প্রচ্ছদ / বিনোদন / বিস্তারিত

ইমরুল নুর

বিনোদন প্রতিবেদক

‌‌‘নিজেকে আরও পরিণত করতে চাই’

   
প্রকাশিত: ৫:৪২ অপরাহ্ণ, ১ জুলাই ২০১৯

মিল্কি রেজা একাধারে একজন নৃত্যশিল্পী, লেখিকা ও অভিনেত্রী। এর বাইরেও তিনি একজন বিতার্কিক। বিতর্ক, উপস্থিত বক্তৃতা, জাতীয় পর্যায়ের অনুষ্ঠান আয়োজন ও পরিচালনায় রয়েছে তার অসাধারণ দক্ষতা। তিনি ন্যাশনাল ডিবেট ফেডারেশন (এনডিএফ) এর সংস্কৃতি বিভাগের পরিচালক হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। এনডিএফ এর ইতিহাসে তিনিই সর্বকনিষ্ঠ ব্যক্তি যিনি এই পদে দায়িত্ব পেয়েছেন।

মাত্র ছয় বছর বয়সে যুক্ত হন নাচের সঙ্গে। তার বাবা মো. মোহসিন রেজা, বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলার শিল্প-সংস্কৃতির একজন পৃষ্ঠপোষক ছিলেন। সে আমলে একটু পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠী হিসেবে চিতলমারী উপজেলায় তেমন কোন নাচের শিক্ষক ছিলেন না। মেয়ের নাচের জন্য বাবা পার্শ্ববর্তী বিভাগীয় শহর খুলনা থেকে নাচের শিক্ষক দিপক দত্তকে নিয়ে এসেছেন। তার কাছেই সপ্তাহে দুদিন নাচ শিখতেন মিল্কি। সেই থেকেই মিল্কি রেজার নাচের পথচলা শুরু।

এরপর বাগেরহাট জেলা শিল্পকলা একাডেমি থেকে ক্লাসিক্যাল ড্যান্সের উপর তালিম নিতে শুরু করেন। দুবছর টানা প্রশিক্ষণ গ্রহণের পর প্রথম প্রতিযোগিতামূলক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করে ২০০২ সালে জাতীয় শিশু পুরস্কার প্রতিযোগিতা অর্জন করেন। ওই প্রতিযোগিতায় তিনি থানা পর্যায়ে বিজয়ী হয়। এরপর নানা সময়ে আয়োজিত বিভিন্ন সরকারী প্রতিযোগিতায় সে জেলা ও বিভাগ সকল পর্যায়েই প্রথম স্থান অর্জন করেন। আর তারই পরিক্রমায় সে ২০১৬ সালে জাতীয় আন্তঃকলেজ পুরস্কার প্রতিযোগিতায় বিজয় লাভ করেন। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী জনাব আসাদুজ্জামান নূর এর উপস্থিতিতে এমেরিটাস অধ্যাপক ডঃ আনিসুজ্জামান এর হাত থেকে গ্রহণ করে স্বর্ণপদক।

নাচের বাইরেও পরিচালনার প্রতি ছিল তার প্রবল আগ্রহ। আর সেই আগ্রহের হাত ধরেই কলেজ পর্যায়ে নির্দেশনা দিয়েছেন নকশী কাঁথার মাঠ, মহুয়া এবং চিত্রাঙ্গদা নৃত্যনাট্যে। তার গল্পভান্ডার অনেকটাই সমৃদ্ধ। এরপর সিসিমপুর সিজন-সিক্স এর লাইভ অ্যাকশনে কাজ করেছেন তিনি। এছাড়াও চ্যানেল আই ও বাংলাভিশনের মতো চ্যানেলের কিছু টেলিফিল্মে সহকারী পরিচালক হিসেবে কাজ করেছেন তিনি।

অভিনয় ও পরিচালনার বাইরে সৃজনশীল লেখালেখির সাথে জড়িত রয়েছেন বহু বছর ধরেই। প্রাতিষ্ঠানিক হাতেখড়ি প্রখ্যাত অভিনেতা ও চ্যানেল আইয়ের নির্মাতা জনাব শহিদুল আলম সাচ্চু এর কাছে। বর্তনামানে যুগান্তর অনলাইনের একজন ফিচার লেখিকার পাশাপাশি তিনি প্রিয়লেখা ডটকম নামক একটা অনলাইন পত্রিকার এডিটর হিসেবে কর্মরত রয়েছেন।

অভিনেত্রী মিল্কি রেজা এখন পর্যন্ত চারটি নাটক ও একটি টেলিফিল্মে অভিনয় করেন। ভালো এবং অর্থবহ কাজের মাধ্যমে নিজের সেরাটা দিয়ে কাজ করে যেতে চান তিনি।

তিনি বলেন, ‘যখন আমি ঠিকমতো কথাও বলতে পারি না, তখন থেকেই আমাকে প্রস্তুত করে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে নিয়ে যাওয়া এবং পুরোটা সময় আমার সাথে থেকে উৎসাহ দেয়ার কাজটা আমার বাবা-মা দুজনেই করেছেন। এছাড়া আমার বড় দুই ভাইয়েরাও আমাকে এ ব্যাপারে পুর্ণাঙ্গ সহযোগিতা করেছেন। আসলে আমাদের সমাজে পরিবারের সহায়তা না পেলে একা একটা মেয়ের পক্ষে কোনদিনই এতদূর আসা সম্ভব হয় না। আমি খুবই সৌভাগ্যবতী যে আমি এমন একটি সংস্কৃতিমনা পরিবার পেয়েছি। যার কারণে নিজের স্বপ্নটুকু পূরণ করতে পেরেছি।’

তিনি আরও বলেন, এখন অভিনয়টাই নিয়মিত করে যেতে চাই। নিজেকে আরও পরিণত করতে চাই। অভিনয়টাকে আমি খুব ভালোবাসি। সেই ছোটবেলা থেকেই পরিবারের সাপোর্ট পেয়েছি। নিজের ইচ্ছাগুলোকে একটু একটু করে পূরণ করতে পেরেছি। অভিনয়টাকে ভালোবেসে এখানে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে চাই। ভালো ভালো কাজের মাধ্যমে নিজেকে মেলে ধরতে চাই। অভিনয় যতটুকু জানি সেটাকে আরও পরিণত করে অর্থবহ কিছু কাজের মাধ্যমে সমাজ পরিবর্তনে নিজের ক্ষুদ্র প্রয়াসটুকু যদি রাখতে পারি, তাতেই মানুষ হিসেবে আমার সার্থকতা মনে করবো।

উল্লেখ্য, মিল্কি রেজা বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলায় জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা বাবা মো. মোহসিন রেজা একজন নজরুল সঙ্গীত শিল্পী এবং সেখানকার একটি কলেজের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ। তার মা চিতলমারী উপজেলা মহিলা আওয়ামী লীগ ও মহিলা পরিষদের সভানেত্রী।

এআইআর/ডিএ

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য: