ঝিনাইদহে নতুন ফল শরিফার চাষ

প্রকাশিত: ০৩:২২ অপরাহ্ণ, ১৯ মে ২০১৯

ছবি: প্রতিনিধির পাঠানো।

ড্রাগন, লিচু, পেয়ারার পর এবার ফলের বাগানে নতুন অতিথি শরিফা। ভিয়েতনামের এ ফলটি খুবই সু-স্বাদু এবং এ ফলের চাষ বেশ লাভজনক। ড্রাগন, লিচু ও পেয়ারা চাষে আশানুরুপ সফলতা আসায় প্রতিনিয়ত চাষের জমি ও নতুন নতুন ফলের চাষ বৃদ্ধি করে চলেছেন ঝিনাইদহের কালীগঞ্জের শিবনগরের বাসিন্দা চাষী সুরত আলী।

ড্রাগন চাষে ভালো মুনাফা পাওয়ায় এবছর ১২ বিঘা থেকে বাড়িয়ে ১৭ বিঘা জমিতে ড্রাগন চাষ করেছেন। অন্যান্য ফলের চাষের জমি বৃদ্ধি না করলেও এ বছরে নতুন ফল শরিফার চাষ শুরু করেছেন। বর্তমানে ৫০ শতক জমিতে চাষ শুরু করলেও টার্গেট ৩ একর। এ ছাড়া আড়াই বিঘা জমিতে চায়না কমলার চারাও লাগিয়েছেন। নতুন এ দু’টি ফল ড্রাগন চাষ থেকেও লাভজনক হবে বলে আশা করছেন সুরত আলী।

ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার পৌর এলাকার শিবনগর দাস পাড়ার মাঠে এ কৃষি ফার্মটির অবস্থান। ফার্মে  ড্রাগন, আম, লিচু, পেয়ারা খেজুর, লটকন, নারিকেল, রামবোতান প্রভৃতি ফলের বিভিন্ন জাতের ফলের গাছ রয়েছে। এর মধ্যে ৫ প্রকারের ড্রাগনসহ হিমসাগর, ল্যাংরা, আমরুপালি, মোজাফ্ফর লিচু, পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত থেকে আনা টিস্যু কালসার খোরমা খেজুর, থাইল্যান্ডের বিভিন্ন প্রকার পেয়ারা, সিডলেস পেয়ারা ও টিস্যু কালসার নারিকেল গাছ।

সুরত আলী জানান, বিদেশি এ ধরনের ফসল চাষে সময় লাগে বেশি এবং খরচ হয় বেশি । এক প্রকার ঝুঁকি নিয়েই চাষ শুরু করলেও গাছে ফল আসতে শুরু করায় এখন তিনি আশাবাদি । তিনি জানান, ভিন্নধর্মী এ জাতীয় ফসলের চাষ শুরু করতে তাকে উদ্বুদ্ধ করেছেন তারই ভাগ্নে কৃষিবীদ ড.রুস্তম আলী। রুস্তম আলীর আর্থিক সহযোগিতা ও কৃষি পরামর্শে তার এ ফার্ম একটি লাভজনক ফার্মে পরিণত হয়েছে।

২০১৬ সালের শেষের দিকে নিজের বাড়ির পতিত জমি, শিবনগর ভাটা সংলগ্ন মাঠ ও দাস পাড়ার মাঠের ৪ একর জমিতে পেয়ারা, ৪ একর জমিতে ড্রাগন, দেড় একর জমিতে আম, প্রায় ২ বিঘা জমিতে লিচু এবং বাকি জমিতে রামবোতান, লটকন, খেজুর ও নারিকেল গাছ ও কলার চাষ করেছেন। তার ফার্মে এখন প্রতিদিন ৭/৮জন শ্রমিক প্রতিনিয়ত কাজ করে। সুরত আলী জানান, তার ভাগ্নে কৃষিবীদ ড.রুস্তম আলী ঢাকার একটি নার্সারী থেকে বিদেশি জাতের এ ফলের চারা তাকে সরবরাহ করেছেন। ব্যাতিক্রমি এ ফলের চাষ সম্পর্কিত সকল প্রকারের সহযোগিতা (আর্থিকসহ) ও পরামর্শ তিনিই দিচ্ছেন। 

ড্রাগন চাষ নিয়ে কথা হলে সুরত আলী এ প্রতিবেদককে জানান, দেড় বছর বয়সে তার লাগানো গাছে ফল আসতে শুরু করেছে। জুলাই আগষ্টের মধ্যে ফল পাকতে শুরু করে। সাধরণত ফুল আসার ৪০ থেকে ৪৫দিনের মাথায় ফল পেকে যায়। একটি পরিপুষ্ট পাকা ফলের ওজন প্রায় ৩’শ থেকে ৪’শ গ্রাম হয়। বছরে একাধারে প্রায় ৩ থেকে ৪ মাস ফল সংগ্রহ করা যায়। ড্রাগন গাছ একবার লাগালে ওই গাছ থেকে কমপক্ষে দশ বছর ফল পাওয়া যায়। স্থানীয় বাজারে ড্রাগন কেজি প্রতি ৩’শ থেকে সাড়ে ৩’শ টাকায় বিক্রি করা যায়। ঢাকার বাজারে এ ফলের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে বলে তিনি জানান।

এ বছরে ৫০ শতক জমিতে ভিয়েতনামের ফল শরিফা চাষ শুরু করেছেন। ৩ একর জমিতে এ ফলের চাষ করার ইচ্ছা আছে তার। তিনি জানান এ ফলের গাছ একবার লাগালে আজীবন ফল পাওয়া যায়। প্রতি বিঘায় ১০০টি চারা লাগানো যায়। প্রতিটি চারা ৮০০ টাকা দরে ক্রয় করছেন। গাছ লাগানোর ২ বছর পরেই ফল পাওয়া যায়। বছরের মে থেকে জানুয়ারী পর্যন্ত এ ফল সংগ্রহ করা যায়। এক একটি ফল প্রায় ৪’শ থেকে ৫’শ গ্রাম ওজন হয়। একটি পরিণত গাছ থেকে বছরে ৮০ থেকে ১০০ কেজি ফল পাওয়া যাবে। শরিফা ফলের বর্তমান বাজার দর ৪০০ থেকে ৫০০টাকা।

এ ব্যাপারে কালীগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ জাহিদুল করিম জানান, কালীগঞ্জে ফল চাষ দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। তিনি জানান কালীগঞ্জ উপজেলা কৃষি অফিস ফল চাষীদের প্রযুক্তিগত সহায়তা দিচ্ছে এবং নিয়মিত খোঁজ খবর রাখছে।

বিডি২৪লাইভ/এএস

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য: