প্রচ্ছদ / সারাবিশ্ব / বিস্তারিত

ডিম চাওয়ায় শিশুর প্যান্টের ভেতর ঢালা হলো গরম খিচুড়ি!

প্রকাশিত: ১২:২৬ পূর্বাহ্ণ, ২৬ মে ২০১৯

ছবি: ইন্টারনেট

অমানবিকতা, নৃশংসতার মতো শব্দগুলিও যেন ছোট হয়ে যায় এই ঘটনার কাছে। অঙ্গনওয়াড়িতে দেওয়া খিচুড়ির সঙ্গে একটা ডিম বেশি চেয়েছিল তিন বছরের ছোট্ট শিশু। সেটাই নাকি অপরাধ। আর সেই অপরাধের শাস্তিস্বরূপ শিশুর প্যান্টের ভিতর গরম খিচুড়ি ঢেলে দেওয়ার অভিযোগ উঠল অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীর বিরুদ্ধে।

ঘটনাটি ঘটেছে মুর্শিদাবাদের রঘুনাথগঞ্জের খিদিরপুরে। জানা গিয়েছে, অত্যন্ত আশঙ্কাজনক অবস্থায় শিশুটি জঙ্গিপুর মহকুমা হাসপাতালে ভরতি রয়েছে। পুলিশ ইতিমধ্যেই অঙ্গনওয়াড়ির শিক্ষক এবং কর্মীদের জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে।

পুলিশ ও শিশুটির পরিবার সূত্রে খবর, কাকভোরে ঘুম থেকে উঠে পড়েছিল৷ সেভাবে কিছুই খাওয়া হয়নি৷ অভ্যাসের বশে কাঁধে ব্যাগ এবং হাতে কৌটো নিয়ে রওনা হয়েছিল স্কুলের উদ্দেশ্যে৷ বছর তিনেকের খুদে স্কুলে গিয়ে বই খুলে বসেছিল৷ কিন্তু বুঝতে পারে খিদে পেয়েছে৷ অঙ্গনওয়াড়ির নির্দিষ্ট সময় অনুযায়ী খিচুড়ি পেয়েছিল শিশুটি৷ মিলেছিল একটি ডিম৷ কিন্তু তাতে মন ভরেনি তার৷ তাই আরেকটি ডিম চায়৷ কিন্তু শিশুর দাবি শুনে চটে যায় অঙ্গনওয়াড়ির এক কর্মী৷ অভিযোগ, ওই মহিলা শিশুর প্যান্টের ভিতর খিচুড়ি ঢেলে দেয়৷ শরীরে নিম্নাংশ প্রায় সম্পূর্ণই পুড়ে যায় তার৷

সাধারণত সকাল ৯টায় ছুটি হয় মুর্শিদাবাদের রঘুনাথগঞ্জের অঙ্গনওয়াড়িতে৷ শিশুটিকে তাঁর মা অঙ্গনওয়াড়িতে দেওয়া-নেওয়া করেন৷ কিন্তু এদিন বেশ কিছুটা আগেই কাঁদতে কাঁদতে বাড়ি ফিরে আসে একরত্তি৷ দুচোখে পানি ভরে গিয়েছে তার৷ প্রথমে কিছুই বাড়িতে বলতে চায়নি সে৷ এরপর খুদে আধো আধো গলায় মাকে বলেন, ‘এক দিদিমণি তার প্যান্টে গরম খিচুড়ি ঢেলে দিয়েছে৷’ একথা শুনেই অঙ্গনওয়াড়িতে ছুটে যান শিশুর পরিজনেরা৷ তবে তখন শিক্ষিকারা এই ঘটনায় কোনও সদুত্তর দিতে পারেননি৷

তড়িঘড়ি শিশুকে কোলে নিয়ে জঙ্গিপুর মহকুমা হাসপাতালে ছুটে যান তাঁরা৷ সেখানেই আপাতত ভরতি রয়েছে সে৷ খুদের নিম্নাংশ প্রায় পুরোটাই পুড়ে গিয়েছে৷ এই ঘটনায় ওই অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীর বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে৷ পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে৷ ইতিমধ্যে অঙ্গনওয়াড়ির শিক্ষক এবং কর্মীদের জিজ্ঞাসাবাদ শুরু হয়েছে৷ এই ঘটনাটি যে শুনছেন, সেই শিউরে উঠেছেন৷ কীভাবে একজন মহিলা এমন নৃশংস কাণ্ড ঘটাতে পারে, তা নিয়েই চলছে জোর আলোচনা৷

বিডি২৪লাইভ/এআইআর

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য: