প্রচ্ছদ / জেলার খবর / বিস্তারিত

অযত্ন-অবহেলায় ‘কুঁজা রাজার’ আম বাগান

প্রকাশিত: ০৪:৫০ অপরাহ্ণ, ২৫ মে ২০১৯

চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার কানসাটের ঐহিত্যবাহী ‘কুজা রাজার আমবাগান’ নামে পরিচিত বাগানটি সঠিক পরিচর্যার অভাবে ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। এছাড়া আমবাগানের গাছগুলো বিভিন্ন জায়গায় মরে পড়ে রয়েছে। কিছু কিছু গাছ নষ্ট হওয়ার পথে।

গত ২০১৬ সালে ৩ বছরের জন্য বাগানটি প্রায় ৫৪ লাখ টাকায় টেন্ডার নেন পারকানসাট এলাকার সোহবুল ইসলাম নামে এক আম ব্যবসায়ী। তবে চলতি মৌসুমে বাগানের প্রায় ২ হাজার ৫শ গাছের আম বিক্রি করা হয়েছে মাত্র ৫৫ হাজার টাকায়। গত মঙ্গলবার প্রকাশ্যে নিলাম ডাকের মাধ্যমে আম গাছগুলো চলতি মৌসুমের জন্য বিক্রি করা হয়।

বিষয়টি নিশ্চিত করে কানসাট ইউনিয়ন ভূমি অফিসের তহশিলদার নুরুল ইসলাম জানান, ‘কানসাটের কুজা রাজার বাগানের প্রায় ২ হাজার ৫শ গাছের আম প্রকাশ্যে নিলামে ৫৫ হাজার টাকায় বিক্রি করা হয়েছে। সর্বোচ্চ মূল্যে বাগানটি ক্রয় করেন স্থানীয় আম ব্যবসায়ী আবদুল আলিম।’

জানা গেছে, কানসাট মৌজার পারকানসাট ও মোবারকপুর ইউনিয়নের শিকারপুর মৌজায় প্রায় ৩২.৯৮ একর জমি রয়েছে। সেখানে ছোট-বড়সহ সব মিলিয়ে প্রায় আড়াই হাজার আমগাছ রয়েছে। তবে পাকিস্তানি আমলেরও বেশকিছু আমগাছ এখনও টিকে রয়েছে। বাগানটি সঠিক পরিচর্যাসহ দেখভালের অভাবে ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। মরে পড়ে আছে অনেক গাছ।

বাগানটির পাহারাদার সাইদুর রহমান জানান, ১৯৪০ সালের আগ পর্যন্ত বিশাল এই বাগানটির মালিকানায় ছিল ব্রিটিশ আমলের ইংরেজদের। দেশ ভাগের পর ব্রিটিশরা বাগানটি তৎকালিন কানসাট এলাকার জমিদার হিসেবে পরিচিত ‘কুজা রাজা’র কাছে বিক্রি করে দেন। বাগানটি কিছুদিন ভোগের পর ‘কুজা রাজা’ তার সকল সম্পদ ছেড়ে দিয়ে ভারতে চলে যাওয়ায় কোন মালিক না থাকায় সরকারের নিয়ন্ত্রণে চলে যায় বিশাল এই বাগান। 

তখন থেকেই সরকারিভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হয় ‘কুজা রাজা’ নামে পরিচিত এই বাগানটি। ১৯৬৬ সালে বাগানটি পরিচর্যা ও দেখাশোনার দায়িত্ব পায় ঢাকার হর্টিকালচার। ওই সময় বাগানে অনেক ছোট-ছোট আমগাছ রোপণ করা হয়। এরপর প্রায় ৫ থেকে ৬ বছর থাকার পর ঢাকার হর্টিকালচার আমবাগান ছেড়ে চলে যায়। তখন থেকেই চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কার্যালয় বাগানটি দেখাশোনা করেন। কিন্তু জেলা প্রশাসনের সঠিক তদারকি না থাকায় ধ্বংস হতে থাকে বাগানটি। 

আমবাগানের পার্শ্ববর্তী বাসিন্দারা অভিযোগ করে জানান, ‘প্রশাসনের গাফলতির কারণে বিশাল এই বাগানটি আজ ধ্বংস হতে চলেছে। এক শ্রেণির অসাধু ব্যক্তিরা রাতের আধারে বাগানের আমগাছ কেটে নিয়ে যান বলে জানান তারা। এছাড়া সময় মত বাগানটি পরিচর্যা না করায় অনেক গাছ মরে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।’ যদি বাগানটি সঠিকভাবে পরিচর্যা করা হয়, তবে আগের যৌবনে ফিরে আসবে ঐতিহ্যবাহী এই কুজা রাজার বাগান। 

এতে সরকারের রাজস্ব আয় হবে কোটি কোটি টাকা। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, প্রশাসন যদি বাগানটি আম মৌসুমের আগে নিলামে বিক্রি করে তবে বিপুল পরিমাণ টাকা আয় করা সম্ভব।

এ বিষয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রশাসক এজেডএম নূরুল হক জানান, ‘বর্তমান সময়ে আমের মূল্য না পাওয়ায় কেউ বাগান লীজ নিতে চায় নি। তবে আগামী মৌসুমের আগেই লীজ দেয়ার আশ্বাস প্রদান করেন। তিনি আরো জানান, ‘কুজা রাজা’র বৃহৎ বাগানটি শিগগিরই পরিদর্শন করে রক্ষণাবেক্ষণের ব্যবস্থা নেয়া হবে।  

বিডি২৪লাইভ/আরআই

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য: