প্রচ্ছদ / জাতীয় / বিস্তারিত

বাজেট যে কোন দেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ: অর্থমন্ত্রী

২৪ মে ২০১৯ , ০৭:৫৬:০০

ছবি: প্রতিনিধি

অর্থমন্ত্রী মন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেছেন -বাজেট যে কোন দেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ, একটি বার্ষিক দলিল যাতে রাষ্ট্রের আয়-ব্যয়ের পরিকল্পনা থাকে। সামনেই আসছে আমাদের বাজেট উপস্থাপন, আশা করা যায় আগামী জুন ১৩, ২০১৯ যেটি জাতীয় সংসদে উপস্থাপিত হবে। এবারের বাজেটটি হবে একটি স্মার্ট বাজেট।

বাজেট বক্তব্যের আকার গতানুগতিক বিশাল সাইজের থাকছে না। হবে সংক্ষিপ্ত এবং টু-দ্য পয়েন্ট। তাই বলে বাজেটের আকার ছোট হবেনা বরং যে কোন সময়ের তুলনায় এটি হবে রেকর্ড বাজেট। ২৪ মে শুক্রবার বিকালে কুমিল্লার লালমাই উপজেলার বাগমারা উচ্চবিদ্যালয় মাঠে লালমাই উপজেলা আওয়ামীলীগ আয়োজিত ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথির এ কথা বলেন।

অর্থমন্ত্রী লোটাস কামাল বলেন- ২০১৯-২০ অর্থবছরের নতুন বাজেটে থাকবে নতুন নতুন উদ্যোগ। আগামী বাজেটে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শততম জন্মবার্ষিকী পালনের প্রতিফলন থাকবে। তবে বেশি মনোযোগ থাকবে নির্বাচনি ইশতেহার অনুযায়ী ‘আমার গ্রাম আমার শহর’ ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির দিকে। ইশতেহারের ঘোষণা অনুযায়ী, গ্রামকে পরিকল্পিতভাবে গড়ে তোলা হবে। যেখানে ইন্টারনেট, বিদ্যুৎ, গ্যাসসহ সব ধরনের নাগরিক সুবিধা পৌঁছে দেওয়া হবে।

ধানের দাম নিয়ে সমস্যা বিষয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, একটা সময় ছিল যখন সারা বিশ্বে খাদ্যের জন্য হাহাকার ছিল। কিন্তু বর্তমানে সারা বিশ্বেই খাদ্যের উৎপাদন অনেকগুন বেড়ে গিয়েছে। আল্লাহর রহমতে এ বছর আমরা অনেক বেশি খাদ্যশস্য উৎপাদন করতে পেরেছি। আমাদের যেমন বেশি উৎপাদন হয়েছে, আশপাশের দেশেও খাদ্যশস্যের উৎপাদন অনেক বেড়েছে। বাইরে যদি চাহিদা থাকত, তাহলে আমরা রপ্তানি করতে পারতাম। বাইরেও সেইভাবে চাহিদা নেই। চলতি বছর ধান উৎপাদন বেশি হয়েছে।

কিন্তু এখন চালের দাম আন্তর্জাতিক বাজারেও কম। যার কারণে ধানের দাম নিয়ে কিছু সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে। আমাদের কৃষককে বাঁচাতে হবে। সরকারের পক্ষ থেকে চাল আমদানি পুরোপুরি বন্ধ করতে না পারলেও, নিরুৎসাহিত করে সীমিতকরণ করতে পারি। ইতিমধ্যে সে লক্ষ্যে আমরা চাল আমদানি নিরুৎসাহিত করতে বিদ্যমান শুল্ক ২৮ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৫৫ শতাংশে উন্নীত করেছি। এ সিদ্ধান্তে চাল আমদানি নিরুত্সাহিত হওয়ার মাধ্যমে দেশের কৃষকরা আর্থিক ক্ষতির হাত থেকে কিছুটা রেহাই পাবেন। পাশাপাশি চাল রপ্তানির দিকেও আমাদের জোর দিতে হবে। প্রয়োজনে ভর্তুকি দিয়ে হলেও চাল রপ্তানির পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

সবজীর উৎপাদনও আমাদের অনেক হচ্ছিল। কৃষকরা দাম পাচ্ছিল না এবং এগুলো পচে যাচ্ছিল। আমরা রপ্তানির ব্যবস্থা করলাম। রপ্তানি খরচ দিতে পারে না বলে আমরা সেখানে ভর্তুকি দিচ্ছি। ভর্তুকি দিয়ে আমরা সেই কাজটি করছি। এর কারণে সবজি উৎপাদনে বাংলাদেশ এখন চার নম্বরে। রপ্তানি করার কারণে এর বাড়তি চাহিদা তৈরি হয়েছে। সবজিতে অন্তত দামটা পাচ্ছে কৃষকরা। একইভাবে চালও ভর্তুকি দিয়ে রপ্তানি করা যেতে পারে।

মাননীয় অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল আরও বলেন, আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী অত্যন্ত সুদূর প্রসারী চিন্তাভাবনা করেন এবং এই সকল বিষয়ে তিনি অত্যন্ত বিচক্ষণ। সেই ১৯৯৬ সালে তিনি কৃষিখাতে ১০০ কোটি টাকা ভর্তুকি নেওয়ার যে সাহস করেছিলেন, তখন বিষয়টি সত্যই অকল্পনীয় ছিল, কিন্তু তার সুফল এখন আমরা ভোগ করছি।

শুধু সবজি নয়, যে বছর যে পণ্য বেশি উৎপাদন হবে, সেগুলোও রপ্তানির ব্যবস্থা করা হবে। তাহলে চাহিদা ও জোগানের মধ্যে ব্যবধানটা হবে না। ন্যায্য দামটা কৃষক পাবেন। প্রান্তিক কৃষকের লোকসানের হাত থেকে রক্ষায় দেশের বিভিন্ন স্থানে জেলা ও উপজেলায় প্রশাসনের উদ্যোগে সরকার নির্ধারিত মূল্যে সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে ধান সংগ্রহ করা শুরু হয়েছে। এতেও কৃষকের ক্ষতি কিছুটা পুষিয়ে নেয়া সম্ভব হবে।

বর্তমান উন্নয়ন বান্ধব সরকার দেশের অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখতে প্রয়োজনীয় কোন পদক্ষেপ নিতেই পিছপা হবেনা।

আপনারা জানেন, কুমিল্লা থেকে ঢাকার যাতায়াত সময় পৌনে দুই ঘণ্টার মতো হলেও কখনো কখনো এ যাত্রায় নয় থেকে দশ ঘণ্টাও লেগে যায়। এর কারণ ছিল- অতিরিক্ত যানবাহন আর চার লেনের ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে দুই লেনের মেঘনা ও গোমতী সেতুর নির্মাণ কাজ।

অবশেষে এ ভোগান্তির অবসান করতে আগামীকালই (২৫ মে, শনিবার) মুন্সিগঞ্জের গজারিয়ায় মেঘনা নদীর ওপর নির্মিত দ্বিতীয় মেঘনা সেতু ও কুমিল্লার দাউদকান্দিতে গোমতী নদীর ওপর নির্মিত দ্বিতীয় গোমতী সেতু খুলে দেওয়া হবে। যেটি কুমিল্লাবাসীর জন্য তথা বাংলাদেশের ‘লাইফ লাইন’ হিসেবে পরিচিত ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে চলাচলকারী সকলের জন্য অত্যন্ত সুখবর। আর এই সেতু দু’টি খুলে দিলে ঈদুল ফিতরে ঘরমুখী মানুষের যাত্রা অনেকটা যানজটমুক্ত এবং স্বস্তিদায়ক হবে আশা করা যায়। আর আমাদের অর্থনীতিকে করবে আরও গতিশীল।

কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য আব্দুল হামিদের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন লালমাই উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আব্দুল মালেক বি কম, সদর দক্ষিণ উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান গোলাম সারোয়ার এবং আওয়ামী লীগ, কৃষকলীগ, মহিলা আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, ছাত্রলীগসহ দলীয় সকল সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।

বিডি২৪লাইভ/এইচকে

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য: