এম. সুরুজ্জামান

শেরপুর প্রতিনিধি

বাম্পার ফলনেও কৃষকের মুখে হাসি নেই 

১৬ মে, ২০১৯ ২১:২০:০০

ছবি: প্রতিনিধি

শেরপুরের নালিতাবাড়ীর কৃষকরা এবারের বোরো ধান কাটতে শুরু করেছেন। ফলনও হয়েছে বাম্পার। কিন্তু তারা এখন মন খুলে হাসতে পারছেন না। তাদের মুখের হাসি দিন দিন ম্লান হয়ে আসছে। কারণ ধানের দাম কম, শ্রমিকের মজুরি বেশি। দুই মণ ধানের ধামেও একজন শ্রমিক পাওয়া যায় না।

সরকারি হিসেবে প্রতিমণ ধান ১ হাজার ৪০ টাকা হলেও কৃষকদের বিক্রি করতে হচ্ছে ৪৭০ টাকা থেকে ৫৭০ টাকায়। তাছাড়া ৪০ কেজিতে মণ হলেও বাজারে বিক্রি করতে হয় ৪২ কেজিতে মণ হিসেবে। এতে কৃষকদের ধান আবাদ করে ঋণের বোঝা বাড়ছে। কৃষক বোরো আবাদে নিরুৎসাহিত হয়ে পড়েছেন।

বর্তমানে প্রতি একর জমির ধান কাটতে চুক্তি করে ১০ থেকে ১২ হাজার টাকা লাগছে। ধান কাটার সঙ্গে সঙ্গে বাড়ছে ঋণের টাকার চাপ, শ্রমিকের মজুরি পরিশোধের চাপে মধ্যস্বত্বভোগীদের বেঁধে দেয়া বাজারেই পানির দামে ধান বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন কৃষকরা। উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, সোনালী ধানে ভরে গেছে ফসলের মাঠ। কাটাও শুরু হয়েছে। কিন্তু ধান আবাদে উৎপাদন খরচও না উঠায় চরম হতাশার মধ্যে রয়েছেন কৃষক।

উপজেলার বারমারী এলাকার কৃষক কিতাব আলী বলেন, ‘এক একর জমি ভাড়া নিয়ে বোরো আবাদ করছি। প্রতি মণ ধান উৎপাদন করতে আমার খরচ অইছে ৭০০ টাকা। বাজারে ধান বিক্রি করতে অইছে ৫০০ টাকায়। মণ প্রতি লোকসান ২০০ টাকা।

আন্ধারুপাড়া গ্রামের কৃষক হাবিল উদ্দিন বলেন, বোরো আবাদে কৃষকের কোন লাভ নাই। একমণ ধান বিক্রি করে এক কেজি গরুর গোশত কেনা যায় না।

কাপাশিয়া গ্রামের আবু সাঈদ বলেন, ‘ভাত, কাপড়, নতুন ঘর, পোলার লেখাপড়া, মাইয়ার বিয়ার খরচ সব ধান থেকেই জোগাড় করতে অয়। এইবার যে অবস্থা খরচের টাকাই উঠতাছে না। সামনে খালি অন্ধকার দেখতাছি।’

জারুয়াপাড় গ্রামের কৃষক আক্রাম হোসেন বলেন, ‘আগামীতে নিজের খাওয়ার প্রয়োজনে যেটুকু আবাদ করতে হয়, ওইটুকু ছাড়া এক ইঞ্চি জমিতেও ধান আবাদ করবো না।’

সরকার প্রতি কেজি চাল ৩৬ টাকা, গম ২৮ টাকা ও ধান ২৬ টাকা নির্ধারণ করেছেন। এ হিসেবে প্রতিমণ ধানের দাম পড়েছে ১ হাজার ৪০ টাকা। কিন্তু কৃষকরা কখনও সরকারি সুবিধায় ধান বিক্রি করতে পারে না। কৃষি বিভাগ জানায়, কয়েক বছরের তুলনায় এবার লক্ষ্য মাত্রার চেয়ে বেশি জমিতে বোরো ধান আবাদ হয়েছে। ফলনও হয়েছে আশাতীত। সব কিছু ঠিকঠাক থাকলে এবার এ উপজেলার ২১ হাজার ৮শ’ হেক্টর জমিতে প্রায় ৯৬ লাখ টন চাল উৎপাদন হবে।

এ ব্যাপারে নালিতাবাড়ী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. শরীফ ইকবাল বলেন, এ উপজেলায় এবার এক মণ ধান উৎপাদন করতে খরচ হয়েছে ৭শ’ টাকা। আর কৃষকদের বিক্রি করতে হচ্ছে ৪৭০ থেকে ৫৭০ টাকায়।

তিনি আরও বলেন, মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য কমিয়ে কৃষকদের হাতে সরকার নির্ধারিত দামটি তুলে দিতে পারলে, কৃষকরা ধান চাষে আরও উৎসাহিত হতো।

বিডি২৪লাইভ/এজে

বিডি টুয়েন্টিফোর লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মতামত: