প্রচ্ছদ / জেলার খবর / বিস্তারিত

বরগুনা

ভুল চিকিৎসায় প্রসূতির মৃত্যুর অভিযোগ, ক্লিনিকে ভাঙচুর

১৬ মে ২০১৯ , ১০:০৪:০০

ছবি: প্রতিনিধি

বরগুনায় ভুল চিকিৎসায় এক প্রসূতির মৃত্যুর অভিযোগ পাওয়া গেছে। বুধবার (১৫ মে) রাত ৮টার দিকে বরগুনা টাউন হল সংলগ্ন কুয়েত প্রবাসী হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে এ ঘটনা ঘটে।

রোগীর স্বজনদের অভিযোগ, অদক্ষ নার্স ও ডাক্তারের অপচিকিৎসার কারণেই প্রসূতির মৃত্যু হয়েছে।

জানা যায়, প্রসূতির নাম সুখি। সে বরগুনা সদর উপজেলার এম বালিয়াতলী ইউনিয়নের বড় বালিয়াতলী ইউনিয়নের শাহীন মিয়ার স্ত্রী।

নিহতের স্বামী শাহীন মিয়া জানান, প্রসব বেদনা শুরু হলে সকাল ১১টার দিকে দ্রুত সুখিকে বরগুনা কুয়েত প্রবাসী হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ দ্রুত সিজারিয়ান অপারেশন করতে হবে জানায়। দুপুর ১টার দিকে প্রসূতিতে অপারেশন থিয়েটারে নেয়া হয়। এরপর দুপুর ২টার দিকে ভূমিষ্ঠ হওয়া একটি ছেলে সন্তান স্বজনদের কাছে দেয়া হয় এবং মা সুস্থ আছেন জানানো হয়। 

কিন্তু সন্ধ্যার দিকে হঠাৎ জানানো হয় রোগীর উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে, তাকে বরিশাল সেবাচিমে উন্নত চিকিৎসার পরামর্শ দিয়ে দ্রুত অ্যাম্বুলেন্স ঠিক করে দেয় ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ। এ সময় রোগীর স্বজনদের সন্দেহ হলে তারা অ্যাম্বুলেন্স যোগে বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে আসলে কর্তব্যরত চিকিৎসক রোগীকে মৃত ঘোষণা করেন।

শাহীন মিয়ার অভিযোগ, তার স্ত্রীকে অস্ত্রোপচারের জন্য সুস্থ না করেই বিপজ্জনক অবস্থায় অস্ত্রোপচার করা হয়েছে এ কারণেই সুখির মৃত্যু হয়েছে। তিনি এ ঘটনায় ক্লিনিক কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে মামলা করবেন বলে জানান।

এদিকে এ ঘটনার পরপরই ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ ক্লিনিকে তালা দিয়ে গা ঢাকা দিয়েছে। রোগীর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে বিক্ষুব্ধ জনতা জড়ো হয়ে ক্লিনিকের ভাঙচুর চালায়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

এ ঘটনায় ক্লিনিক কর্তৃপক্ষের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায় নি। তবে রোগীর ফাইলে চিকিৎসক হিসেবে ডাক্তার সাফিয়া বেগমের নাম দেখানো হয়েছে। এ বিষয়ে জানতে ডা. সাফিয়া বেগম বা ক্লিনিকের ম্যানেজার অথবা পরিচালক কারো সাথেই কথা বলা সম্ভব হয়নি।

বরগুনার সিভিল সার্জন ডা. হুমায়ুন শাহীন খান বলেন, ওই ক্লিনিকের বিরুদ্ধে এর আগেও বেশ কয়েকটি অপচিকিৎসার অভিযোগ উঠেছিল। আমরা ক্লিনিকটির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করেছি। রোগীর স্বজনরা অভিযোগ করলে আমরা ব্যবস্থা গ্রহণ করব।

বরগুনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবির মোহাম্মদ হোসেন জানান, প্রসূতি মৃত্যুর ঘটনা শুনে সেখানে পুলিশ পাঠানো হয়েছে।

বিডি২৪লাইভ/টিএএফ

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য: