প্রচ্ছদ / জেলার খবর / বিস্তারিত

এ কেমন বর্বরতা!

সবজি বাগানের দু’শতাধিক গাছ কেটে দিয়েছে দূবৃত্তরা

২১ মে ২০১৯ , ০২:০০:০০

ছবি: প্রতিনিধি

কুমিল্লার দেবিদ্বারে এক হতদরিদ্র কৃষকের সবজি বাগানের ফলন্ত সবজির দু’শতাধিক গাছকেটে দিয়েছে দূবৃত্তরা। এতে প্রায় পাঁচলক্ষাধিক টাকার সবজির ক্ষয়-ক্ষতি হওয়ার দাবি ভুক্তভোগী পরিবারের।

ঘটনাটি ঘটে রোববার (১৯ মে) ভোর রাতে দেবীদ্বার পৌর এলাকার বড়আলমপুর গ্রামের মোঃ রাসেল মিয়ার সবজি বাগানে।

ওই ঘটনায় বাগান মালিক বড়আলমপুর গ্রামের বসকর আলরি বাড়ির সামসুল হকের পুত্র দরিদ্র কৃষক মোঃ রাসেল বাদী হয়ে, বড় আলমপুর গ্রামের আঃ মজিদের পুত্র মোঃ জহিরুল ইসলাম (৫০), মোঃ জহিরুল ইসলামের পুত্র মোঃ জুয়ল (৩০) এবং মোঃ ফজলু সরকারের পুত্র মোঃ কাইয়ুম (৩২) সহ ৩জনকে অভিযুক্ত করে দেবীদ্বার থানায় একটি অভিযোগপত্র দাখিল করেন। ওই অভিযোগের ভিত্তিতে রোববার দিবাগত রাতে পুলিশ অভিযান চালিয়ে বড়আলমপুর গ্রামের মোঃ জহিরুল ইসলামের পুত্র মোঃ জুয়ল (৩০)কে আটক করে থানায় নিয়ে আসে।

সংবাদ পেয়ে সোমবার দুপুরে সরেজমিনে ওই গ্রামে যেয়ে দেখা যায় এক হৃদয় বিদারক দৃশ্য। জমিতে বপনকৃত প্রায় দেড়শত ফলন্ত লাউ ও প্রায় ৫০টি শষা গাছের গোড়া কেটে রেখেছে। মাচার উপর শত শত ঝুলন্ত লাউ ও শশা গুটি। সবুজের মাঝে আরো সবুজ এ সবজি গুলো যে কারোরই দৃষ্টিকাড়ে। কিন্তু যখন দেখেন লাউ এবং শষার ডোগাগুলো ঝিমিয়ে শুকিয়ে যাচ্ছে এবং শত শত অপরিপক্ক লাউ, শশা মৃত্যুরযাত্রী হয়ে ঝুলে আছে তখন সবাই বাকরুদ্ধ ও অশ্রুসিক্ত হয়ে শিহরে উঠে বলেন, এ কেমন বর্বরতা!

স্থানীয়রা জানান, মোঃ রাসেল’র বাড়ি মুরাদনগর উপজেলার নবীয়াবাদ গ্রামে। বড়আলমপুর গ্রামে শ্বশুর বাড়িতে থেকে জমি পত্তন নিয়ে চাষাবাদ এবং রিক্সা চালিয়ে জীবীকা নির্বাহ করে আসছিল। এখানে নাসির মিয়ার মালিকানাধীন ৩০শতাংশ পত্তনে রাখা জমিতে দাদনে টাকা এনে লাউ, শষা, করলা, চিন্দ্রা, কইডা চাষ করেন। এরই মধ্যে ফলনও শুরু হয়েছে। সবজি  বাগানের ফলন দেখে পরিবারের সবার চোখে- মুখে ছিল আনন্দের উচ্ছাস। কে জানত ফসল ঘরে তোলার আগেই দুষ্কৃতিকারীরা সকল আশা ভঙ্গ করে দেবে ?

ভোক্তভোগী মোঃ রাসেল জানান, এ সবজি বাগানে পরিবারের সবাইকে নিয়ে টানা পরিশ্রম করেছি। দিনের এক বেলা রিক্সা চালিয়েছি আর একবেলা সবজি  বাগানে কাজ করেছি। রাতেও এক বেলা রিক্সা চালিয়েছি অন্য বেলা বাগানের পরিচর্যা করেছি। ফলনও আশানুরুপ দেখেছি। এতে আমার পরিবারই নয়, প্রতিবেশীরাও খুশী ছিলেন।

রাসেল আরো জানান, গত ১মে সবজি  বাগানে পানি দেয়াকে কেন্দ্র করে পাশ্ববর্তী জমির মালিক জহিরুল ইসলাম, জুয়েল ও কাইয়ুম সাথে ঝগড়া হয়, এক পর্যায়ে কাচি দিয়ে আমাকে মারাত্মক জখম করে, স্থানীয়রা উদ্ধার করে সালিসে বিষয়টি মিমাংসা করে দেন। পরবর্তীতে প্রতিপক্ষ আমাকে দেখলেই জীবন নাশের হুমকী সহ ফসল ধ্বংস করার হুমকী দিয়ে আসছিল।

রাসেলের স্ত্রী রহিমা খাতুন বলেন, আমাদের পরিবারের সকল ধ্যান, শ্রম, চিন্তা- ভাবনা এ সবজি বাগানকে ঘিরেই ছিল। আজ সকল স্বপ্ন থেঙ্গে চুরমার হয়ে গেল বলেই হাউ-মাউ করে কেঁদে উঠেন।

তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যক্তি জানান, সবজি বাগানের মালিক’র শ্বশুর বাড়ির লোকজনও সন্দেহের বাহিরে নয়, যাদের অভিযোগ করা হয়েছে তারা হিংস্র তবে এতটা নির্দয় নয়। বিষয়টি ভালো ভাবে তদন্ত করলেই আসল অপরাধীরা বেড়িয়ে আসবে।

উপস্থিত স্থানীয় নূরে মদীনা রওজাতুল উলুম মাদ্রাসার শিক্ষক মাওলানা মোঃ মঈনুদ্দিন, গ্রামের মোঃ হরমজ আলী(৭০), মোঃ রফিকুল ইসলাম(৬০), মো লুতু মিয়া(৪৫), রহিমা খাতুন(৫০) এ বর্বরোচিত ঘটনার তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দা জানিয়ে অপরাধীদের আইনের আওতায় আনার জোর দাবী জানান।

এ ব্যাপারে সোমবার বিকেল ৫টায় দেবীদ্বার থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ জহিরুল আনোয়ার জানান, সবজি  বাগানের গাছ কাটার অভিযোগে একজন আটক হলেও স্থানীয় উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও উপজেলা যুবলীগ সভাপতি আবুল কাসেম ওমানী নিজ দায়িত্বে বিষয়টি নিষ্পত্তির আশ্বাসে আটককৃত ব্যক্তিকে জিম্বায় নিয়ে যান।

বিডি২৪লাইভ/এজে

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য: