প্রচ্ছদ / জেলার খবর / বিস্তারিত

পঞ্চগড়ে সড়ক নির্মাণ কাজের অনিয়মের অভিযোগ

১৫ মে ২০১৯ , ০৯:২৬:০০

ছবি: প্রতিনিধি

পঞ্চগড় সদর উপজেলায় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের তত্বাবধানে বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের অধীনে একটি পাকা সড়ক নির্মাণে ব্যাপক অনিয়ম চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

সড়কটির নির্মাণ কাজে নিম্নমানের ইট, বালির পরিবর্তে মাটির ব্যবহার এবং নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার সহু নানা অভিযোগ করেছে এলাকাবাসী।  স্থানীয় সরকার প্রৌকশল অধিদপ্তরের তত্বাবধানে বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের (নর্দান বাংলাদেশ ইন্টারফ্রাকচারাল ডেভলাপমেন্ট প্রজেক্ট) আওতায় চলছে এই সড়ক নির্মাণ কাজ।

এলজিইডি সূত্র জানায়, ২০১৮ সালের মার্চ মাসে পঞ্চগড় সদর উপজেলার গইছ পাড়া থেকে জগদল বাজার পর্যন্ত প্রায় ৬ কিলোমিটার রাস্তার পাকা করণের কার্যাদেশ দেয়া হয়। দরপত্রের মাধ্যমে পাকাকরনের কাজটি সম্পন্ন করার দায়িত্ব পান ঠাকুরগাঁও জেলার ঠিকাদার সাইফুল ইসলাম।

২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে কাজটি শেষ করার সময় বেঁধে দেয়া হলেও কতৃপক্ষের  কাছে সমাপ্তের জন্য প্রথম দফায় আরও সময় বাড়িয়ে নিয়েছেন ঠিকাদার। সড়কটির নির্মাণ ব্যায় ধরা হয়েছে ৬ কোটি ৫০ লাখ টাকা। সরেজমিন এবং স্থানীয়দের অভিযোগ থেকে জানা গেছে, সড়কটির পুরুত্ব ৮ ইঞ্চি দেয়ার কথা থাকলেও কোথাও কোথাও তা কম দেয়া হয়েছে। বালি এবং ভাঙ্গা ইটের সংমিশ্রন সমান সমান হওয়ার কথা থাকলেও বালিই মেশানো হচ্ছে বেশী। বালির নাম করে মাটিও মেশানো হচ্ছে। দরপত্রে খোয়ার সাইজ ৩৮ মিলিমিটার হওয়ার কথা থাকলেও সড়কে দেয়া হচ্ছে বিশাল সাইজের খোয়া। সর্ব নিম্নমানের ইট এবং সিমেন্ট ব্যবহার করা হচ্ছে। কম্প্রেসনও ভালোভাবে হচ্ছেনা।

স্থানীয়রা আরও জানান, অজ্ঞাত কারনে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের কেউই নির্মাণ কাজও পরিদর্শন করছেন না। ফলে কাজের মান যা ইচ্ছা তাই হচ্ছে। রাজমহল এলাকার অধিবাসী মফিজার রহমান জানান, কাজের মান অত্যন্ত নিম্ন মানের হচ্ছে। আমরা বেশ কয়েকবার ঠিকাদারের প্রতিনিধির সাথে দেখা করে বলেছি। ঠিকাদারের লোকজন মনে করেন আমরা চাঁদা চাইতে গেছি। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদেরকে জানিয়েছি। কিন্তু কোন কাজ হয়নি। দরপত্রর নিয়ম অনুযায়ী কোন কাজ হচ্ছেনা। ঠিকাদারের ইচ্ছামতো কাজ হচ্ছে। এই সড়ক খুব বেশিদিন স্থায়ী হবে না।

এ ব্যাপারে ঠিকাদার সাইফুল ইসলাম জানান, আমরা ঠিকমতোই কাজ করছি। কাজ বুঝে নেয়ার দায়িত্ব স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের। এ ব্যাপারে তারা ভাল জানেন। সদর উপজেলা প্রকৌশলী আতাউর রহমান জানান, আমাদের লোকজন কাজটি নিয়মিত তদারকি করছে। দরপত্র অনুযায়িই কাজ হচ্ছে।       

বিডি২৪লাইভ/এজে

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য: