আসছে নতুন নিয়ম

ঋণ খেলাপিদের জন্য বিশেষ সুযোগ

১৬ মে ২০১৯ , ০২:৫৬:১৬

ছবি: সংগৃহীত

দীর্ঘদিন অনাদায়ি হয়ে যাওয়া অর্থ ব্যাংকের কোষাগারে আনতেই ঋণ গ্রহীতাদের সুযোগ চূড়ান্ত করেছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা কেন্দ্রীয় ব্যাংক। ২ শতাংশ ডাউন্ট পেমেন্ট দিয়ে ৯ শতাংশ সুদে ১০ বছরে শোধ করা যাবে ঋণের অর্থ। কিন্তু ইচ্ছা কৃত খেলাপিদের জন্য এমন সুযোগ দেওয়া হবে না, এক্ষেত্রে আবেদন প্রাপ্তির পর হবে যাচাই-বাছাই।

দায়িত্ব নেওয়ার পরই ডুবতে বসা ব্যাংক খাত সংস্কারের নানামুখী পদক্ষেপ নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি ধারণা চালু, আইনগত নানান দিক সংস্কার ছাড়াও খেলাপি ঋণ উত্তোলনের বিষয়টির প্রতি বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়।

সূত্র জানায়, সব উদ্যোগের মূলে খেলাপি হয়ে যাওয়া প্রায় ১ লাখ কোটি টাকা ব্যাংকের কোষাগারে আনাকেই গুরুত্ব দিয়েছে সরকার। প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে সহজ শর্তে খেলাপি হয়ে যাওয়া অর্থ তুলতে সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। সরকার মনে করে, এমন সুযোগ পেলে খেলাপি গ্রহীতারা ‘খেলাপি’ বৃত্ত থেকে বের হতে পারবেন। ঋণ পুনঃতফসিলীকরণের মাধ্যমে পুনরায় ঋণ গ্রহণের সুযোগ পাবেন। এতে নতুন বিনিয়োগের সম্ভাবনা তৈরি হবে।

প্রথম পদক্ষেপ চূড়ান্ত: প্রথম পদক্ষেপ সংক্রান্ত বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রস্তাবনা চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে অর্থ বিভাগ। অনুমোদনের খুটিনাটি বিষয়াদি যাচাই-বাছাই করছে বাংলাদেশ ব্যাংক। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রস্তাবনায় ২ শতাংশ ডাউন্ট পেমেন্ট দিয়ে ৯ শতাংশ সুদে ১০ বছরে ঋণ পরিশোধের সুযোগ দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়। তবে অর্থ বিভাগ থেকে চূড়ান্ত করা গাইডলাইনে আরও সুযোগ সংযোজন করা হয়।

সূত্র জানায়, ঋণ পুনঃতফসিলের জন্য আবেদন করতে হলে দিতে হবে ২ শতাংশ ডাউন পেমেন্ট। ঋণ পরিশোধে ১ বছর গ্রস পিরিয়ডসহ মোট ১০ বছর সময় পাবে তারা। এ এক বছরে কোনো ঋণ পরিশোধ করতে হবে না। সব পর্যায়ের খেলাপিই এসব সুবিধা নিতে পারবে।

ঋণের হিসাব হবে ২০১৮ সালের ৩১ ডিসেম্বরের এককালীন হিসাবায়ন ভিত্তিতে। কোনো ঋণখেলাপি যদি মনে করেন, এককালীন ঋণ পরিশোধ করে খেলাপির তালিকা থেকে বেরিয়ে যাবেন, তাহলে সে ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, এক্ষেত্রে ঋণখেলাপিরা ঋণ পরিশোধের জন্য ১ বছর পর্যন্ত সময় পাবেন। এককালীন পরিশোধের জন্য ৯ শতাংশ হারে সুদ আরোপ করা হবে। সময় দেওয়া হবে ৬ মাস। এর মধ্যে পরিশোধ করতে না পারলে আরও ৬ মাস অতিরিক্ত সময় পাবেন। যদি কোনো ঋণখেলাপি অতিরিক্ত সময়ের মধ্যেও পরিশোধ করতে না পারে তাহলে ৯ শতাংশ সুদের সঙ্গে আরও ২ শতাংশ সুদ আরোপ করা হবে। অর্থাৎ তখন সুদের হার হবে ১১ শতাংশ।

বিডি২৪লাইভ/এএইচ/টিএএফ

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য: