প্রচ্ছদ / রাজনীতি / বিস্তারিত

ঐক্যরক্ষা করতে জনগণের ঐক্যর বিকল্প নেই

প্রকাশিত: ১২:২০ পূর্বাহ্ণ, ২৬ মে ২০১৯

জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা ও গণফোরামের সভাপতি ড. কামাল হোসেন বলেছেন, দেশের জনগণকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। সংবিধানকে সমুন্নত রাখতে হবে, সংবিধান দেশের মৌলিক আইন, সংবিধানকে যদি আমরা সমর্থন করি তাহলে এটাকে সমুন্নত রাখতে আমরা বাধ্য। 

তিনি বলেন, গণতন্ত্রের পক্ষেও আমরা একটা ঐক্য বজায় রাখবো। ঐক্যবদ্ধ শক্তিকে নিয়েই দেশে আমরা প্রকৃত অর্থে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে পারবো। 

শনিবার (২৫ মে) সন্ধ্যায় সুপ্রিম কোর্ট বার মিলনায়তনে আলোচনা সভা ও ইফতার মাহফিলে তিনি এসকল কথা বলেন।

‘মুক্তিযুদ্ধের স্বপ্ন বাস্তবায়নে, মুক্তির লড়াইয়ে ঐক্যবদ্ধ হোন, কল্যান রাষ্ট্র গড়ে তুলুন’ শীর্ষক আলোচনা সভা ও ইফতার মাহফিলের আয়োজন করে নাগরিক ঐক্য। সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে ড. কামাল হোসেন বলেন, ইতিহাস বলে বাংলাদেশের এমন কোনো সমস্যা নাই যে জনগণ ঐক্যবদ্ধ হলে সমাধান করা যায় নাই। আমরা অনেক কঠিন সময় দেখেছি। স্বাধীনতা অর্জনের মধ্য দিয়ে আমরা অসম্ভবকে সম্ভব করেছি। দেশ স্বাধীন করতে পেরেছি। অসম্ভবকে সম্ভব করা যায় এটা আমরা বার বার প্রমাণ করেছি। আমরা যখনই একটা লক্ষ্য নিয়ে ঐক্যবদ্ধ হয়েছি, তখনই আমরা জয়ী হয়েছি। আমাদের লক্ষ্য, সংবিধান অনুযায়ী দেশ শাসন হোক, গণতন্ত্র থাকুক। এটা আমরা সবাই চাই। স্বাধীনতা রক্ষা করতে হলে, স্বাধীনতার ফসল সকলের ঘরে ঘরে যদি পৌছাতে হয়, তাহলে জনগণের ঐক্য অপরিহার্য।

তিনি আরও বলেন, সংবিধান হলো মৌলিক আইন এই আইন যদি মানি তাহলে মৌলিক অধিকার রক্ষা করা সম্ভব। জনগণ যদি ঐক্যবদ্ধ হয় তাহলে সব করা বম্ভব। ঐক্যরক্ষা করতে হলে জনগণের ঐক্যর কোন বিকল্প নেই। 

দেশের এই প্রবীণ আইনজ্ঞ ও সংবিধান প্রণেতা বলেন, বহুদলীয় গণতন্ত্র হতে পারে কিছু মৌলিক বিষয়ে ঐক্যমতের ভিত্তিতে। আমাদের বিভিন্ন মত, বিভিন্ন বিষয় থাকতে পারে, কিন্তু দেশের জনগণ সকল ক্ষমতার মালিক, এটা নিয়ে দ্বিমতের কোনো অবকাশ নেই। কেনোনা স্বাধীনতাই থাকে না এটা আমরা যদি না মানি। জনগণ তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ করবে তাদের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের মাধ্যমে। নির্বাচনের অর্থ হবে অবাধ নিরপেক্ষ নির্বাচন। নির্বাচনের মধ্যে ত্রুটি থাকলে যারা নির্বাচিত হবে তারা জনগণের প্রতিনিধি দাবি করতে পারবে না। সেটা না করতে পারলে আমি বলবো স্বাধীন দেশের যে বৈশিষ্টা সেটাই হারিয়ে ফেলবো। স্বাধীন দেশ শাসন করবে, যারা অবাধ নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্য দিয়ে সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করে। 

উপস্থিত বিভিন্ন দলের নেতাদের উদেশ্য করে তিনি বলেন, সবাই ঐক্যবদ্ধ থাকেন সংবিধানকে সমুন্নত রেখে। সংবিধানের প্রতিশ্রুতি, নির্ভেজাল গণতন্ত্র, মানুষের মৌলিক অধিকার, এ সবগুলো আমরা নিশ্চিত করবো ঐক্যবদ্ধ হয়ে।

আলোচনা সভা ও ইফতার মাহফিলে আরও উপস্থিত ছিলেন, বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না, বিপ্লবী ওয়াকার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক কমরেড সাইফুল হক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের প্রধান ড. আসিফ নজরুল, গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক ড. রেজা কিবরিয়া, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আব্দুস সালাম, গণফোরামের ১ নম্বর সদস্য মস্তফা মহসীন মন্টু, গণফোরামের নির্বাহী সভাপতি সুব্রত চৌধুরী প্রমুখ। 

বিডি২৪লাইভ/আরআই

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য: