ঢাকা, রবিবার, ১৮ নভেম্বর, ২০১৮

সম্পাদনা: হৃদয় আলম

ডেস্ক কন্ট্রিবিউটর

সাপ, কুকুর- বিড়াল সবই খায় ভিয়েতনামীরা, চিন্তিত বিশেষজ্ঞরা!

১২ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ১৭:৪৭:০০

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশ ভিয়েতনাম পর্যটন ও স্ট্রিট ফুডের জন্য বিশ্বজুড়ে সমাদৃত। দেশটির ফা নুডুলস স্যুপ এবং পাতে বান মি স্যান্ডউইচের মেন্যু প্যারিস থেকে পিটাসবার্গ পর্যন্ত পৌঁছে গেছে। তবে, ভিয়েতনামের জনপ্রিয় খাবারের তালিকায় রয়েছে কুকুর ও সাপের মাংস, বাদ যায়নি বিড়ালও। যা নিয়ে বেশ চিন্তিত বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞরা।

সাপের মাংসকে ভিয়েতনামে দেখা হয় একটি উপাদেয় এবং সৌখিন খাবার হিসেবে। ব্যতিক্রমী ধরণের খাদ্যের জন্য চমৎকার জায়গা এটি। এখানে সাপের রক্ত ধেনো মদে মিশিয়ে খাওয়া হয়।

সাপগুলো ধরা হয় জঙ্গল থেকে। কোন ব্যগ বা বস্তা জাতীয় কিছুতে করে এগুলোকে নিয়ে আসা হয়। এরপর সাপগুলোর গায়ে গরম পানি ঢেলে দেয়া হয়। পরে সাপগুলোকে ধুয়ে টুকরো টুকরো করে কাটা হয়, ভাজা হয়। সাথে যোগ করা হয় লেমন গ্রাস আর মরিচ।

স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, সাপের মাংস খুবই সুস্বাদু। এটি আমার খুবই পছন্দ। তিনি মনে করেন সাপের মাংস মাথাধরা সারায়, হজমে সহায়ক এবং হাড় মজবুত করে।

সাপের পরে তালিকায় রয়েছে কুকুর। ভিয়েতনামের রাজধানী হ্যানয়ের মার্কেট এবং দোকানে ভাজা, সেদ্ধ বা ভাপে সেদ্ধ করা কুকুরের মাংস পাওয়া যায়। ভিয়েতনামিরা সাধারণত চোলাই মদ বা বিয়ারের সঙ্গে কুকুরে মাংস খেয়ে থাকে।

কিন্তু সম্প্রতি হ্যানয়ের কর্তৃপক্ষ কুকুরে মাংস খাওয়া বন্ধে দেশটির মানুষজনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে। জনপ্রিয় এই খাবারটি শহরের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করছে এবং জলাতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কায় এমন আহ্বান জানিয়েছে তারা।

তৃতীয় স্থানে থাকা বিড়ালের জনপ্রিয়তা কম। বিড়াল ভিয়েতনামের মেন্যুতে ‘লিটল টাইগার’ নামে পরিচিত, এটি গ্রাম্য এলাকায় সহজলভ্য।

কিন্তু বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞরা বলেন, এভাবে বন্য সাপ, কুকুর, বিড়াল মারা হলে তা বনভূমির পরিবেশগত ভারসাম্য নষ্ট করে। আর যেভাবে এই সাপদের মারা হয় সেটাও খুবই নির্মম। এটা অনুচিত।

প্রাণী অধিকারকর্মীরা ও ভিয়েতনামের হ্যানয় শহরের কর্তৃপক্ষ চাচ্ছে, খাদ্য তালিকা থেকে যেন সাপ ও কুকুর বাদ দেয়া হয়।

শহর কর্তৃপক্ষ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, প্রাণী হত্যার চর্চা প্রায় ক্ষেত্রেই নৃশংস এবং শহর কর্তৃপক্ষ আশা করে যে, ধীরে ধীরে এই চর্চা বন্ধ হবে।

ওই বিবৃতিতে তারা জানায়, এটি বিদেশিদের কাছে ‘সভ্য ও আধুনিক রাজধানী’ হিসেবে হ্যানয়ের সুনাম রক্ষার বিষয়। কেননা তাদের অনেকেই এসব প্রাণী পোষ্য রাখে, তাই এসব প্রাণীর মাংস খাওয়া তাদের কাছে একটি ট্যাবু। শহর কর্তৃপক্ষ আরও জানায়, কুকুর ও বিড়ালকে হত্যা করে তাদের মাংস বিক্রির ঘটনায় পর্যটক ও হ্যানয়ে বসবাসরত বিদেশিরা নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে। শহরের কর্তৃপক্ষ কুকুরের মাংস ছাড়াও বিড়ালের মাংস না খেতেও সেখানকার বাসিন্দাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে।

বন্যপ্রাণী নিয়ে কাজ করে এমন সংস্থা ফোর পস ইন্টারন্যাশনালের আইওনা ডাঙ্গলার বলেছেন, এই প্রাণীদের জীবন শেষ হচ্ছে একটি খাবার প্লেটে বা পানীয়ের গ্লাসে। এটা খুবই বেদনাদায়ক এবং যে উদ্দেশ্যে এটি করা হচ্ছে তা যৌক্তিক নয়।

বিডি২৪লাইভ/এইচকে

সর্বশেষ

এডিটর ইন চিফ: আমিরুল ইসলাম আসাদ
বিডি২৪লাইভ মিডিয়া (প্রাঃ) লিঃ, বাড়ি # ৩৫/১০, রোড # ১১, শেখেরটেক, মোহাম্মদপুর, ঢাকা - ১২০৭, 
ই-মেইলঃ info@bd24live.com, 
ফোন: ০২-৫৮১৫৭৭৪৪

বার্তা প্রধান: ০৯৬১১৬৭৭১৯০
নিউজ রুম: ০৯৬১১৬৭৭১৯১
মফস্বল ডেস্ক: ০১৫৫২৫৯২৫০২
ই: office.bd24live@gmail.com

Site Developed & Maintaned by: Primex Systems