প্রচ্ছদ / জাতীয় / বিস্তারিত

এ এক মহা তুঘলকি কাণ্ড

বালিশ কাণ্ডে চারদিকে সমালোচনা, অ্যাকশনে মন্ত্রণালয়

২০ মে ২০১৯ , ১১:১২:৩০

ছবি: ইন্টারনেট।

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে গ্রিন সিটি আবাসন প্রকল্পের সরঞ্জাম কেনায় দুর্নীতির অভিযোগের বিষয়ে চলছে দেশব্যাপী নানা আলোচনা-সমালোচনা।  ঘটনা তদন্তে ইতোমধ্যে তদন্ত কমিটি গঠন করেছে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়।  অভিযোগ প্রমাণিত হলে কাউকেই ছাড় দেয়া হবে না বলে জানিয়েছেন গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম।

গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের একজন অতিরিক্ত সচিব এবং গণপূর্ত অধিদফতর থেকে একজন অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলীর নেতৃত্বে রবিবার পৃথক দুটি কমিটি গঠন করা হয়।  আগামী সাত দিনের মধ্যে কমিটিকে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়েছে। 

এছাড়া তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন না পাওয়া পর্যন্ত ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের সব ধরনের বিল বন্ধ রাখার নির্দেশনা দিয়েছে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়।

এদিকে, ‘বালিশ’ হাতে এ ঘটনার প্রতিবাদে সোমবার (২০ মে) দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে অভিনব বিক্ষোভ করে বাংলাদেশ গণঐক্য ও নাগরিক পরিষদ নামে দুটি সংগঠন।  বিক্ষোভে অংশ নেওয়া সবার হাতেই বালিশ ছিল। 

এসব বালিশে লেখা ছিল, ‘কে দেখবে এই দুর্নীতি? কে থামাবে এই মহামারি?’ ‘কৃষক পায়না ফসলের দাম, চারিদিকে লুটপাটের জয়গান’, ‘ইতিহাসের সেরা লুট’ সহ নানা স্লোগান।

আয়োজক সংগঠন বাংলাদেশ গণঐক্যের সভাপতি আরমান হোসেন পলাশ বলেন, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে যে হরিলুট হয়েছে তা ইতিহাসে সেরা।  ৬ হাজার টাকার বালিশ এর আগে কোন কোন প্রকল্পে কেনা হয়েছে তা জাতি জানতে চায়।  

নাগরিক পরিষদের আহ্বায়ক মোহাম্মদ শামসুদ্দীন বলেন, ২৫০ টাকার বাজার মূল্যে বালিশ ৬ হাজার টাকা, এ এক মহা তুঘলকি কাণ্ড। 

এদিকে, এ ঘটনার বিচার বিভাগীয় তদন্ত চেয়ে হাইকোর্টে রিট করেছেন আইনজীবী সৈয়দ সাইয়েদুল হক।  দুর্নীতির অভিযোগ তদন্তে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের দুই কমিটির করা তদন্ত প্রতিবেদন হাইকোর্টে দাখিলের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। 

অবকাশকালীন ছুটি শেষে ঈদের পর কোর্ট খোলার এক সপ্তাহের মধ্যে প্রতিবেদন দুটি দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।  সোমবার বিচারপতি তারিক-উল হাকিম ও বিচারপতি মোহাম্মদ সোহরাওয়ার্দীর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

এ বিষয়ে রিটকারি আইনজীবী ব্যারিস্টার সুমন বলেন, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে কর্মরতদের জন্য নির্মিত গ্রিন সিটি প্রকল্পে আসবাবপত্রের দাম এবং তা  ফ্ল্যাটে ওঠানোর জন্য যে ব্যয় ধরা হয়েছে, তা অস্বাভাবিক।  একটা বালিশের দাম ধরা হয়েছে ছয় হাজার টাকা।  একটা পানি গরম করার কেটলি নিচ থেকে ওপরে তোলার খরচ ধরা হয়েছে তিন হাজার টাকা। 

তিনি বলেন, প্রত্যেক কাজের একটা জবাবদিহিতা থাকা দরকার।  প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজেও দুর্নীতির বিষয়ে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করছেন।  তাছাড়া এই প্রকল্পে যে টাকা খরচ দেখানো হয়েছে তা এ দেশের জনগণের ট্যাক্সের টাকা।  তাই বিষয়টি জবাবদিহিতায় আসা উচিত।

সরঞ্জাম কেনায় দুর্নীতির অভিযোগের বিষয়ে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম বলেন, আমার দায়িত্বভার গ্রহণের একবছর আগেই এ ঘটনা ঘটেছে।  তবে আমার কথা হচ্ছে, আমি নিজে দুর্নীতি করব না কাউকে দুর্নীতি করতেও দিব না।  প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স ঘোষণা করেছেন।  সেই লক্ষ্যেই আমাদের দায়িত্ব দিয়েছেন।  দেখতে পারবেন আমি কী করি।

তিনি আরও বলেন, আমি নিজ তাগিদে উচ্চ ক্ষমতা সম্পূর্ণ দুটি কমিটি গঠন করে দিয়েছি, তারা সাত কার্যদিবসের মাঝে তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করবে।  তখন যে বা যারাই অপরাধ করে থাকুক না কেন, তাদের শাস্তির আওতায় আনা হবে।  যত ক্ষমতাধর ব্যক্তিই হোক না কেন এমন কর্মকাণ্ডের সাথে জড়িতদের ছাড় দেয়া হবে না।

বিডি২৪লাইভ/এসএইচআর/এমআর

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য: