প্রচ্ছদ / জেলার খবর / বিস্তারিত

সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের মাঝে ঈদবস্ত্র ও খাদ্য সামগ্রী বিতরণ

প্রকাশিত: ১২:৪২ পূর্বাহ্ণ, ২০ মে ২০১৯

পবিত্র মাহে রমজান ও ঈদ উপলক্ষে দিনাজপুর হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের মজার স্কুলের সুবিধাবঞ্চিত শতাধিক গরীব-দুস্থ শিক্ষার্থীদের মাঝে ঈদ বস্ত্র ও খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে।

রবিবার (১৯ মে) বিকাল সাড়ে ৪ টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্তর্ভুক্ত হাবিপ্রবি স্কুল মাঠ প্রাঙ্গণে এই ঈদ বস্ত্র ও খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করা হয়।

উক্ত বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মু. আবুল কাসেম।

এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন ট্রেজারার প্রফেসর ড. বিধান চন্দ্র হালদার, রেজিস্ট্রার প্রফেসর ডা. মো.ফজলুল হক, ট্রান্সপোর্ট কো-অর্ডিনেটর প্রফেসর ড.মো.মফিজুল ইসলাম, জেনেটিক্স এন্ড এনিমেল সায়েন্স বিভাগের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড.আব্দুল গাফফার মিয়া, উদ্যানতত্ব বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক হাসানুর রহমান, সমাজ বিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো. সাইফুদ্দিন দুরুদ সহ হাবিপ্রবি মজার স্কুলের সদ্য বিদায়ী সভাপতি শহিদুল ইসলাম ফাহিম ও নব নির্বাচিত সভাপতি রাগিব হাসান সিফাত, সাধারণ সম্পাদক অনামিকা স্যানাল, কোষাধক্ষ্য আসমাউল হুসনা মীম সহ মজার স্কুল কমিটির অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

মজার স্কুলের প্রচার সম্পাদক আশরাফুল ইসলাম রনির সঞ্চালনায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড মু আবুল কাসেম বলেন, নিঃসন্দেহে এটি মহৎ বড় একটি উদ্যোগ। আমার শিক্ষার্থীরাই এখানকার শিক্ষক যা আমার কাছে অত্যান্ত আনন্দের বিষয়। তারা নিজেদের পড়াশোনার পাশাপাশি যেভাবে এই মহৎ কাজে যুক্ত থেকেছে এবং যারা তাদের সার্বিকভাবে সহযোগিতা করেছেন তাদের সহ সবাইকে আমি ধন্যবাদ জানাচ্ছি। তাদের এই প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকুক এই শুভ কামনা রইলো। এই প্রতিষ্ঠানের জন্য আমার সকল ধরনের  সহযোগিতা থাকবে ইনশাআল্লাহ।

ঈদ বস্ত্র (নতুন জামা) ও খাদ্য সামগ্রী (পোলাও চাল, সেমাই, চিনি, পাপড়) বিতরণ শেষে মজার স্কুলের সুবিধাবঞ্চিত ক্ষুদে শিক্ষার্থীদের নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক মিলনায়তন (টিএসসি) কেন্দ্র ইফতার করা হয়।

প্রসঙ্গত, সুবিধাবঞ্চিত পথ শিশুদের চোখভরা স্বপ্নকে রাঙ্গিয়ে দিতে ও শিক্ষার আলোয় আলোকিত করতে ২০১৫ সালের ৯ নভেম্বর হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের একঝাঁক উদ্যমী তরুণ শিক্ষার্থীর উদ্যোগে যাত্রা শুরু করে হাবিপ্রবি(এইচএসটিইউ) মজার স্কুল। 

বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের বিভিন্নভাবে বুঝিয়ে সুঝিয়ে মজার স্কুলে নিয়ে আসা হয়। হাবিপ্রবি স্কুলে অস্থায়ীভাবে তাদের ক্লাস নেয়া হয়। স্কুল ছুটির পর মজার স্কুলের ক্লাস শুরু হয়। বঞ্চনার শিকার কোনো শিশু একবার মজার স্কুলে এলে আর ফিরতে চায় না। মজার স্কুলের মমতাময়ী শিক্ষকদের মমতা আর মায়াময় পরিবেশে পড়াশুনার সুযোগ পেয়ে মমতার টানেই প্রতিদিনই ছুটে আসে ওইসব শিশু। 

মজার স্কুলে আসা সবশিশু বিনামূল্যে বই, খাতা, কলম, রাবার, স্কেল, পেন্সিলসহ যাবতীয় শিক্ষা উপকরণ ও টিফিন সরবরাহ করা হয়। শুধু প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাই নয়, মজার স্কুল শিক্ষার্থীদের মানসিক পরিশুদ্ধতার জন্য সুস্থ সাংস্কৃতিক চর্চা এবং খেলাধুলার সুযোগও করে দেয়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদ ও বর্ষের শিক্ষার্থীদের স্বেচ্ছাশ্রমে পরিচালিত হচ্ছে স্কুলটি। এ তরুণ শিক্ষার্থীরা তাদের পকেট খরচ থেকে কিছু অর্থ বাঁচিয়ে সুবিধাবঞ্চিত এই শিশুদের বই, খাতা, কলম ও টিফিনের জন্য ব্যয় করছে। স্কুলটির শিক্ষক রয়েছে ৪০ জন। শিশুশ্রেণি থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত পাঠদান দেয়া হয় এখানে। শিক্ষকরা পর্যায়ক্রমে সপ্তাহে ছয় দিনই ক্লাস নেন। প্রতিদিন বিকাল ৪টা থেকে ৫টা পর্যন্ত চলে পথ শিশুদের ক্লাস।

বিডি২৪লাইভ/আরআই

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য: