প্রচ্ছদ / জেলার খবর / বিস্তারিত

উপচে পড়া ভিড়

জমে উঠেছে ঈদ বাজার

প্রকাশিত: ১২:২৮ পূর্বাহ্ণ, ২০ মে ২০১৯

ছবি: প্রতিনিধি

ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে কুমিল্লার বিপনী বিতানগুলোতে জমে উঠেছে কেনাকাটা। ঈদকে সামনে রেখে নতুন সাজে সেজেছে শপিংমলগুলো। তবে ক্রেতারা বলছেন, সব ধরনের পোশাকের দামই বেশি।

বিক্রেতারা বলছেন, অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার বিক্রি ভালো নয়। ১২ রোজা পর্যন্ত তেমন কোনো বিক্রিই হয়নি। তবে ১৩ রোজা থেকে ক্রেতা আসতে শুরু করেছেন, বিক্রিও হচ্ছে। ঈদের আগের বাকি দিনগুলোতেও এভাবে বিক্রি হবে বলে আশা করছেন তাঁরা।

নগরীর কান্দিরপাড় সাত্তার খান কমপ্লেক্স, খন্দকার হক টাওয়ার, ইস্টার্ণ ইয়াকুব প্লাজা, আনন্দ সিটি সেন্টার, নিউ মার্কেট, মনোহরপুর মার্কেটগুলোতে ভিড় উপচে পড়া লক্ষ্য করা গেছে। ঈদের আরো দুই সপ্তাহেরও বেশি বাকি থাকলেও এখন থেকেই জমতে শুরু করেছে পোশাক দোকানগুলো। আর ঈদে শৃঙ্খলা ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ রাখার জন্য কোতয়ালী থানা পুলিশ, মোবাইল টিম ও সাদা পোশাকে পুলিশ টিম মাঠে রয়েছে।

বাজার ঘুরে জানা গেছে, ঈদের বাজারে নারীদের পোশাকের চাহিদাই বেশি। তৈরি পোশাকের পাশাপাশি পছন্দের নকশার পোশাক তৈরিতে নারীরা ছুটছেন টেইলার্সগুলোতে। শিশুদের পোশাক বিক্রি হচ্ছে বেশি। ক্রেতাদের আকৃষ্ট করার জন্য দোকানগুলোতে বাহারি পোষাকের সম্ভার নিয়ে সেজেছে বিভিন্ন ফ্যাশন হাউজের শো-রুমগুলো।

আরেকদিকে নগরীর বড় ছোট শপিংমলগুলোতে তরুণীদের ফ্যাশন নির্ভর ভারতের মুম্বাই ও কোলকাতার পোষাকের সমারোহ ঘটেছে। এবারের ঈদে নগরীর ফ্যাশন হাউজগুলোতে কুর্তি-কামিজ আর তাগার নতুনত্বে আর শপিংমলের দোকানগুলোতে ভারতের দামি-দামি ব্র্যান্ডের কটন ও জর্জেট কাপড়ের লংড্রেস-পালাজ্জো কুমিল্লার তরুণীদের দৃষ্টি কেড়েছে। 

দোকানি ও ক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, রমজান শুরুর পর শেষে আস্তে আস্তে ভিড় বাড়ছে। প্রতি রমজানে সাধারণত এ সময় থেকেই ঈদের কেনাকাটা পুরোদমে শুরু হয়। এখন থেকে দিন যত যাবে, ভিড় তত বাড়তে থাকবে। এখন যতটুকু দামদর করে কাপড় কেনার সুযোগ থাকছে, পরে সে সুযোগও থাকবে না। ঈদের বাকি প্রায় ১৭ দিনের মতো। ঈদের আগ মুহূর্তে কেনাকাটা করতে গেলে নানা ভোগান্তি পোহাতে হয় বলে অনেকে এখনই কেনাকাটা সেরে ফেলেছেন। নগরীর বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের চাকরিজীবী আরিফুর রহমান পরিবার নিয়ে আসেন ঈদবাজারে।

তিনি বলেন, ‘অফিস করে সময় পাই না তাই আজই সব কেনাকাটা শেষ করব। ঈদে গ্রামের বাড়িতে যাব। ঈদ যত নিকটে আসবে ভিড় তত বাড়বে। তাই বাবা-মা, ভাই-বোনসহ পরিবারের সবার জন্যই কেনাকাটা আজই শেষ করতে হবে।’ নগরীর বিভিন্ন মার্কেট ঘুরে দেখা যায়, মেয়েদের পোশাকের দোকানে তুলনামূলক ভিড় বেশি।

বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলতে চাইলেই বলে দিচ্ছেন, ব্যস্ততার কারণে কথা বলার মতো সময় নেই। তবে ক্রেতাদের উপস্থিতি থাকলেও দোকানিদের দাবি বেচাকেনা তুলনামূলকভাবে কম। নগরীর বিভিন্ন মার্কেটের ব্র্যান্ডের দোকানগুলোতে দিন দিন ক্রেতার সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে।

বিপণিবিতানের সেলস ম্যানেজার জাহিদ হোসেন বলেন, ‘গত বছরের চেয়ে এবার বেচাকেনা খারাপ। মার্কেটে মানুষ আসছে, কিন্তু বেচাকেনা কম। কিনতে আসছেন একজন, কিন্তু সঙ্গে চার-পাঁচজন করে আসছেন এ কারণে মার্কেটগুলোতে ভিড় চোখে পড়ছে।’

সাত্তার খান কমপ্লেক্সের ব্যবসায়ী সুমন আহমেদ জানান, গতবারের তুলনায় এবার  বেচাকেনা ভালো যাচ্ছে। কারণ আমাদের কালেকশন ভালো। সবাই নিরাপদে কেনাকেটা করতে পারেন। লেহেংগা, পাটিয়া, থ্রি পিচ, গাউনসহ বাচ্চাদের বিভিন্ন আইটেমের কালেকশন আছে। ছেলেদেরও ভালো মানের আইটেম রয়েছে।

শপিং করতে আসা ক্রেতা পারভীন আক্তার বলেন, কম দামের মধ্যে ভালো পোশাক পাওয়া যাচ্ছে এবং নতুন কালেকশনও দেখছি। পছন্দ হয়েছে তাই কিনেছি। পরিবারের অন্য সদস্যের কেনাকাটা বাকি রয়েছে এগুলোও কিনবো।

ঈদ আসতে আরো অনেক দিন বাকি থাকলেও নতুন নতুন পোশাক সাজিয়ে বসেছেন দোকানদাররা। বেশিরভাগ মার্কেটে বিভিন্ন দেশের ব্রান্ডের পোশাক সাজানো হয়েছে। মার্কেট ঘুরে দেখা যায়, ক্রেতা সাধারণরা এক দোকান থেকে অন্য দোকানে পছন্দের জামা নেয়ার জন্য ঘুরছেন। তবে অনেকেই জামা কাপড় কিনছেন না। নতুন কালেকশনের অপেক্ষায় এক শপিং মল থেকে অন্য শপিং মলে যাচ্ছেন।

ক্রেতাদের চাহিদার কথা মাথায় রেখে নতুন নতুন পোশাক দোকানে সাজানো হয়েছে শপিং মলগুলোও। প্রতিটি দোকানেই বিভিন্ন ব্র্যান্ডের ছেলে-মেয়ের বাহারি পোশাক ডলে সাজানো হয়েছে। বিক্রেতারা বলছেন, রমজানের শুরু থেকে ক্রেতাদের ভালো সাড়া পাওয়া যাচ্ছে। এবার পোশাকের দাম গতবারের তুলনায় এবার কম।

এদিকে নগরীর এক দরের মার্কেট ইস্টার্ন ইয়াকুব প্লাজায় ক্রেতাদের উপস্থিতি তুলনামূলক কম দেখা গেছে। এ মার্কেটের দোকান মালিক হুমায়ন জানান, শুধু ইস্টার্ন ইয়াকুব প্লাজা নয়, আশপাশের মার্কেটেগুলোতে এবার বেচাকেনা কম। উপজেলা সদরগুলোতে বড় বড় মার্কেট হওয়ায় মানুষ শহরে আসছে কম। এ ছাড়া মানুষ অনলাইনে কেনাকাটা করছে। যার প্রভাব পড়েছে মার্কেটগুলোতে। নগরীর নজরুল এভিনিউ এলাকায় মার্কেটগুলোতে ছোটদের পোশাক বিক্রি হয়।

দোকানের মালিক নুরুল ইসলাম বলেন, ‘বেচাকেনা এখনও মনমতো করতে পারিনি। গত বছর রোজার শুরুতে প্রতিদিন ২০-৩০ হাজার টাকা বিক্রি করেছি। এ বছর পাঁচ-সাত হাজার টাকার বেশি বিক্রি করতে পারিনি। জানি না কেন এমন হচ্ছে। গরমের কারণেও হতে পারে।’

অপরদিকে, কান্দিরপাড় ও নিউমার্কেট এলাকার ফুটপাতে চলছে হরদম বেচাকেনা। ফুটপাত বিক্রেতারা জানান, বৃহস্পতি ও শুক্রবার থেকে মূলত ঈদের বেচাকেনা শুরু হয়েছে। বেচাকেনা মোটামুটি ভালো।

বিডি২৪লাইভ/এআইআর

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য: