ছাত্রলীগের পদবঞ্চিতদের সংবাদ সম্মেলন

পূর্ণাঙ্গ কমিটির ‘বিতর্কিত’ ৯৯ জনের তালিকা প্রকাশ

প্রকাশিত: ০২:৫৪ পূর্বাহ্ণ, ১৭ মে ২০১৯

ছবি: ইন্টারনেট

ছাত্রলীগের সদ্য গঠিত পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে বিতর্কিত, বিভিন্ন অপরাধে অভিযুক্ত ও অযোগ্য ৯৯ জনের তালিকা প্রকাশ করেছেন পদবঞ্চিত নেতারা। যদিও ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক মাত্র ১৭ জন বিতর্কিত নেতার নাম প্রকাশ করেছেন। পদবঞ্চিতরা বলেছেন, তাঁরা পূর্ণাঙ্গ কমিটি থেকে বিতর্কিতদের বাদ দিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনার প্রতি আস্থা রাখছেন। এ ছাড়া নতুন করে কমিটি গঠনে তাঁরা তাঁর সরাসরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন। অন্যদিকে, পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে রাজশাহীর উল্লেখযোগ্য প্রতিনিধিত্ব না থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়েছে। কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ায় রাজাকারপুত্রকে কেন্দ্রীয় কমিটিতে স্থান দেওয়ায় বিক্ষোভ প্রদর্শন ও মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ৯৯ জন বিতর্কিত নেতার নাম প্রকাশ করেন পদবঞ্চিতরা। এতে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ছাত্রলীগের গত কমিটির সাবেক প্রচার সম্পাদক সাঈফ উদ্দিন বাবু।

সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন ছাত্রলীগের গত কমিটির কর্মসূচি ও পরিকল্পনা বিষয়ক সম্পাদক রাকিব হোসেন, উপ-সমাজসেবা সম্পাদক রানা হামিদ ও উপ-অর্থ বিষয়ক সম্পাদক ডাকসুর সদস্য তিলোত্তমা শিকদার, ডাকসুর তানভীর হাসান সৈকত, জসিমউদ্দীন হলের ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক শাহেদ খান, কুয়েত-মৈত্রী হল ছাত্রলীগের সভাপতি ফরিদা পারভীন, সুফিয়া কামাল হল শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি ইফফাত জাহান এশা প্রমুখ।

লিখিত বক্তব্যে সাঈফ বাবু বলেন, ‘৩০১ সদস্যের যে কমিটি করা হয়েছে সেখানে শতাধিক বিতর্কিত লোকের জায়গা হওয়া সত্ত্বেও ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক মাত্র ১৭ জনের নাম প্রকাশ করেছের। আমরা তাঁদের প্রতি আহ্বান রাখছি—প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ মতো বাকি সবাইকে খুঁজে বের করে সংগঠন থেকে বিতাড়ন করতে হবে। কোনো দাগি আসামি, মাদক ব্যবসায়ী, মাদকসেবী ও গঠনতন্ত্র বহির্ভূত ব্যক্তি বঙ্গবন্ধুর আদর্শের মানুষ হতে পারেন না। এসব লোক ছাত্রলীগের টিউমার, যা একসময় ক্যান্সারে পরিণত হবে। ছাত্রলীগ আদর্শের সংগঠন, অপকর্মকারীদের অভয়ারণ্য নয়।

সাঈফ বাবু বলেন, ‘যেহেতু প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনা নির্দেশনা দিয়েছেন এবং সে নির্দেশনার বাস্তবায়ন আমরা ইতিমধ্যে দেখতে পাচ্ছি। সেহেতু আমরা আর নতুন কোনো কর্মসূচিতে যাচ্ছি না। আর যদি এর ব্যত্যয় ঘটে তাহলে আমরা পরে আন্দোলনে যাব। এর জন্য আমরা কোনো সময় বেঁধে দিব না। কারণ আমরা আস্থা রাখছি।’

শাহেদ খান বলেন, ‘বর্তমান সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক দীর্ঘ এক বছর ধরে আমাদের একটি বিতর্কিত কমিটি উপহার দিয়েছেন। তাঁরা কিভাবে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বিতর্কমুক্ত কমিটি দিবেন সেটা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে।

বিতর্কিত ও অযোগ্য ৯৯ জনের তালিকা : সংবাদ সম্মেলনে পদবঞ্চিত নেতারা বিতর্কিত, অপরাধে অভিযুক্ত ও অযোগ্য ৯৯ জনের তালিকা প্রকাশ করেন। তালিকায় প্রত্যেকের নামের পাশে তাঁদের বিতর্কিত কর্মকাণ্ড, পারিবারিক আদর্শ, অযোগ্যতাও তুলে ধরা হয়। বিতর্কিত এই ৯৯ জন হলেন—সহসভাপতি তানজিল ভূইয়া তানভীর, রেজাউল করিম, আরেফিন সিদ্দিক, আতিকুর রহমান খান, বরকত হোসেন হাওলাদার, আবু সালমান প্রধান, শাহরিয়ার কবির, ফুয়াদ রহমান খান, সাদিক খান, তৌহিদুল ইসলাম চৌধুরী, এস এম তৌফিকুল হাসান, তৌহিদুর রহমান, মাহমুদুল হাসান, সৃজন ভূঁইয়া, তৌহিদুর রহমান, কামাল খান, আবু সাঈদ শাহজালাল, খালিদ হাসান, আমিনুল ইসলাম, রুহুল আমিন, সোহানী হাসান, মাহমুদুল হাসান, এস এম হাসান আতিক, সুরঞ্জন ঘোষ, জিয়ান আল রশিদ, সোহেল রানা, মুনমুন নাহার, তরিকুল ইসলাম ও রাকিব উদ্দীন।

যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক প্রদীপ চৌধুরী ও মো. শাকিল ভূইয়া, মোরশেদুল হাসান। সাংগঠনিক সম্পাদক ফেরদৌস আলম, উপপ্রচার সম্পাদক সিজাদ আরেফিন শাওন, উপদপ্তর সম্পাদক মাহমুদ আব্দুল্লাহ বিন মুন্সি, উপ-গ্রন্থনা ও প্রকাশনা সম্পাদক সৌরভ নাথ, সংস্কৃতি বিষয়ক উপসম্পাদক আফরিন লাবণী, উপ-আন্তর্জাতিক সম্পাদক ফুয়াদ হাসান, উপ-পাঠাগার সম্পাদক রুশী চৌধুরী, ধর্মবিষয়ক সম্পাদক তাজ উদ্দিন, গণশিক্ষাবিষয়ক উপসম্পাদক মনিরুজ্জামান, ত্রাণ ও দুর্যোগবিষয়ক উপসম্পাদক সালেকুর রহমান, স্বাস্থ্য ও চিকিত্সাসেবা বিষয়ক উপসম্পাদক ডা. শাহজালাল, গণযোগাযোগ ও উন্নয়নবিষয়ক উপসম্পাদক সালাউদ্দিন জসীম ও সুশোভন, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়বিষয়ক সম্পাদক আসিফ ইকবাল, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়বিষয়ক উপসম্পাদক মো. তুষার ও রাকিবুল ইসলাম। উপ-আপ্যায়ন সম্পাদক শাহরিয়ার মাহমুদ, মানবসম্পদ উন্নয়নবিষয়ক উপসম্পাদক হিরণ ভূইয়া, কৃষিশিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক এস এম মাকসুদুর রহমান, কর্মসংস্থানবিষয়ক উপসম্পাদক অভিমন্যু বিশ্বাস, সহসম্পাদক জাফর আহমেদ, তানভীর আব্দুল্লাহ, সামিহা সরকার, ফারজানা ইসলাম, তামান্না তাসনিম, মেহেদী হাসান, আঞ্জুমান আরা, আসিফ রায়হান ও শফিকুল ইসলাম শেখ আরজু। সদস্য ফয়সাল করিম দাউদ খান, কর্মসংস্থানবিষয়ক উপসম্পাদক আল ইমরান, আন্তর্জাতিকবিষয়ক উপসম্পাদক ওয়াহিদুজ্জামান, সহসম্পাদক সোহেল রানা, মানবসম্পদবিষয়ক উপসম্পাদক বেলাল, প্রশিক্ষণবিষয়ক উপসম্পাদক মেশকাত হোসেন, সহসভাপতি শহিদুল ইসলাম, সহসভাপতি ফরহাদ হোসেন, সহসভাপতি তানজিদুল ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক সোহানুর রহমান, উপপ্রচার সম্পাদক আরিফ শেখ, ক্রীড়াবিষয়ক উপসম্পাদক বায়েজিদ কোতোয়াল, উপ-অর্থ সম্পাদক মহসিন খন্দকার, আন্তর্জাতিক সম্পাদক রাকিনুল হক চৌধুরী, সহসম্পাদক রনি চৌধুরী, সহসভাপতি এম সাজ্জাদ হোসেন, আন্তর্জাতিকবিষয়ক উপসম্পাদক এস এম মাহবুবুর রহমান, সহসম্পাদক ওমর ফারুখ, সহসভাপতি আলিমুল হক, অর্থ সম্পাদক মো. রাকিব হোসেন, স্বাস্থ্য ও চিকিত্সাসেবাবিষয়ক উপসম্পাদক শফিউল ইসলাম, সহসভাপতি মাজহারুল ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক নাজিম উদ্দিন, সহসম্পাদক রেজাউল করিম, ত্রাণ ও দুর্যোগবিষয়ক উপসম্পাদক ফেরদৌস শাহরিয়ার, উপপ্রচার সম্পাদক নিলায়ন বাপ্পী, উপদপ্তর সম্পাদক মোমিন শাহরিয়ার, নাট্য ও বিতর্কবিষয়ক উপসম্পাদক মাজহারুল কবির এবং গণযোগাযোগ ও উন্নয়নবিষয়ক উপসম্পাদক নাজমুল হুদা। সূত্র: কালেরকন্ঠ।

বিডি২৪লাইভ/এমআর

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য: