এ আর রাশেদ

ইবি প্রতিনিধি

জেনে নিন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির অদ্যোপান্ত

   
প্রকাশিত: ১১:৩০ পূর্বাহ্ণ, ৩ সেপ্টেম্বর ২০১৯

ছবি: প্রতিনিধি

স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি)। দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সর্বোচ্চ এই বিদ্যাপীঠে ভর্তির জন্য প্রতিবছর প্রায় লক্ষাধিক ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থী ভর্তি যুদ্ধে অংশগ্রহন করে থাকেন। আর এই ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয় আলাদা কিছু নিয়মের সমন্বয়ে। এখানে দেশীয় শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি বিদেশী শিক্ষার্থীরাও ভর্তির সুযোগ পেয়ে থাকনে।

চলতি বছরের ৪ থেকে ৮ নভেম্বর ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের সস্নাতক (সম্মান) শ্রেণির ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। বিশ^বিদ্যালয়ের আটটি অনুষদের অধীন মোট ৩৪টি বিভাগে ২৩০৫টি আসনের বিপরীতে ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। গত বছরের ন্যায় এবারও ৪টি ইউনিটে এমসিকিউ এর পাশাপাশি লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।

সম্প্রতি এ সংক্রান্ত একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী গত ২ সেপ্টেম্বর থেকে ভর্তি পরীক্ষার আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। যা চলবে আগামী ১ অক্টোবর পর্যন্ত। আববেদন শেষে পরীক্ষার প্রবেশপত্র উত্তোলন করা যাবে ১৬ অক্টোবর থেকে ২ নভেম্বর রাত ১২টা পর্যন্ত। ডাচ্-বাংলা মোবাইল ব্যাংকিং (রকেট) সেবার মাধ্যমে ভর্তি পরীক্ষার আবেদন করতে পারবেন ।

ভর্তিচ্ছুদের জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য তুলে ধরা হলো-

ভর্তি আবেদনের যোগ্যতা:

যে সকল ছাত্র-ছাত্রী ২০১৮ বা ২০১৯ সনের উচ্চ মাধ্যমিক/সমমানের এবং ২০১৪ সন বা তাৎপরবর্তীতে মাধ্যমিক/সমমান পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন কেবলমাত্র তারাই ভর্তি পরীক্ষার জন্য আবেদন করতে পারবেন। ভর্তি নির্দেশিকার শর্তসাপেক্ষে বিভিন্ন কোটায়ও আবেদন করা যাবে।

ইউনিট ভিত্তিক ভর্তি আবেদনের ক্ষেত্রে- ‘এ’, ‘বি’ এবং ‘সি’ ইউনিটে আবেদনের জন্য বিজ্ঞান শাখা থেকে এইচএসসি/সমমান ও এসএসসি/সমমানের পরীক্ষায় চতুর্থ বিষয়সহ নূন্যতম জিপিএ ৭.০০ থাকতে হবে। মানবিক শাখা থেকে নূন্যতম জিপিএ ৬.৫০ এবং বাণিজ্য শাখা থেকে হলে নূন্যতম জিপিএ ৬.৭৫ থাকতে হবে।

এছাড়া ‘ডি’ ইউনিটে ভর্তি আবেদনের ক্ষেত্রে শুধুমাত্র বিজ্ঞান শাখা থেকে উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীরাই ভর্তি আবেদন করতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে তাদের এইচএসসি/সমমান ও এসএসসি/সমমানের পরীক্ষায় চতুর্থ বিষয়সহ নূন্যতম জিপিএ ৭.৭৫ থাকতে হবে।

আবেদনের নিয়ম:

বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইট www.iu.ac.bd/admission অথবা http://iu.bigmsoft.com এ প্রকাশিত নির্দেশিকা এবং নির্দেশিত ধাপসমূহ অনুসরণ করে আবেদন করেত হবে। অনলাইনে ভর্তি আবেদন চলবে ২ সেপ্টেম্বর থেকে ১ অক্টোবর রাত ১২টা পর্যন্ত। অনলাইনে আবেদন শেষে ডাচ্-বাংলা মোবাইল ব্যাংকিং (রকেট) সেবার মাধ্যমে ভর্তি পরীক্ষার আবেদন ফি জমা দিতে হবে। এক্ষেত্রে ‘এ’ ইউনিটে ৫০০ টাকা, ‘বি’ ইউনিটে ১৬০০ টাকা, ‘সি’ ইউনিটে ৮০০ টাকা এবং ‘ডি’ ইউনিটের জন্য ১৩০০ টাকা জমা দিতে হবে। এছাড়া আনুষাঙ্গিক খরচ হবে ২৫ টাকা।

ভর্তি পরীক্ষা:

ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে আগামী ৪ থেকে ৮ নভেম্বর। বিশ^বিদ্যালয়ের আটটি অনুষদের অধীন মোট ৩৪টি বিভাগে ২৩০৫টি আসনের বিপরীতে এ ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। গত বছরের ন্যায় এবারও ৪টি ইউনিটে এমসিকিউ এর পাশাপাশি লিখিত পরীক্ষাও অনুষ্ঠিত হবে। ভর্তি পরীক্ষার সময়সূচী পরবর্তীতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে পাওয়া যাবে।

ভর্তি পরীক্ষার নম্বর নির্ধারণ:

ভর্তি পরীক্ষার মান হবে মোট ১২০ নম্বর। লিখিত পরীক্ষার মান হবে ৮০ নম্বর। লিখিত পরীক্ষার প্রাপ্ত নম্বরের সাথে পরীক্ষার্থীর এসএসসি/সমমান এবং এইচএসসি/সমমান পরীক্ষায় জিপিএ (সর্বোচ্চ ৫+৫=১০ নম্বর) কে ৪ দিয়ে গুন করে প্রাপ্ত নম্বর সর্বাধিক (২০+২০=৪০) নম্বর যোগ করে মেধা তালিকা তৈরি করা হবে। ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে এমসিকিউ পদ্ধতিতে এবং ওএমআর পদ্ধতিতে উত্তর মূল্যায়ন করা হবে। ভূল উত্তরের জন্য শূন্য দশমিক ২৫ নম্বর কাটা যাবে। একজন পরীক্ষার্থী ৮০ নম্বরের মধ্যে ৩২ পেলে কৃতকার্য বলে বিবেচিত হবে।

ইউনিট ভিত্তিক ভর্তি পরীক্ষার নম্বর বণ্টন:

‘এ’ ইউনিটের অধীনে ধর্মতত্ব অনুষদের ৩টি বিভাগ, ‘বি’ ইউনিটের অধীনে কলা ও সমাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ১১টি এবং আইন ও শরীয়াহ অনুষদের ৩টি বিভাগসহ মোট ১৪টি বিভাগ। ‘সি’ ইউনিটের অধীনে ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদের ৬টি বিভাগ এবং ‘ডি’ ইউনিটে অধীনে বিজ্ঞান, প্রকৌশল ও প্রযুক্তি এবং জীব বিজ্ঞান অনুষদভূক্ত ১১টি বিভাগের ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।

‘এ’ ইউনিট: ধর্মতত্ত্ব অনুষদ ভূক্ত ৩টি বিভাগের ভর্তি পরীক্ষায় আরবীতে ১০, আল কুরআনে ১৫, আল হাদীসে ১৫, দাওয়ায় ১০, ইসলামী শিক্ষায় ৫, আল-ফিক্হে ৫, ইসলামের ইতিহাসে ৫, বাংলায় ৫, ইংরেজিতে ৫ এবং সাধারন জ্ঞানে ৫ নম্বর থাকবে।

‘বি’ ইউনিট: কলা ও সমাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ১১টি বিভাগে ভর্তির জন্য বাংলায় ৩০, ইংরেজিতে ৩০, এবং সাধারণ জ্ঞানে ২০ নম্বর থাকবে। এর মধ্যে বাংলা বিভাগে ভর্তির জন্য বাংলা বিষয়ে নূন্যতম ১৮ নম্বর পেতে হবে। ইংরেজি বিভাগে ভর্তির জন্য ইংরেজি বিষয়ে নূন্যতম ১৮ নম্বর পেতে হবে এবং মাধ্যমিক/ সমমান ও উচ্চমাধ্যমিক/ সমমান পরীক্ষায় ইংরেজি বিষয়ে নূন্যতম জিপিএ ৩.৫০ থাকতে হবে। ইসলামের ইতিহাস বিভাগে ভর্তির জন্য ইংরেজি বিষয়ে নূন্যতম ১৩ নম্বর পেতে হবে। এছাড়া আরবী বিভাগে ভর্তির জন্য আরবী ভাষায় দক্ষতা থাকতে হবে।

অর্থনীতি, লোকপ্রশাসন, রাষ্ট্রবিজ্ঞান ও ডেভোলপমেন্ট স্টাডিজ বিভাগে ভর্তির জন্য ইংরেজিতে ৩০, সাধারন জ্ঞানে ৩০ এবং বাংলায় ২০ নম্বর থাকবে। এর মধ্যে অর্থনীতি, লোকপ্রশাসন, রাষ্ট্রবিজ্ঞান ও ডেভোলপমেন্ট স্টাডিজ বিভাগে ভর্তির জন্য ইংরেজিতে নূন্যতম ১২ নম্বর পেতে হবে। সোশ্যাল ওয়েলফেয়ার বিভাগে ভর্তির জন্য ইংরেজিতে নূন্যতম ১৫ নম্বর পেতে হবে।

এছাড়া আইন ও শরীয়াহ অনুষদের ৩টি বিভাগের ভর্তি পরীক্ষায় বাংলায় ৩০, ইংরেজিতে ৩০ এবং সাধারন জ্ঞান ২০ নম্বর থাকবে। আইন ও ল’ অ্যান্ড ল্যান্ড ম্যানেজমেন্ট বিভাগে ভর্তির জন্য ইংরেজিতে নূন্যতম ১৫ নম্বর পেতে হবে। আল ফিক্হ অ্যান্ড লিগ্যাল স্টাডিজ বিভাগে ভর্তির জন্য অবশ্যই আরবী ভাষায় দক্ষতা থাকতে হবে।

‘সি’ ইউনিট: ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদ ভূক্ত ৬ টি বিভাগের ভর্তি পরীক্ষায় ইংরেজি ৪০ বাধ্যতামূলক সকল শাখার জন্য। বাণিজ্য শাখা থেকে আগতদের জন্য ব্যবসায় শিক্ষায় ২০ এবং হিসাব বিজ্ঞানে ২০ নম্বর থাকবে। অন্যান্য শাখা থেকে আগতদের জন্য সাধারণ গণিতে ২০ এবং সাধারণ জ্ঞান ও বুদ্ধিমত্তায় ২০ নম্বর থাকবে। কৃতকার্য হওয়ার জন্য প্রত্যেক শাখার জন্য ইংরেজি বিষয়ে নূন্যতম ১৬ নম্বর পেতে হবে।

‘ডি’ ইউনিট: বিজ্ঞান, প্রকৌশল ও প্রযুক্তি এবং জীব বিজ্ঞান অনুষদভূক্ত ৫টি বিভাগের ভর্তি পরীক্ষায় রসায়নে ৩০, জীব বিজ্ঞান/গনিতে ৩০, পদার্থ বিজ্ঞানে ১০ এবং ইংরেজিতে ১০ নম্বর থাকবে। ফলিত রসায়ন ও কেমিকৌশল বিভাগে ভর্তির জন্য এইচএসসি পর্যায়ে গনিতে জিপিএ-৩.৫ থাকতে হবে এবং রয়াসনে নূন্যতম ১২ নম্বর পেতে হবে।

ফলিত পুষ্টি ও খাদ্য প্রযুক্তি বিভাগ, বায়োটেকনোলজি অ্যান্ড জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ ও ইনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স বিভাগে ভর্তির জন্য উচ্চ মাধ্যমিক/সমমান পর্যায়ে অবশ্যই জীব বিজ্ঞান পঠিত বিষয় হিসেবে থাকতে হবে এবং এমসিকিউ এর জীব বিজ্ঞানে নূন্যতম ১০ পেতে হবে। ফার্মেসি বিভাগে ভর্তির জন্য উচ্চ মাধ্যমিক/সমমান পরীক্ষায় রসায়ন, জীব ও গণিতে জিপিএ-৩.৫ থাকতে হবে এবং এমসিকিউ এর রয়াসন, জীব বিজ্ঞান/গণিতের প্রতিটিতে নূন্যতম ১২ নম্বর পেতে হবে।

ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ, কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ ও ইনফরমেশন অ্যান্ড কমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ভর্তি পরীক্ষায় পদার্থবিজ্ঞান ৪০ এবং গণিতে ৪০ নম্বর থাকবে এবং কৃতকার্য হওয়ার জন্য প্রত্যেক বিষয়ে নূন্যতম ১৪ নম্বর পেতে হবে।

বায়োমেডিকেল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে কৃতকার্য হওয়ার জন্য প্রত্যেক বিষয়ে নূন্যতম ১৪ নম্বর পেতে হবে এবং উচ্চ মাধ্যমিক/সমমান পরীক্ষায় রসায়ন, জীব বিজ্ঞান ও গণিতে জিপিএ-৩.৫ থাকতে হবে। এছাড়া বাকি ২টি বিভাগের ভর্তি পরীক্ষায় গনিতে ৬০ এবং ইংরেজিতে ২০ নম্বর থাকবে। কৃতকার্য হওয়ার জন্য গনিত বিষয়ে নূন্যতম ২৪ নম্বর এবং ইংরেজিতে ৫ নম্বর পেতে হবে।

ভর্তি পরীক্ষা সংক্রান্ত অন্যান্য তথ্যাদি:

ভর্তি পরীক্ষার স্থান, আসন বিন্যাস ও ভর্তি সক্রান্ত তথ্যাদি বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইট (www.iu.ac.bd) অথবা সংশ্লিষ্ট ইউনিটের অফিস থেকে জানা যাবে। প্রতিবছরের ন্যায় এবারও ভর্তি পরীক্ষার সময় এক ঘন্টা। ভর্তি পরীক্ষা শেষের কমপক্ষে তিন দিনের মধ্যে সকল ইউনিটের ফল প্রকাশ করা হবে। ফল প্রকাশের পর ১৬ নভেম্বর থেকে ২৩ ডিসেম্বর ভর্তি কার্যক্রম চলবে। এরপর ভর্তি শেষে ১১ জানুয়ারী থেকে নতুন বর্ষের ক্লাস শুরু হবে।

বিদেশি শিক্ষার্থী ভর্তি: বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রচলিত বিদেশি ছাত্র-ছাত্রী ভর্তির নীতিমাল (ঋড়ৎবরমহ ঝঃঁফবহঃং অফসরংংরড়হ ঙৎফরহধহপব) অনুযায়ী ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষে প্রথম বর্ষ স্নাতক (সম্মান) শ্রেণিতে বিশ^বিদ্যালয়ের আটটি অনুষদের অধীণ ৩৪টি বিভাগেই বিদেশি ছাত্র-ছাত্রী ভর্তি হতে পারবেন। এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইট অথবা ইন্টারন্যাশনাল ফরেন স্টুডেন্ট এ্যাফেয়ার্স সেলের মাধ্যমে জানা যাবে।

এআইআ/এইচি

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য: