প্রচ্ছদ / স্পোর্টস / বিস্তারিত

বিশ্বকাপে আফগানিস্তানের পরিসংখ্যান

প্রকাশিত: ০১:২৯ অপরাহ্ণ, ২১ মে ২০১৯

ছবি: সংগৃহীত

সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সে কিছুটা পিছিয়ে থাকলেও জায়েন্ট বদের হুংকার দিয়েছে আফগানিস্তান। শরণার্থী শিবির থেকে ক্রিকেটের সর্বোচ্চ আসরে আসা রশিদ খান, মোহাম্মদ নবী ও শাহজাদরা অঘটনের সম্ভাবনা উড়িয়ে দিচ্ছেন না। 
২৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৫ বিশ্ব ক্রিকেটের সব চাইতে বড় উপহারটি পেয়েছিল আফগানিস্তান। সেদিন স্কটল্যান্ডকে বিশ্বকাপে হারিয়েছিল আফগানরা। সেই জয়টি ছিল বিশ্বকাপের মত আসরে আফগানদের প্রথম জয়।

বিশ্বকাপের বাকি আর মাত্র ৯ দিন তাই বিডি২৪লাইভের পাঠকদের জন্য শুরু হলো বিশকাপে দশ দলের পরিচিতি।  আজ দ্বিতীয় দিন জনাবো আফগানিস্তান দলের শক্তি, পরিসংখ্যান ও ইতিহাসের কথা।

ক্রিকেট বিশ্বের বাকি দেশগুলোর সাথে আফগানিস্তানের পার্থক্য উত্থানের ইতিহাসে। যুদ্ধবিধ্বস্ত শরণার্থী শিবির থেকে দেশটি এখন ক্রিকেটের সর্বোচ্চ আসরে। ১৯৯৫ সালে আফগানিস্তান ক্রিকেট বোর্ড গঠন হলেও তালেবানদের রক্ত চক্ষুতে লম্বা সময় বন্ধ ছিল আফগানদের ক্রিকেট খেলা। যদিও ২০০০ সালে সেই নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয় তালেবানরা। ২০০১ সালে আফগানিস্তানে মার্কিন অভিযান শুরু হলে দেশটির কয়েক হাজার শরণার্থী আশ্রয় নেন পাকিস্তানে। সেখানেই নিভৃতে চলতে থাকে তাদের ক্রিকেট চর্চা।

২০০১ সালে আইসিসির অধিভুক্ত হওয়ার পর ২০১৩ সালে সহযোগীদেশের স্বীকৃতি পায় আফগানরা। এশিয়ার সহযোগী দেশগুলোর টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্টে টানা চার বার চ্যাম্পিয়ন আফগানিস্তান।

২০১১ সালে একটুর জন্য বিশ্বকাপ মিস করে আফগানরা। অবশ্য বিশ্বকাপের দুঃখ ভুলে ওয়ানডে স্ট্যাটাস পায় দলটি। তবে ক্রিকেটের ফ্রাঞ্চাইজিং টুর্নামেন্ট গুলোর কল্যাণে বিশ্বব্যাপী পরিচিত পান মোহাম্মদ নবী, আজগর আফগান, রশিদ খান, মোহাম্মদ শাহজাদরা।

২০১৫ সালের বিশ্বকাপ আর মিস হয়িনি আফগানদের। প্রথমবার অংশগ্রহণ করে ৬ ম্যাচ খেলে হেরেছে পাঁচটিতে। অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ড, শ্রীলঙ্কা, নিউজিল্যান্ড ও বাংলাদেশের বিপিক্ষে পরাজিত হলেও স্কটল্যান্ডকে হারানোর স্মৃতি এবারের বিশ্বকাপে প্রেরণা।

এখন পর্যন্ত ওয়ানডেতে ১১৩ ম্যাচ খেলে জয় ছিনিয়ে নিয়েছে ৫৮টিতে আর পরাজয় আছে ৫১টি ম্যাচে। বাকি ১টি ম্যাচ টাই ও ৩টি ম্যাচ পরিত্যক্ত হয়েছে।

গত বিশ্বকাপের চেয়ে এবারের আফগানদের স্কোয়াড আরো বৈচিত্র্যময়। ব্যাটিংয়ের পাঁচ স্তম্ভ শাহজাদ, মোহাম্মদ নবী, আসগর আফগান, রহমত শাহ, ও শেনওয়ারি আন্তর্জাতিক ওয়ানডেতে করেছেন পনেরশো রানেরও বেশী। এ তালিকায় ২ হাজার ৬১৯ রান নিয়ে সবার উপরে আছেন মোহাম্মদ শাহজাদ। আর দ্বিতীয় স্থানে আছেন অভিজ্ঞ মোহাম্মদ  নবী।

সেরা বোলার তালিকায়ও নবী। খেলেছেন একশোর বেশি ম্যাচ। তবে মাত্র ৫৮ ম্যাচ খেলে ১২৫ উইকেট নিয়ে সমীহ আদায় করে নিয়েছেন রশিদ খান। লেগ স্পিন ঘূর্ণি জাদুতে প্রতিপক্ষ ব্যাটসম্যানের জন্য যিনি এখনো রহস্যের নাম।  আরেক স্পিনার মুজিবুর রহমানও এবারের বিশ্বকাপের ট্রাম কার্ড।

জায়েন্ট কিলার হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে বিশ্বকাপ যাচ্ছে আফগানিস্থান কার কপাল পুড়বে আর কে হবে আফগানদের জয়ের নায়ক সেটাই এখন দেখার বিষয়। বিশ্বকাপে ১ জুন অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ব্রিস্টলে প্রথম ম্যাচে মাঠে নামবে আফগানিস্তান।

বিডি২৪লাইভ/আইএইচ/টিএএফ

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য: