প্রচ্ছদ / জেলার খবর / বিস্তারিত

চিকিৎসকের অবহেলায় ছাত্রের মৃত্যু, তদন্ত কমিটি গঠন

প্রকাশিত: ০৩:০০ পূর্বাহ্ণ, ২৪ মে ২০১৯

ছবি: প্রতিনিধি

তৃপ্তি রঞ্জন সেন,
পাইকগাছা,খুলনা থেকে:

শুভ খুলনার পাইকগাছার রাড়ুলী ইউনিয়নের শহীদ কামরুল মেমোরিয়াল হাই স্কুলের ৭ম শ্রেণির মেধাবী ছাত্র। জ্বর বমি নিয়ে কয়েকদিন অসুস্থ্য ছিল।মোস্তফা শাহারিয়ার রহমান শুভ। পিতা মাতার একমাত্র ছেলে।

বুধবার (২২ মে) রাত সাড়ে এগারোটার দিকে শুভ’র পিতা মাতা তাকে পাইকগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন এবং বৃহস্পতিবার (২৩ মে) ভোর ৬ টার দিকে শুভ মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে।

স্বজনদের অভিযোগ কর্তব্যরত চিকিৎসক ও নার্সের চরম অবহেলায় তার মৃত্যু হয়েছে। মৃত্যের স্বজনরা কর্তব্যরত চিকিৎসক ও নার্সের শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ করতে থাকলে থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।

এদিকে খবর পেয়ে সকালেই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ছুটে আসেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার জুলিয়া সুকায়না, ওসি এমদাদুল হক শেখ ও ওসি (তদন্ত) রহমত আলী। এ ঘটনায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পক্ষ থেকে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ঠ সুত্রে জানা গেছে, জেলার পাইকগাছার রাড়ুলী ইউনিয়নের আরাজী ভবানীপুর গ্রামের আব্দুস সামাদের একমাত্র মেধাবী ছেলে শহীদ কামরুল মেমোরিয়াল হাই স্কুলের ৭ম শ্রেণি পড়ুয়া ছেলে মোস্তফা শাহারিয়ার শুভ জ্বর ও বমি নিয়ে গত বুধবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় বৃহস্পতিবার ভোর ৬টার দিকে শুভ মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে।

পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ হাসপাতালে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডাঃ সুজন কুমার সরকার ও নার্সদের চরম অবহেলার কারণে তার মৃত্যু হয়েছে। এমন অভিযোগ ছড়িয়ে পড়লে মৃতের পরিবারের অন্যান্ন সদস্য ও স্বজনরা হাসপাতালে আসলে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

খবর পেয়ে পরে থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার জুলিয়া সুকায়না ও ওসি এমদাদুল হক শেখ এ সময় ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখেন। অপরদিকে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা তাৎক্ষণিক মেডিকেল অফিসার ডাঃ নজরুল ইসলামকে প্রধান করে এক সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেন এবং তিন কর্ম দিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশনা প্রদান করেন।

মৃতের মা শাহিদা বেগম জানান, সারা রাত শুভ’র পাশেই আমি ছিলাম। রাতে শুভ’র পিতা ডাক্তারকে বারবার ডেকেছে। কিন্তু ডাক্তার ভর্তি করার সময় ছাড়া রাতের মধ্যে একবারও রোগীর কাছে আসেননি। শুভর চাচা স্কুল শিক্ষক কবির আহমেদ জানান, বারবার কর্তব্যরত চিকিৎসককে ডাকলেও তিনি আসেননি। সম্পূর্ণ চিকিৎসকের অবহেলার কারণে তার মৃত্যু হয়েছে। আমার সংশ্লিষ্ঠ চিকিৎসকের শাস্তির দাবি জানান।

এ ব্যাপারে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডাঃ সুজন কুমার সরকার জানান, রাতে ভর্তির সময় তাকে দেখে শুনেই চিকিৎসার ব্যবস্থা দেই। এরপর সারারাত আমাকে কেউ কোন কিছু জানায়নি। পরে ভোর পৌনে ৬টার দিকে আউট সোসিংএর নাছিমা খাতুন আমাকে রোগীর অবস্থা খুবই খারাপ বলে জানায়। তাৎক্ষনিক ভাবে রোগীর কাছে গিয়ে আধাঘন্টারও বেশি সময় ধরে সব ধরণের চেষ্টা করার পরও এক পর্যায়ে ভোর ৬.১০ মিনিটের দিকে তার মৃত্যু হয়।

মেনিন জাইটিস, এনক্যাফালাইটিস ও সেপটিসোরিয়াস জনিত সমস্যার কারণে তার মৃত্যু হতে পারে বলে তিনি ধারণা করছেন।

ওসি এমদাদুল হক শেখ জানান, উত্তেজনার খবর পেয়েই হাসপাতালে পুলিশ মোতায়ন করা হয়। যার ফলে অস্বাভাবিক কোন ঘটনা ঘটেনি। নির্বাহী অফিসার জুলিয়া সুকায়না জানান, সুষ্ঠু তদন্ত করে দায়িত্ব অবহেলার অভিযোগ প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে যথাযত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ এএসএম মারুফ হাসান জানান, সকালেই আমি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে উপস্থিত ছিলাম। রোগীর পরিবার ও তাদের স্বজনদের অভিযোগের প্রেক্ষিতে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ ও চিকিৎসক ও নার্সদের কোন গাফিলতা আছে কিনা বিষয়টি খতিয়ে দেখতে তাৎক্ষনিক ভাবে ডাঃ নজরুল ইসলামকে প্রধান করে এক সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং আগামী তিন কর্ম দিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এদিকে বিষয় উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে বলেও উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা জানান।

বিডি২৪লাইভ/এজে

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য: