প্রচ্ছদ / সারাবিশ্ব / বিস্তারিত

‘মোদি হটাও ই বুমেরাং!

প্রকাশিত: ০৯:০৭ পূর্বাহ্ণ, ২৪ মে ২০১৯

ছবি: ইন্টারনেট থেকে

সদ্য সমাপ্ত ১৭ তম লোকসভার দীর্ঘদিনের জল্পনার অবসান ঘটিয়ে আবারও ভারতের প্রধানমন্ত্রী হতে চলেছেন নরেন্দ্র মোদি। পাঁচ বছর অতিবাহিত হওয়ার পরও মোদির পক্ষে জনগণের যে এতটা সমর্থন থাকবে তা ভারতের বিরোধী দলগুলোর ভাবনার অতীত ছিল। বিজেপি একাই যে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করলেও তাতে প্রশ্ন উঠছে, এবার মোদির দ্বিতীয় অধ্যায়ে এনডিএর শরিকদের গুরুত্বই থাকল না।

তবে অনেকের ধারণা ছিল, মোদি জিতলেও আসনসংখ্যা ২০১৪ সালের ২৮২-এর তুলনায় কম হবে, সে ক্ষেত্রে শরিকদের গুরুত্ব বাড়বে। কিন্তু সেটাও হলো না। সবচেয়ে করুণ অবস্থা হলো কংগ্রেসের। গতবার ছিল ৪৪, এবার কংগ্রেসের আসন ৫০-এর আশপাশে ঘোরাফেরা করছে। গোটা দেশে বিজেপির ২০টির মতো আসন বাড়ল। আর দেশের ২২টি রাজ্যে কংগ্রেসের কোনো আসনই আসেনি।

আবার অন্য আঞ্চলিক দলগুলোও যে খুব ভালো করেছে তাও নয়। মোদিবিরোধী আঞ্চলিক দলগুলোও ধাক্কা খেয়েছে। যেমন—মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল কংগ্রেসও ধাক্কা খেল পশ্চিমবঙ্গের মতো রাজ্যে। সেখানে বিজেপি আসন পেয়েছে ১৮টি। অন্ধ্র প্রদেশে তেলেগু দেশম কিছুই করতে পারল না। চন্দ্রবাবু নাইডুর জায়গা দখল করলেন ওয়াইএসআর কংগ্রেস পার্টির জগন মোহন রেড্ডি।

কিন্তু কিভাবে এই ফলাফল হলো? রাজনৈতিক মহলের বক্তব্য—বিরোধী দল যেভাবে মোদি হটাও অভিযানে নামে তাতে পুরো নির্বাচন মোদিকেন্দ্রিক হয়ে যায়। বিরোধীরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে কোনো ফেডারেল ফ্রন্ট গঠন করতে পারেনি। উল্টো মোদি সুকৌশলে ‘মোদি হটাও’কেই ভোটের প্রচারের হাতিয়ার করে তোলেন। কর্মহীনতা, কৃষকদের সমস্যা, রাহুল গান্ধীর তোলা ‘ন্যায়’-এর বিষয়—সব গুরুত্ব হারাল। দেখা যাচ্ছে, যেসব রাজ্যে মোদিকে ব্যক্তিগতভাবে আক্রমণ করা হয়েছে সেসব রাজ্যে তিনি ভোট পেয়েছেন বেশি।

এবারের ভোট তাই অনেকটাই যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের মতো হয়েছে। মোদি প্রধানমন্ত্রী থাকবেন কি থাকবেন না সেটা নিয়েই গোটা ভারতে ভোট হয়ে গেল। বিরোধী শিবিরে মোদির কোনো একজন বিকল্প খুঁজে পাওয়া গেল না।

২০১৪ সালে মোদি ক্ষমতায় আসার তিন বছর অতিবাহিত হওয়ার পর তাঁর বিরুদ্ধে অসন্তোষ দেখা দিয়েছিল। কিন্তু মোদি ও অমিত শাহ এমন এক কৌশল রচনা করলেন যেখানে এই অসন্তোষ নির্মূল হয়ে গেল। পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ‘বালাকোট আক্রমণ’ পরিস্থিতি আরো বদলে দিল। মোদির ব্র্যান্ড ইকুইটির সঙ্গে মিশে গেল হিন্দু রাষ্ট্রবাদ। মানুষ এক শক্তিশালী রাষ্ট্র গঠনের স্বপ্ন দেখতে শুরু করল।

কংগ্রেস নেতা পৃত্থীরাজ চৌহানের বক্তব্য, মোদি ও বিজেপি রাজনীতিতে ধর্মের যে মেরুকরণ করেছে, তার ফায়দা পেয়েছে ওরা। কিন্তু কংগ্রেস এ কথা বললেও বিজেপি নেতাদের বক্তব্য, উত্তর প্রদেশের মতো রাজ্যেও সমাজবাদী পার্টি ও বহুজন সমাজ পার্টির বোঝাপড়া হয়েছিল জাতপাতের ভিত্তিতে যাতে ভোট হয়। দলিত, মুসলিম, যাদব, জাট—সব ভোট যাতে একত্রিত হয়ে যায়। কিন্তু সেটা হয়নি। এত বছর ধরে জাতপাতের ভিত্তিতে যে ভোট হয়েছে তার অনেকটাই ভেঙে গেছে। মোদির ভাবমূর্তির কাছে এই জাতপাতের ভোট রাজনীতি পরাস্ত হয়েছে।

রাহুল গান্ধী নিজে কেরালা থেকে জিতলেও আমেথি থেকে হেরে গেছেন। তিনি সাংবাদিক বৈঠক করে মোদিকে অভিনন্দন জানালেন। এমনকি ভোটের ফল বেরোনোর আগেই আমেথির আসনে বিজেপির প্রার্থী স্মৃতি ইরানিকে অভিনন্দন জানালেন রাহুল।

বিডি২৪লাইভ/এসএএস

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য: