতালিতে যাবার। কিন্তু ভাগ্যের সেই নির্মম পরিহাস পরাজিত হলো ভূমধ্যসাগরে। এমনি এক স্বপ্ন নিয়ে শনিবার লিবিয়া থেকে ইতালি যাবার পথে ভূমধ্যসাগরে নৌকাডুবিতে নিহত হয়েছেন কমপক্ষে ৩৭ জন। আহত হয়ে ফিরেছেন মাত্র কয়েকজনের। ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইউরোপমুখী অভিবাসনপ্রত্যাশীদের মধ্যে, শীর্ষ দশেই বাংলাদেশিরা।

মৃত্যু নিশ্চিত জেনেও জীবনে স্বপ্নের হরিণ ধরতে মৃত্যুর ঝুঁকি নিয়ে লিবিয়া থেকে ইতালিতে প্রবেশ করতে মরিয়া হয়ে যায় বাংলাদেশিসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশের অভিবাসীরা। মৌখিক প্রচারনায় দেখা যায় শিপ দিয়ে তারা ইউরোপের মানবাধিকার দেশ ইতালিতে পাড়ি জমান।

বাস্তবতায় দেখা যায় সেগুলো শিপ নয় এ যেন মৃত্যুর এক ফন্দি নাম প্লাস্টিকের বোর্ড।প্রত্যক্ষদর্শী এমন অনেকেই আছেন ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে জীবন ঝুঁকি নিয়ে ইউরোপে প্রবেশ করেছেন। তাদের মতে সাগর পাড়ি দিয়ে ইউরোপে প্রবেশ করা মানে অনেকটা মহাকাশ জয় করার মত। কারন মহাকাশে থেকে যেমন ফিরে আসার নিশ্চয়তা কম তেমনি সাগর পথে গন্তব্যে পৌঁছাতে না পারলে নিশ্চিত মৃত্যু। তবু যেন মানুষ ভাগ্য পরিবর্তনের আশায় মৃত্যুর কাফন বুকে জড়িয়ে ভূমধ্যসাগর জয় করেন।

সেদিনও লিবিয়ার জোয়ারা উপকূল থেকে ইতালির উদ্দেশ্যে অন্তত ৭৫ জন, নৌকায় রওনা দিয়েছিলেন গত বৃহস্পতিবার। শুক্রবার ভূমধ্যসাগরে তিউনিসিয়ার কাছে নৌকাটি ডুবে যায়। উদ্ধার হওয়া যাত্রীরা জানিয়েছেন, অন্তত ৫১ জন বাংলাদেশি সেখানে ছিলেন যাদের মধ্যে ১৪ জন উদ্ধার হন, বাকিরা নিখোঁজ।

নজরদারী বাড়ানোয় বছর দুয়েক ধরে অভিবাসীদের ভূমধ্যসাগর হয়ে ইউরোপে পাড়ি দেওয়ার হার কিছুটা হলেও কমেছে। এর পরেও চলতি বছর প্রায় ১৬ হাজার জন উদ্বাস্তু ইউরোপে ঢুকেছেন বলে জানাচ্ছে জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক হাইকমিশন-ইউএনএইচসিআর, এরমধ্যে প্রথম ৪ মাসেই প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ১৬৪ জন। গত বছর ভূমধ্যসাগর পাড়ি দেওয়ার সময় প্রতিদিন গড়ে ৬ জন প্রাণ হারিয়েছেন।

গত এক দশকে অন্তত এক লাখ বাংলাদেশি ইউরোপে আশ্রয় চেয়েছেন৷ ভূমধ্যসাগর দিয়ে যতো মানুষ প্রবেশ করেছেন, সেই তালিকার শীর্ষ দশ দেশের নাগরিকদের মধ্যে প্রায়ই বাংলাদেশও থাকছে।

ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রাম প্রধান শরিফুল হাসান জানান, ‘এমনও অনেক লোককে পেয়েছি, যারা বার বার যাওয়ার চেষ্টা করছে। তাদের কাছ থেকে জানতে পেরেছি, ইউরোপে আছে তাদের এমন কোনও আত্মীয় বলছে, তুই কোনোরকমে ইউরোপে চলে আয়, এরপর সব দায় দায়িত্ব আমার। এই ইউরোপে যাওয়ার স্বপ্নটাই এদের এমন ভয়াবহ ঝুঁকিপূর্ণ যাত্রার দিকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। এছাড়া এক্ষেত্রে অনেক টাকাও লাগছে।’

বাংলাদেশিদের ইউরোপে যাবার রুট খুব সহজ তবে ভিষণ কষ্টসাধ্য। কোনরকমে তারা লিবিয়া কিংবা মরক্কো পৌঁছতে পারলেই হলো। এরপর ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইউরোপ। আবার যুদ্ধবিধ্বস্ত ইরাক, সিরিয়া, লিবিয়ায় আশ্রিত ও কর্মরত বাংলাদেশিরাও উন্নত জীবনের আশায় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সাগরপথে ইউরোপে পাড়ি জমাচ্ছেন।

বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্টারন্যাশনাল রিক্রুটিং এজেন্সি- বায়রা মহাসচিব শামীম চৌধুরী নোমান জানান, ‘যথেষ্ঠ মাত্রায় তদারকি বাড়াতে হবে এবং এটি শুধু আমাদের দেশেই নয়, এই পুরো চ্যানেলটিকেই বের করে আনতে হবে। এছাড়া যেই সব দেশে এগুলো হয় আমাদের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে বলে সেই সব দেশের কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে বিষয়টির প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।’

প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় বলছে, লিবিয়ায় বাংলাদেশ দূতাবাস আশ্রয়কেন্দ্র খুলেছে, যেখানে অভিবাসী ও আশ্রিতদের অবৈধ অভিবাসনে নিরুৎসাহিত করা হয় এবং দেশে ফিরে গিয়ে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে পুনরায় বিদেশে কর্মসংস্থানে যেতে উৎসাহিত করা হয়। অবৈধভাবে ইউরোপে পাড়ি দেওয়াদের সংখ্যা কম।

এদিকে অবস্থানরত প্রবাসী বাংলাদেশিরা বলেন, গাদ্দাফির আমলে লিবিয়ান নাগরিকরা বেশ সুন্দর জীবন যাপন করেছে। এমন কথাও জানা যায়,গাদ্দাফি ভর্তুকি দিয়ে রাষ্ট্রের নাগরিকদের খাদ্য উৎপাদন করে খাদ্য নিশ্চিত করেছেন। এমনকি আফ্রিকার গরীব দেশের নাগরিকরা লিবিয়ায় এসে জীবনযাত্রার মান পরিবর্তন করতে সক্ষম হয়েছেন। একাদিক প্রত্যক্ষদর্শী এমন তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

বিডি২৪লাইভ/এসএএস

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য: