প্রচ্ছদ / রাজনীতি / বিস্তারিত

গরু চুরির মামলায় সাবেক উপমন্ত্রী সালামের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন

১৬ মে, ২০১৯ ২৩:২৩:০০

বিএনপি নেতা সাবেক শিক্ষা উপমন্ত্রী অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম পিন্টুকে বৃহস্পতিবার টাঙ্গাইল আদালতে হাজির করা হয়। ছবি: সংগৃহীত

২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার অন্যতম আসামী বিএনপি নেতা সাবেক শিক্ষা উপমন্ত্রী অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম পিন্টুকে বৃহস্পতিবার (১৬ মে) টাঙ্গাইল আদালতে হাজির করা হয়।

ভূঞাপুর উপজেলার ভদ্রশিমুল গ্রামে ২০০১ সালের ১ অক্টোবর অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিন স্থানীয় এক আওয়ামী লীগ নেতার বাড়িতে প্রবেশ করে ভাংচুর, চুরি ও মারপিটের অভিযোগ আনা হয়েছে আবদুস সালাম পিন্টুসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে।

গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন টাঙ্গাইল আদালতের পরিদর্শক আনোয়ারুল ইসলাম।

মামলার অভিযোগ গঠনের নির্ধারিত দিন বৃহস্পতিবার টাঙ্গাইল বিচারিক হাকিম আদালতে হাজির করার জন্য আব্দুস সালাম পিন্টুকে কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে বুধবার টাঙ্গাইল জেলা কারাগারে আনা হয়।

দুপুর ১২টার দিকে করা নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্য দিয়ে সালাম পিন্টুকে জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম নওরিন মাহবুবের আদালতে হাজির করা হয়। বিচারক আব্দুস সালাম পিন্টুর বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ পাঠ করে শোনান।

এ সময় সালাম পিন্টুর পক্ষে তার আইনজীবী গোলাম মোস্তফা, ফরহাদ ইকবাল, মাঈদুল ইসলাম আদালতে বলেন, এটা সম্পূর্ণ রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রমূলক মামলা। ঘটনার যে সময় দেখানো হয়েছে তখন আবদুস সালাম পিন্টু জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফলের জন্য নির্বাচনী নিয়ন্ত্রণ কক্ষে অবস্থান করছিলেন।

পরে সালাম পিন্টুসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়। অভিযোগ গঠন শেষে তাকে পুনরায় টাঙ্গাইল জেলা কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়।

টাঙ্গাইলের জেল সুপার মঞ্জুর হোসেন জানান, বৃহস্পতিবার তাকে টাঙ্গাইল কারাগারেই রাখা হবে। পরে শুক্রবার ডিআইজি প্রিজনের নির্দেশনা অনুযায়ী অন্য কোনো কারাগারে পাঠানো হবে।

মামলার বাদী গাবসারা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহসভাপতি জাহিদুল ইসলাম ভূঁইয়া অভিযোগ করেন, ২০০১ সালের ১ অক্টোবর জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি ভদ্রশিমুল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে আওয়ামী লীগ প্রার্থী খন্দকার আসাদুজ্জামানের নৌকা প্রতীকের এজেন্ট ছিলেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে সালাম পিন্টুর নির্দেশে অন্যান্য আসামিরা (বাদীর) ভদ্রশিমুল গ্রামের বাড়িতে ঢুকে তার স্ত্রীসহ বাড়ির লোকজনদেরকে মারপিট করে। এসময় তারা নগদ টাকা, দুটি গাভি, বাড়ির মূল্যবান জিনিসপত্র চুরি করে নিয়ে যান।

তিনি মামলায় উল্লেখ করেন ঘটনার পর থানায় মামলা করতে গেলে সালাম পিন্টুর কারণে মামলা রেকর্ড করা হয়নি। পরে তিনি ঘটনার ১১ বছর পর মামলা দায়ের করেন।

প্রসঙ্গত, আবদুস সালাম পিন্টু ১৯৯১ ও ২০০১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে টাঙ্গাইল-২ (গোপালপুর-ভূঞাপুর) আসন থেকে এমপি নির্বাচিত হন। ২০০১ সালে তিনি উপমন্ত্রীর দায়িত্ব পান।

২০০৮ সালের জানুয়ারিতে তিনি ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় গ্রেফতার হন। তার পর থেকেই কারাগারে আছেন। গ্রেনেড হামলা মামলায় তার ফাঁসির দণ্ড দিয়েছেন আদালত।

বিডি২৪লাইভ/এআইআর

বিডি টুয়েন্টিফোর লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মতামত: