প্রচ্ছদ / রাজনীতি / বিস্তারিত

কারাগারে কোর্ট স্থাপনের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করুন: রিজভী

প্রকাশিত: ০৫:৩৪ অপরাহ্ণ, ২২ মে ২০১৯

ছবি: সংগৃহীত

বগুড়া উপ-নির্বাচন নিয়ে দলের এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি বলে জানিয়েছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, ‘এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত হলে তা জানানো হবে।’

বুধবার (২২ মে) দুপুরে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন তিনি।

কৃষকের স্বার্থ রক্ষায় বৃহস্পতিবার (২৩ মে) বিএনপির পক্ষ থেকে অভিনব কর্মসূচি পালন করা হবে জানিয়ে রিজভী বলেন, আগামীকাল দেশের ইউনিয়নের হাট বাজারে কৃষকের স্বার্থ রক্ষায় দলের কেন্দ্র ঘোষিত মানববন্ধন সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে।

সরকারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, মিডনাইট সরকারের জুলুমে দেশের মানুষ চরম অশান্তিতে আছে। কৃষক শ্রমিক, চাকরিজীবী, ব্যবসায়ী দিনমজুর, প্রবাসী, কায়িক শ্রমজীবী কেউ ভালো নেই। চারিদিকে দিকে ত্রাহি দশা। জালিমশাহীর বড় বড় আসরে জনগণ জর্জরিত। পবিত্র রমজানেও ভালো নেই দেশের মানুষ। চারিদিকে হাহাকার চলছে। ১৭ কোটি মানুষের আর্তনাদ কোথাও শান্তি নেই।

রিজভী বলেন, কৃষকের মাঠে ধান ঘরে উঠাচ্ছেন না। মাঠেই জ্বালিয়ে দিচ্ছে, পাকা ধানে মই দিচ্ছেন। কি মর্মান্তিক দৃশ্য। আর সরকারের খাদ্য মন্ত্রী বলছেন, এটা সরকারের বিরুদ্ধে পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র।

‘ধানের দাম অস্বাভাবিকভাবে কমে গেলেও এই মুহূর্তে কৃষকের কাছ থেকে ধান কিনে দাম বাড়ানোর সুযোগ নেই’- কৃষিমন্ত্রীর এমন বক্তব্যের কড়া সমালোচনা করে রিজভী বলেন, ‘হীরক রাজার মতো কৃষকরাও মন্ত্রীর চোখে ষড়যন্ত্রকারী। ন্যায্য মূল্য দেওয়ার কোনো পরিকল্প এই অবৈধ সরকারের নীতিতে নেই। মন্ত্রীদের এই ধরনের কথাবার্তা বাংলাদেশের মানুষকে উদ্বিগ্ন করে তুলেছে। ধান কিনে ভর্তুকি দেওয়ার যে হিসাব সরকার করছে তা কৃষকের জন্য নয়। ধান কেনার ভর্তুকির টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে মিল মালিকদের জন্য। মিল মালিকরা ফরিয়াদের মাধ্যমে কৃষকদের কাছ থেকে কম মূল্যে ধান কিনে সরকারের কাছে তা চড়া দামে বিক্রি করছে। মিল মালিক এবং ফড়িয়ারা সরকারি দলের লোক। সুতরাং কৃষকের ভর্তুকির নামে যে রাষ্ট্রীয় টাকা খরচ হচ্ছে তা মূলত পাচ্ছে আওয়ামী লীগের লোকজন।’

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মতো দুর্নীতি দমন কমিশনও বিরোধী দলের জন্য মরণাঅস্ত্র হিসেবে কাজ করছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

অবিলম্বে খালেদা জিয়ার মুক্তি দাবি জানিয়ে রিজভী বলেন, সংবিধানের ৩৫ অনুচ্ছেদে স্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে, যে কোন বিচার হতে হবে উন্মুক্তভাবে। কারাগারের একটি কক্ষে বিচার হতে পারে না। তাই কেরানীগঞ্জে আদালত নিয়ে যাওয়া সংবিধান বিরোধী। পাশাপাশি ফৌজদারি কার্যবিধিতে স্পষ্টভাবে বলা আছে, যে কোথায় কোথায় আদালত স্থানান্তরিত হতে পারে। তাতে উল্লেখ নাই কারাগারে কোর্ট স্থাপিত হতে পারে। সেজন্য সরকারকে বলব দ্রুত সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করুন এবং বেগম খালেদা জিয়াকে এই মুহূর্তেই মুক্তি দিন।

সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আব্দুস সালাম, আবুল খায়ের ভূঁইয়া, সহ দফতর সম্পাদক মো. মনির হোসেন, সহ-প্রচার সম্পাদক আসাদুল করিম শাহীন, টাঙ্গাইল জেলা বিএনপির সভাপতি কৃষিবিদ শামসুল আলম  তোফা, বিএনপির দফতরের কর্মকর্তা রেজাউল করিম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

বিডি২৪লাইভ/এইচকে

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য: