এ বছরেও কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের কমিটিতে বঞ্চিত জাবি ছাত্রলীগ

১৬ মে, ২০১৯ ১২:১৯:৪৫

ছবি: ইন্টারনেট

বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় নির্বাহী ছাত্রলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ গেল বারের মতো এ বছরেও বঞ্চিত হয়েছে বলে দাবি করেছেন বিশ্বদ্যিালয়টির ছাত্রলীগের একাধিক হেভিওয়েট নেতাকর্মী।

গত সোমবার ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদের এক স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে ৩০১ সদস্য বিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ কমিটির তালিকা প্রকাশিত হয়েছে। এ কমিটিতে জাবি শাখা ছাত্রলীগের মাত্র দুই জন নেতাকে স্থান দেওয়া হয়েছে। এরা হলেন- সহ-সভাপতি পদে আরিফুল ইসলাম আরিফ এবং উপ আন্তর্জাতিক সম্পাদক পদে মাহবুবুর রহমান সালেহী।

কমিটি ঘোষণার পরপরই ক্ষোভে ফেটে পড়েন ছাত্রলীগের পদপ্রত্যাশী একাধিক নেতাকর্মী। কমিটি ঘোষণার তিন দিন পার হলেও ক্যাম্পাসে এখনও চলছে আলোচনা সমালোচনা। নেতাকর্মীদের মাঝে বিরাজ করছে হতাশা। এর প্রভাব লক্ষ্য করা যাচ্ছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকেও। শাখা ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের অভিযোগ যোগ্য, নিষ্ঠাবান এবং পরিশ্রমীদের পদ না দিয়ে বৈষম্যমূলক আচরণ করেছে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ।

এদিকে সদ্য ঘোষিত কমিটিতে জাবি শাখা ছাত্রলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মো. মুরশিদুর রহমান আকন্দ, বর্তমান কমিটির সহ-সভাপতি হামজা রহমান অন্তর, নিশাত ইমতিয়াজ বিজয় প্রমুখের নাম আলোচনার কেন্দ্র বিন্দুতে ছিল। এর আগে বিগত কমিটিতেও প্রথম দিকে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাত্র দুইজন পদ পান। যদিও পরে আরও কয়েকজনকে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সদস্যপদ দেওয়া হয়।

এদিকে কমিটি ঘোষণার খবর পেয়ে ক্ষুদ্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করতে থাকেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের অনেক নেতাকর্মী। তারা বলছেন, বরাবরের মত এবারও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ উপেক্ষিত হয়েছে। এভাবে চলতে থাকলে ত্যাগী, পরিশ্রমী ও নিবেদিত প্রাণ ব্যক্তিরা রাজনীতিতে আগ্রহ হারাবেন বলে দাবি তাদের।

শাখা ছাত্রলীগকর্মী বদিউল হাসান রিফাত ফেসবুকে লিখেছেন, মনে হচ্ছে, কেন্দ্রীয় কমিটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের! আর বাংলাদেশ ছাত্রলীগ হচ্ছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ নিয়ন্ত্রিত একটি সংগঠন!

পদবঞ্চিত মো. মুরশিদুর রহমান আকন্দ হতাশা প্রকাশ করে ফেসবুকে লিখেছেন, ‘রাজনীতি করি দলের স্বার্থে, সংগঠনের স্বার্থে মিথ্যাকে নিশ্চুপ বরণ করে কারাবরণ করেছি। মমতাময়ী জননীর জন্য প্রাণটা দেওয়া বাদে সংগঠনের জন্য সব করেছি। চোখ দিয়ে অশ্রু গড়াচ্ছে। শেখ হাসিনা কমিটি করবার জন্য যেসব দিক মূল্যায়নের কথা বলেছেন তার কোন দিক বিবেচনায় আমি অযোগ্য হলে আজীবনের জন্য কারাবরণ করতে রাজি কিন্তু এ কেমন সাজ।’

শাখা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি ইমরান হোসেন বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরেই মেধাবীরা জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়। শিক্ষা-দীক্ষাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে ঢাবির পরে জাবির স্থান। অথচ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটি হলে তাতে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়কে মূল্যায়ন করা হয় না। ঢাকার বিভিন্ন কলেজও জাবির চেয়ে বেশি মূল্যায়ন পায়।

এ বিষয়ে শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি মো. জুয়েল রানা বলেন, যারা পদ পেয়েছেন, তাদেরকে শুভেচ্ছা। কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদ যাদেরকে যোগ্য মনে করেছে তাদেরকে পদ দিয়েছে। তবে আমি আশা করব, সামনে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আরও বেশি পদ পাবে।

বিডি২৪লাইভ/এমআর

বিডি টুয়েন্টিফোর লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মতামত: