ঢাকা, বুধবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৮

জাহিদুল ইসলাম

কুবি প্রতিনিধি

তথ্য অধিকার আইন লংঘন করছে কুবি প্রশাসন!

১২ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ১৫:১৪:৫১

বাংলাদেশের নাগরিকদের তথ্য অধিকার নিশ্চিত করতেই ‘তথ্য অধিকার আইন-২০০৯’ নামে নির্দিষ্ট আইন প্রণীত রয়েছে। সুনির্দিষ্টভাবে তথ্য প্রদানের বিষয়ে বলা হয়েছে এ আইনে। তবে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুবি) দেখা যাচ্ছে ঠিক তার উল্টো। বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তারা এ আইন মানছেন না বলে অভিযোগ উঠেছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত সাংবাদিকরা বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের মৌলিক তথ্য চাইলেও তা প্রদানে অনীহা দেখান প্রতিষ্ঠানটির বিভিন্ন শাখা ও কার্যালয়ের কর্মকতারা। এতে জনগণের সুনির্দিষ্ট অধিকার ক্ষুন্ন হচ্ছে বলে মনে করেন বিশিষ্টজনেরা। বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের তথ্য প্রকাশে কর্মকর্তাদের এমন অনীহা এবং অসহযোগীতা সংশ্লিষ্ট কাজে অস্বচ্ছতার ইঙ্গিত বলে মনে করেন বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের সদস্যরা।

বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মরত বিভিন্ন গণমাধ্যম কর্মীরা জানান, বিভিন্ন বিষয়ের তথ্য প্রাপ্তির জন্য আমাদেরকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন কার্যালয়ে যেতে হয়। কিন্তু সম্প্রতি কর্মকর্তারা মৌলিক তথ্য প্রদানে অসহযোগীতা করছেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি জাতীয় দৈনিকের সাংবাদিক অভিযোগ করে বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের সম্প্রসারণ প্রকল্পের দরপত্র প্রকাশের তারিখ, প্রকল্প ব্যয়, প্রকল্পটি শেষ হওয়ার সময়সীমাসহ সংশ্লিষ্ট কিছু মৌলিক তথ্য জানতে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিকল্পনা ও উন্নয়ন দপ্তরের সহকারী পরিচালক ড. মো. শাহাবুদ্দীন এবং অর্থ ও হিসাব দপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. নাছির উদ্দিনের কাছে যান তিনি। কিন্তু তারা বিভিন্ন অযুহাতে তথ্য প্রদানে অসহযোগীতা করেছেন।

এ বিষয়ে তিনি গত ৯ ও ১০ সেপ্টেম্বর বারবার তাদের অনুরোধ করলেও তারা ‘দিচ্ছি’, ‘অনুমতি লাগবে’, ‘পরে আসেন’ ইত্যাদি বলে এড়িয়ে যান। কোন তথ্যের জন্য সংশ্লিষ্ট কার্যালয়ে বিভিন্ন সময় যোগাযোগ করা হলে উপাচার্য ও রেজিস্ট্রারের অনুমতি লাগবে এবং অনেক সময় সরাসরি অপারগতা প্রকাশ করে বলে অভিযোগ করেন অপর এক সাংবাদিক।

বাংলাদেশ সংবিধানের তথ্য অধিকার আইন, ২০০৯ তে জনগণের তথ্যের অধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে। এ আইনে ২ (ঘ) ধারায় তথ্য প্রদান ইউনিট ও তথ্যের ধরনের বিষয়ে বর্ণনা রয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তথ্য প্রদানে বাধ্য থাকার কথা ৪ (ক) ধারায় বলা হয়েছে। নাগরিকের নিকট সহজলভ্য করে প্রচার ও প্রকাশ করতে নির্দেশনাও দেওয়া রয়েছে এ আইনে ৬ এর ১ ও ২ (১) ধারায়। এ আইনের ৭ ধারা লঙ্ঘন না হলেও বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকদের চাহিদা অনুযায়ী তথ্য না দেওয়া এ বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তাদের নিয়মিত স্বভাবে পরিণত হয়েছে বলে মনে করেন সাংবাদিকরা।

তথ্য প্রদানে অনীহা দুরভিসন্ধিমূলক এবং কোন অনিয়ম ধামাচাপা দেওয়ার জন্য হতে পারে মন্তব্য করে সুশাসনের জন্য নাগরিক’র (সুজন) সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেন, ‘নির্দিষ্ট কিছু বিষয় ছাড়া সব তথ্য দিতেই বাধ্য তারা। তারা তথ্য না দিলে প্রতিবাদ করতে হবে এবং আইনের আশ্রয় নিতে হবে। এটা আইনী অধিকার।’

তথ্য প্রাপ্তিতে এমন অসহযোগীতা পেলে তিনি ও তার সংগঠন সহযোগীতা করবে বলে জানান তিনি। বিশিষ্ট কলামিস্ট সৈয়দ আবুল মকসুদ বলেন, ‘তারা তথ্য দিবে না এমন স্বেচ্ছাচারিতা চলতে পারে না। এমন হলে মামলা করা যায়।’

সাংবাদিকদের তথ্য দেওয়ার বিষয়ে প্রতিবন্ধকতা তো নতুন নয় মন্তব্য করে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ফরিদা ইয়াসমিন বলেন, ‘নিজের স্বার্থে নয় সাংবাদিকরা জনগণের স্বার্থে কাজ করে থাকেন। তথ্য প্রাপ্তি হলো অধিকার।’

অভিযোগের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (চলতি দায়িত্ব) ড. মো. আবু তাহের এর কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ে কত টুকো কাজ হচ্ছে, কি রড দিয়ে কাজ হচ্ছে প্রভৃতি সম্পর্কে অফিসিয়াল ডকুমেন্ট দেয়া যায় না।’

এসব তথ্য দেয়া যাবে এমনটি বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনে উল্লেখ আছে কিনা তার জবাবে ড. তাহের বলেন, ‘এসব বিষয় বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনে উল্লেখ থাকে না, এগুলো বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কর্মকৌশল।’

বিডি২৪লাইভ/এমকে

সর্বশেষ

এডিটর ইন চিফ: আমিরুল ইসলাম আসাদ
বিডি২৪লাইভ মিডিয়া (প্রাঃ) লিঃ,
বাড়ি # ৩৫/১০, রোড # ১১, শেখেরটেক, মোহাম্মদপুর, ঢাকা - ১২০৭
ই-মেইলঃ info@bd24live.com

বার্তা প্রধান: ০৯৬১১৬৭৭১৯০
নিউজ রুম: ০৯৬১১৬৭৭১৯১
মফস্বল ডেস্ক: ০১৫৫২৫৯২৫০২
ই: office.bd24live@gmail.com

Site Developed & Maintaned by: Primex Systems