প্রচ্ছদ / জেলার খবর / বিস্তারিত

চলন্ত বাসে গণধর্ষণ

হেলপারের মুখে নার্স তানিয়া হত্যার নৃশংস বর্ণনা

১৫ মে ২০১৯ , ০৯:১০:০০

ছবি: প্রতিনিধি

স্বর্ণলতা পরিবহনের চলন্ত বাসে গণধর্ষণের পর কটিয়াদীর মেয়ে ইবনে সিনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সিনিয়র স্টাফ নার্স শাহিনুর আক্তার তানিয়া হত্যার ঘটনায় বাসচালক নূরুজ্জামান নূরুর পর এবার আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে হেলপার লালন মিয়া (৩২)।

মঙ্গলবার (১৪ মে) বিকেলে কিশোরগঞ্জের অতিরিক্ত চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আল-মামুন বাসের হেলপার লালন মিয়ার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি রেকর্ড করেন।

জবানবন্দি রেকর্ড শেষে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় হেলপার লালন মিয়াকে কিশোরগঞ্জ জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বাজিতপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো: সারোয়ার জাহান ১৬৪ ধারায় হেলপার লালন মিয়ার স্বীকারোক্তি দেয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এর আগে গত ১১ই মে মামলার প্রধান আসামি স্বর্ণলতা পরিবহনের বাসের চালক নূরুজ্জামান নূরু আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়। বাসচালক নূরুজ্জামান নূরুর পর হেলপার লালন মিয়া ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়ায় চাঞ্চল্যকর এই মামলার তদন্তে আশাব্যঞ্জক ইতিবাচক অগ্রগতি হয়েছে বলেও তিনি জানান।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, বাসের হেলপার লালন মিয়া আদালতে দেয়া তার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে বাসচালক নূরুজ্জামান নূরুর মতো একই ধরনের তথ্য দিয়েছে। নূরুর মতোই হেলপার লালন মিয়া পাশবিক এই গণধর্ষণের লোমহর্ষক বর্ণনা দিয়েছে।

জবানবন্দিতে লালন জানিয়েছে, বাসচালক নূরুর খালাতো ভাই বোরহান স্বর্ণলতা পরিবহনেরই হেলপার। কিন্তু ঘটনার দিন ৬ই মে তার ডিউটি ছিল না। স্বর্ণলতা পরিবহনের বাসটি (ঢাকা মেট্রো ব-১৫-৪২৭৪) ঢাকা থেকে পিরিজপুরে আসার পথে বোরহান কাপাসিয়া উপজেলার বীর উজুলী থেকে বাসটিতে ওঠে।

বাসটি কটিয়াদী পার হওয়ার পর বাসে চালক নূরু, হেলপার লালন ও নূরুর খালাতো ভাই বোরহান এই তিনজন ছিল। কটিয়াদী থেকে পিরিজপুরের পথে একজন মধ্যবয়সী বাস থেকে নেমে পড়লে তানিয়া একা হয়ে পড়েন।

বাসের ভেতরে তানিয়াকে একা পেয়ে ধর্ষণ করার ফন্দি আঁটতে থাকে চালক নূরু, হেলপার লালন মিয়া ও তাদের সহযোগী বোরহান। বাসটি বাজিতপুর উপজেলার বিলপাড় জামতলী নির্জন স্থানে একটি কলাবাগানের কাছে এলে বাসের সব জানালা লাগিয়ে দেয় তারা। তখন পেছনের একটি আসনে বসা ছিলেন তানিয়া। এ সময় চালক নূরু তার আসন ছেড়ে হেলপার লালনকে বাস চালাতে দেয়। লালন বাস চালানোর সময় জোর করে বোরহান ও নূরু মেয়েটিকে পালাক্রমে ধর্ষণ করে। পরে নূরু ড্রাইভিং সিটে বসলে লালনও মেয়েটিকে ধর্ষণ করে।

বিডি২৪লাইভ/টিএএফ

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য: