স্বরনশক্তি বৃদ্ধি করবেন যেভাবে

প্রকাশিত: ১১:৪৩ পূর্বাহ্ণ, ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৫



অনেকেই শর্ট টাইম ম্যমরি বা স্বল্প স্মৃতির কথা বলে থাকেন, যারা কোন কিছুই পুঙ্খানুপুঙ্খ ভাবে মনে রাখতে পারে না। আবার কিছু লোক চমৎকারভাবে কোনো ঘটনা বা বিষয়বস্তুর পুঙ্খানুপুঙ্খ ঘটনা মনে রাখতে পারে। কেউ কেউ খুব সহজ বিষয়ও সহজে আয়ত্ত্ব করতে পারে না। অনেকেই আবার খুব সহজেই শিখে নিচ্ছে নতুন ও জটিল কিছু। অনেকেই আক্ষেপ করে বলে থাকে আমার স্মরণশক্তি খুব কম!আসলে সবার স্মরণশক্তি একরকম হয়না, কারণ সবার মস্তিষ্কের গঠন একরকম নয়। আমাদের বাহ্যিক দিকে যেমন একেক জনের চেহারা বা আকৃতি একে অপরের চেয়ে আলাদা, ঠিক তেমনি আমাদের মস্তিষ্কের গঠন আলাদা। তবে যখন স্বরন শক্তির কথা আসে তখন বলা যায় যে কিছু কিছু কৌশল গত বিষয় অবলম্বন করে আপনিও বাড়াতে পাড়েন আপনার স্বরনশক্তি।

কৌশল ব্যায়াম:
শুধু মাত্র শরিরের ওজন কমানো আর শরীরকে সুস্থ রাখতেই ব্যায়াম নয় বরং মস্তিষ্ককে সচল রাখতেও ব্যায়ামের প্রয়োজনীয়তা আছে। অতিরিক্ত ওজন ব্রেইনের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। নিয়মিত ব্যায়াম না করলে কিংবা শরীরের অঙ্গপ্রত্যঙ্গগুলো সচল থাকে না ফলে রক্তবাহী নালীগুলোতে চর্বি জমে। এতে স্বাভাবিক রক্ত চলাচল ব্যহত হয়। মস্তিষ্কে রক্তের মাধ্যমে অক্সিজেন সরবারাহ বাধাপ্রাপ্ত হয়। যার কারণে মস্তিষ্কের কোষগুলোও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে । তাই নিয়মিত ব্যায়াম করলে শরীরের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গগুলো সক্রিয় থাকে। ফলে, স্বরনশক্তিও বৃদ্ধি পায়।

পরমাণ মতো ঘুমান :
পরমাণ মতো ঘুম মস্তিষ্ককে অধিক কার্যকরী করে তোলে। একজন পূর্ণবয়স্ক মানুষের দৈনিক আট ঘণ্টা ঘুম দরকার। ঘুমকে বলা হয় মেমোরি চার্জার। ঘুমের সময় মেমোরি পরবর্তী স্মৃতি ধরার জন্য প্রস্তুত হয়। তাই নিয়মিত পর্যাপ্ত ঘুমের মাধ্যমে স্মৃতিশক্তি বাড়ানো যেতে পারে।

কমিয়ে ফেলুন মানসিক চাপ:
মানসিক চাপের মধ্যে বিষণ্নতা সবচেয়ে বেশি মস্তিষ্কের ক্ষতি করে। রাগ, ক্ষোভ বা উদ্বেগ ব্রেনকে জন্য স্থবির করে দেয় যা স্মরণশক্তি কমে যাওয়ার ক্ষেত্রে যথেষ্ট প্রভাব ফেলতে পারে। বিষণ্ণতা মনোযোগ দেয়ার ক্ষমতা কমিয়ে ফেলে এবং রক্তে করটিসলের মাত্র বাড়িয়ে দেয়। করটিসেলের মাত্রা বেড়ে গেলে মস্তিষ্কের কার্যকারিতা কমে যায়। তাই বিষণ্ণতাসহ সকল মানসিক চাপ যতদূর সম্ভব কমিয়ে ফেলুন।

জরুরি বিষয়গুলো লিখে রাখুন:
যে বিষয়গুলো স্মৃতিতে রাখতে চান তা লিখে ফেলার অভ্যাস করুন। এর বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যাও আছে। লেখার সময় মস্তিষ্কে অক্সিজেন সমৃদ্ধ রক্তপ্রবাহের পরিমাণ বাড়ে। তাই ডায়রিতে, ইমেইলে বা ব্যক্তিগত ব্লগে কোনো কিছু লিখে রাখার চেষ্টা করুন।
গান শুনুন :
গবেষনায় দেখা গেছে, কিছু ধরণের গান স্মৃতিশক্তি বাড়াতে সহায়তা। কোনো ঘটনার সময় যদি কোনো গান শুনেন তবে পুনরায় সেই গান শোনার সময় সেই ঘটনার আবহের স্মৃতি মস্তিষ্কে জেগে উঠে।

পুষ্টিকর খাবার গ্রহন করুন:
মস্তিষ্কের কার্যকারিতা বাড়ানোর জন্য অবশ্যই ভিটামিনযুক্ত পুষ্টিকর খাবার খেতে হবে। তাজা ফলমূল, গাঢ় সবুজ শাকসবজি, মাছ, মাংস, ডিম, দুধ, গমের রুটি প্রভৃতি প্রোটিন ও মিনারেল সমৃদ্ধ খাবার গ্রহণ করুন। পরিমাণ মতো বিশুদ্ধ পানি পান করুন। প্রচুর চর্বিযুক্ত খাবার পরিহার করুন।

পুষ্টিকর খাবার, ভালো ঘুম, নিয়মিত ব্যায়াম, ও কিছু কৌশলগত দিক অবলম্বন করে বাড়াতে পাড়েন স্বরনশক্তি। আশাকরি এখন থেকে অনেকেই শর্ট টাইম ম্যমরি নিয়ে আর উদ্বিগ্ন না হয়ে সমস্যা সমাধানের দিকে অধিক মনোযোগী হবেন। - সূত্র: লাইফহ্যকার

সম্পাদনা: তাহমিনা শাম্মী

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য: