প্রচ্ছদ / রাজনীতি / বিস্তারিত

এসব কী হচ্ছে ছাত্রলীগে!

প্রকাশিত: ০৭:৪৮ অপরাহ্ণ, ১৯ মে ২০১৯

ছবি: ইন্টারনেট

সম্প্রতি পূর্ণাঙ্গ কমিটি দিয়েছে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ। এই কমিটিকে কেন্দ্র করে ঐতিহ্যবাহী এই ছাত্র সংগঠনটি নানান কারণে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। খোদ ছাত্রলীগের সাবেক নেতারা বর্তমান ছাত্রলীগ নিয়ে নানান ধরণের প্রশ্ন তুলেছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সমালোচনার ঝড় উঠেছে।

বতমান ছাত্রলীগের কর্মকাণ্ড নিয়ে দেশবাসীর মাঝে ক্রমান্বয়ে ক্ষোভ প্রতিয়মান হচ্ছে দিনের পর দিন। এটা অনেকাংশে বেড়ে গেছে কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণার পর থেকে। বিশেষ করে পদবঞ্চিতদের মুখে যখন শুনতে পাওয়া যাচ্ছে, ত্যাগীরা উপেক্ষিত আর বর্গীয়রা পদ-পদবীতে ঠাসা। তখন দুঃখের অন্ত থাকে না বলে দাবি করছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক ছাত্রলীগ নেতা। 

এসব ত্যাগী নেতারা আরও বলেন, দেশের সাহসী ও মেধাবী ছেলে-মেয়েরা ছাত্রলীগের রাজনীতি করেছে। এতকাল পর হঠাৎ কোন শূকনের কবলে পড়েছে ছাত্রলীগ? 

এ বিষয় নিয়ে প্রধানমন্ত্রী কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকে গণভবনে ডেকে নিয়ে বলেন, আমি ত্যগী নেতাদের ছাত্রীলীগের কমিটিতে দেখতে চাই। কোন আমদানি কৃত নেতাদের কমিটিতে দেখতে চাই না। রাজনীতি শুধু পদের জন্য নয়, দলীয় শৃঙ্খলার বিষয়টা সকলকেই মাথায় রাখতে হবে। পদ পেলেই নেতা আর না হলে নয়, এমন মানসিকতা দূর করতে হবে।

নিজের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, আমি ছাত্রলীগ করেছি কিন্তু কই কোন পদ পাইনি। কি হয়েছে তাতে এখন অনেককেই নেতা বানাই। 

এদিকে ছাত্রলীগে অপকর্ম দিনকে দিন অতিমাত্রায় বেড়ে যাওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করে সাবেক বহিঃস্কৃত কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সভাপতি ও বর্তমান বিএনপি চেয়ারপারসেন উপদেষ্টা হাবিবুর রহমান হাবিব বলেন, খুব কষ্ট লাগে এই ভেবে এক সময় এই সংগঠনের নেতৃত্ব আমি দিয়েছি। এসব কিন্তু ভালো না। এত মাত্রায় সহিংস হয়ে গেলে কিন্তু দেশের জন্য ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়াবে। 

ছাত্রলীগে সাবেক কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট অসীম কুমার উকিল এমপি বলেন, ছাত্রলীগের বিষয়ে আমার কোন কিছু বলার নেই। ছাত্রলীগকে দেখার জন্য নেত্রী যাদের দায়িত্ব দিয়েছেন তাদের সাথে এ বিষয়ে কথা বলেন। আমি ছাত্রলীগের বিষয়ে কথা বলতে অপারগতা প্রকাশ করছি। এই বলে ফোন কেটে দেন।

বতর্মান ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে দেশব্যাপী অভিযোগের পাহাড় গড়ে উঠেছে। দেখ গেছে, অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের পাশাপাশি ভিন্নমতের ছাত্র সংগঠন ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গেও দ্বন্দ্ব ও সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ছে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। এছাড়া একশ্রেণির নেতাকর্মীর চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, অপহরণ, ধর্ষণ কার্যকলাপের কারণে নিয়মিতই আলোচনায় থাকছে ছাত্রলীগ। 

এদিকে, সর্বশেষ গত ১৮ মে পাবনার সরকারি শহীদ বুলবুল কলেজের প্রভাষক মাকসুদুর রহমানের উপর ছাত্রলীগ নেতা কর্তৃক মারধরের ঘটনা কী বার্তা দেয়? অপর দিকে, ১৭ মে সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলা ছাত্রলীগের বর্তমান সভাপতি ও সম্পাদকের বিরুদ্ধে অর্থের বিনিময়ে জমি দখলে নেতৃত্ব দিয়ে গিয়ে উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক তুষারের হাতের আঙুল কেটে ফেলার অভিযোগে উপজেলা ছাত্রলীগের কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করেছে জেলা ছাত্রলীগ। এটা কিসের আলামত? ১৪ মে সিলেট উইমেন্স মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের এক নারী চিকিৎসককে ধর্ষণ ও হত্যার হুমকি দেয়া ছাত্রলীগ নেতা সারোয়ারের আস্পর্ধা কী সভ্যতার জন্য হুমকি নয়? প্রশ্ন দেশের সাধারণ মানুষের।

বিডি২৪লাইভ/এসবি/এমআর

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য: