প্রচ্ছদ / সারাবিশ্ব / বিস্তারিত

আটকে গেল রাহুল মমতার পদত্যাগ

২৬ মে ২০১৯ , ০৯:০৮:০০

ছবি: ইন্টারনেট থেকে নেয়া।

লোকসভা নির্বাচনে দলের বিপর্যয়ের পর কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধী ও তৃণমূল কংগ্রেসের প্রধান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেদের পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছিলেন। তাদের এমন ঘোষণাকে মেনে নেননি দলের সদস্যরা।

পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী পদ থেকে ইস্তফা দিয়ে দলের দায়িত্বে ফিরে যেতে চেয়েছিলেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু দুজনের ক্ষেত্রেই তা হতে দেননি দলের নেতারা। রাহুলের পেছনেও এসে দাঁড়িয়েছে দল, মমতার পাশেও এসে দাঁড়িয়েছেন দলীয় নেতারা। নির্বাচনের ফল নিয়ে দিল্লিতে বৈঠকে বসেছিল কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটি।

লোকসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর দলের সাফল্য-ব্যর্থতা পর্যালোচনায় শনিবার বৈঠকে বসেছিলেন তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখানেই তিনি তার হতাশা ব্যক্ত করে মুখ্যমন্ত্রী পদ থেকে সরে দাঁড়াতে চেয়েছিলেন। পরে সাংবাদিকদের সঙ্গে বৈঠকে সে কথা জানিয়ে তৃণমূল নেত্রী বলেছেন, পাঁচ মাস আমাকে কাজ করতে দেয়া হয়নি। তিন মাস ধরে নির্বাচন চলছে। তার আগে দুমাস ধরে প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণ হাতে নিয়েছিল কমিশন। অপমানিত বোধ করছি। এই পরিবেশে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে থাকতে চাই না, দলের সভানেত্রী থাকতে চাই। সেই সঙ্গে তিনি বলেছেন, চেয়ার আমার কাছে কিছু নয়। আগেও অনেকবার ছেড়ে এসেছি। মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে কাজ করার মানসিকতা নেই। বৈঠকে তিনি বলেন, মুখ্যমন্ত্রীর পদ ছেড়ে দেবার কথা দলকে সারাদিন ধরে বোঝানোর চেষ্টা করেছি। তবে দল কিছুতেই তা মেনে নেয়নি বলে তিনি নিজেই জানিয়েছেন।

আর কলকাতায় কালীঘাটের বাড়িতে নির্বাচনী ফল পর্যালোচনা বৈঠকে বসেছিলেন মমতা। নির্বাচনে পরাজয়ের দায় মাথায় নিয়ে শনিবার কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠকে রাহুল গান্ধী সভাপতির পদ থেকে ইস্তফা দেবার ইচ্ছে প্রকাশ করেছিলেন। দলের সব নেতারা তা খারিজ করে দিয়েছেন। দল শেষ পর্যন্ত আস্থা রেখেছে রাহুল গান্ধীর উপরেই। তাকে আরও বেশি ক্ষমতা দেয়া হয়েছে দলকে শক্তিশালী করতে। এ অবস্থায় নেতাদের আবেগে আটকে গেলো রাহুল ও মমতার পদত্যাগ।

অন্য দিকে, লোকসভার নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর থেকেই রাহুলের ইস্তফা নিয়ে জল্পনা ছিল তুঙ্গে। এদিনের ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠকে সোনিয়া গান্ধী, রাহুল, প্রিয়াঙ্কা, মনমোহন সিংহসহ দলের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকের পর সাংবাদিক বৈঠকে কংগ্রেসের মুখপাত্র রণদীপ সুরজেওয়ালা বলেছেন, রাহুল গান্ধী দায় স্বীকার করে পদত্যাগ করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু সর্বসম্মতিভাবে সেই প্রস্তাব খারিজ করে দিয়েছে ওয়ার্কি কমিটি। তিনি জানিয়েছেন, কমিটির সবাই সহমত প্রকাশ করে বলেছেন, চ্যালেঞ্জিং পরিস্থিতিতে রাহুলের নেতৃত্ব দরকার। যুবক, কৃষক, মহিলা ও পিছিয়ে পড়া, সংখ্যালঘু, শোষিতদের সমস্যার সমাধানে তাকে এগিয়ে যেতে হবে। কংগ্রেস সভাপতি সংগঠনের আমূল পরিবর্তন ও বিস্তৃত করুন। এদিনে সাংবাদিক বৈঠকেও কংগ্রেস নেতারা রাহুলের পক্ষ নিয়ে একের পর এক ওকালতি করে গেছেন। গুলাম নবি আজাদ বলেছেন, হারজিত থাকে। কিন্তু সামনে থেকে লড়াই করেছেন রাহুল। তিনি নেতৃত্ব দিয়েছেন। মানুষের মনে বিশ্বাস তৈরি করতে সক্ষম হয়েছেন।

বিডি২৪লাইভ/এএস

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য: