প্রচ্ছদ / জেলার খবর / বিস্তারিত

ভূমধ্যসাগরে ১১ ঘণ্টা ভেসে থাকা বিলালের রোমহর্ষক বর্ণনা

প্রকাশিত: ১০:১৪ অপরাহ্ণ, ২৬ মে ২০১৯

গত শুক্রবার ভূমধ্যসাগরের লিবিয়া উপকূল থেকে ২৯০ জন অভিবাসীকে উদ্ধার করেছে দেশটির নৌবাহিনী। এসব অভিবাসীদের মধ্যে ১৪ জন বাংলাদেশি আছেন বলে জানা যায়। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইউরোপগামী তিনটি নৌকা থেকে এই অভিবাসীদের উদ্ধার করা হয়েছে।

এর আগে অবৈধপথে ইতালি পাড়ি দিতে গিয়ে তিউনিসিয়া উপকূলে নৌকাডুবিতে সলিল সমাধি হয় ফেঞ্চুগঞ্জের আহমদ, লিটন ও আজিজসহ দেশের অন্তত ৩৯ জন। ভাগ্যক্রমে বেঁচে যাওয়া যুবকরা এখন দেশে ফিরতে শুরু করেছেন।

রোববার (২৬ মে) দুপুরে দেশে ফেরা বিলাল আহমদের সঙ্গে কথা হয় গণমাধ্যমের সঙ্গে। তিনি বলেন, নিজে বেঁচে ফিরলেও তার চোখের সামনে আপন ভাগ্নে আহমদ হোসেন, দুই ভাতিজা আব্দুল আজিজ ও লিটন আহমেদ সাগরে ডুবে মারা যান। তাদেরকে চোখের সামনে ডুবে যেতে দেখেছেন তিনি। ভাগ্যক্রমে ১১ ঘণ্টা সাগরের পানিতে ভেসে থেকে বেঁচে যান বিলাল। এই দুঃসহ স্মৃতি তাকে এখনো তাড়া করছে। ইচ্ছা করলেও তিনি স্বাভাবিক জীবন শুরু করতে পারছেন না।

বিলাল বলেন, ‘দালালচক্র ভারত, শ্রীলঙ্কা, কাতার হয়ে তাদের নিয়ে যায় লিবিয়ায়। লিবিয়ায় জিম্মি করে কয়েক মাস চলে নির্যাতন। পাসপোর্ট ছিনিয়ে নিয়ে বন্ধ করে দেয়া হয় দেশে ফিরে আসার পথও। অবশেষে প্রতিজনের পরিবারের কাছ থেকে চুক্তির ৮ লাখ টাকা আদায়ের পর আরও কয়েক লাখ টাকা আদায় করে ইতালির উদ্দেশ্যে তাদের তুলে দেয়া হয় রাবারের নৌকায়। অল্পদূরে গিয়েই ডুবে যায় তাদের বহনকারী নৌকাটি।’

বিলাল কান্না জড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘লিবিয়ায় আরো অন্তত ২শ বাংলাদেশি তরুণকে এই পথে ইতালি পাঠাতে জড়ো করে রেখেছে পাচারকারী চক্র। অতিরিক্ত টাকার জন্য চালাচ্ছে নির্যাতন। চুক্তি অনুযায়ী দালালরা কথা রাখেননি। তারা ইতালিতে পাঠানোর লোভ দেখিয়ে আসলে লিবিয়ার দালালদের কাছে তাদের বিক্রি করছে।’

বিলাল বলেন, ‘এখন দাবি একটাই। আর সেটি হচ্ছে এই দালাল চক্রের কঠোর শাস্তি।’ পাশাপাশি লোভে কেউ যেন দালালদের প্রতারণায় না পড়েন এই আহ্বানও তিনি।

বিডি২৪লাইভ/আরআই

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য: