ঢাকা, বুধবার, ২১ নভেম্বর, ২০১৮

আসছে ভোট: ঢাকা-৮

আব্বাস-সোহেলকে ঘিরে বিপত্তি বিএনপিতে

২৭ আগস্ট, ২০১৮ ১৬:৩৭:৩৭

কামরুল হাসান: ঢাকা-৮ (রমনা-মতিঝিল-পল্টন) আসনে আগামী নির্বাচনে বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন হেভিওয়েট দুই প্রার্থী। তাদের মধ্যে একজন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য এবং সাবেক মন্ত্রী মির্জা আব্বাস। দলীয় মনোনয়নপ্রত্যাশী অপরজন দলের যুগ্ম মহাসচিব ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সভাপতি হাবিব-উন-নবী খান সোহেল। দুই নেতার মধ্যে সমঝোতার ভিত্তিতে একক প্রার্থিতা নিশ্চিত করতে না পারলে একাদশ জাতীয় নির্বাচনে এই আসনে বিএনপি বেকায়দায় পড়বে বলে আশঙ্কা রয়েছে।

রমনা, মতিঝিল, পল্টন, শাহজাহানপুর ও শাহবাগ থানা নিয়ে গঠিত এই আসনের অন্তর্ভুক্ত ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ৮, ৯, ১০, ১১, ১২, ১৩, ১৯, ২০ ও ২১ নম্বর ওয়ার্ড। গত নির্বাচনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় মহাজোটের প্রার্থী বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন টানা দ্বিতীয় দফায় এমপি নির্বাচিত হয়েছেন। সীমানা পুনর্বিন্যাসের পর ২০০৮ সালে হাবিব-উন-নবী খান সোহেল এ আসনে বিএনপির মনোনয়ন পান। ওয়ান-ইলেভেন পরবর্তী তত্ত্বাবধায়ক সরকার আমলে দুর্নীতির মামলায় জড়িয়ে নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থিতার যোগ্যতা হারান সাবেক এমপি মির্জা আব্বাস। তার অবর্তমানে মনোনয়ন পান সোহেল। তার সমর্থকদের অভিযোগ, ওই নির্বাচনে মহাজোটের প্রার্থীর কাছে সোহেলের পরাজয়ের পেছনে মির্জা আব্বাসের হাত রয়েছে। তিনি নিজের নেতাকর্মীদের মাঠে না নামানোর ফলে সোহেল বিজয়ী হতে পারেননি।

এর আগে ১৯৯১ সালে এই আসনে (তৎকালীন ঢাকা-৬) আওয়ামী লীগের মোজাফফর হোসেন পল্টুকে হারিয়ে এমপি হন মির্জা আব্বাস। ১৯৯৬ সালের একতরফা-বিতর্কিত নির্বাচনেও তিনি বিজয়ী হন। তবে একই বছর অনুষ্ঠিত সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের সাবের হোসেন চৌধুরীর কাছে পরাজিত হন মির্জা আব্বাস। ২০০১ সালে তিনি সাবের হোসেন চৌধুরীকে পরাজিত করে পুনরায় এমপি নির্বাচিত হন।

আগামী একাদশ নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসনটি পুনরুদ্ধারের লক্ষ্য নিয়ে বিএনপির শক্তিশালী সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে মাঠে রয়েছেন মির্জা আব্বাস। তার পক্ষে জোরালো নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণায় নেমেছেন তার সমর্থক নেতাকর্মীরা। ঢাকা-৮ ছাড়াও ঢাকা-৯ আসনেও মির্জা আব্বাস নির্বাচনী লড়াই করবেন বলে তার ঘনিষ্ঠরা জানিয়েছেন। অবশ্য দুই আসনে মনোনয়ন দিতে দল সম্মত না হলে মির্জা আব্বাস তার সহধর্মিণী ও মহিলা দলের সভাপতি আফরোজা আব্বাসকে ঢাকা-৯ আসনটি ছেড়ে দেবেন বলে গুঞ্জন রয়েছে।

মির্জা আব্বাস প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই বিএনপির সঙ্গে রয়েছেন। যুবদলের সভাপতি ছিলেন। পরে বিএনপির বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে থেকে সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে ব্যাপক ভূমিকা রেখেছেন। অবিভক্ত ঢাকা মহানগর বিএনপির আহ্বায়কও ছিলেন আব্বাস। বিএনপির নগর রাজনীতিতে অন্যতম প্রভাবশালী নেতা হিসেবে পরিচিত তিনি। জিয়া পরিবারের আস্থাভাজন হিসেবে একাধিকবার এমপি নির্বাচিত হওয়ার পাশাপাশি বিএনপি সরকার আমলে গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বও সামলেছেন। অবিভক্ত ঢাকা সিটি করপোরেশনের মেয়র ছিলেন তিনি। ২০১৫ সালের ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের নির্বাচনে মেয়রপ্রার্থী হয়েও মামলা থাকায় প্রচারে নামতে পারেননি। ওই নির্বাচনে তার পক্ষে স্ত্রী আফরোজা আব্বাস নির্বাচনী প্রচার চালিয়ে আলোচিত হন। ওই নির্বাচনে হেরে গেলেও উল্লেযোগ্যসংখ্যক ভোট পেয়েছেন মির্জা আব্বাস। সবুজবাগ এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা হিসেবে এবং একাধিকবার এমপি হয়ে এ এলাকার উন্নয়নে ভূমিকা রাখায় মির্জা আব্বাসের নিজস্ব ভোটব্যাংক রয়েছে। তবে আসনটি বিভক্ত হয়ে সবুজবাগ ঢাকা-৯ আসনে চলে যাওয়ায় আগামী নির্বাচনে নিজে মনোনয়ন না পেলেও স্ত্রী আফরোজা আব্বাসকে ওই আসনে প্রার্থী করতে চান মির্জা আব্বাস। স্বামীর নির্বাচনী প্রচারে অংশ নেওয়ার পর আফরোজা মহিলা দলের সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন।

বিএনপির আরেক সম্ভাব্য প্রার্থী হাবিব-উন-নবী খান সোহেল সর্বশেষ নির্বাচনে এ আসনে দলীয় মনোনয়ন পাওয়ায় তারও একটি নিজস্ব অবস্থান রয়েছে। এছাড়া ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সভাপতি হিসেবে থানা-ওয়ার্ড পর্যায়ের নেতাকর্মীদের কাছেও গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে তার। এর সুবাদে প্রার্থী হিসেবে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তুলতে পারবেন বলে আশাবাদী তিনি। এছাড়া বিগত দিনের আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ভূমিকা রেখে হাইকমান্ডের সন্তুষ্টিও অর্জন করেছেন সোহেল। দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের আস্থাভাজন হিসেবেও পরিচিতি রয়েছে তার।

এলাকা ঘুরে জানা গেছে, আগামী নির্বাচন সামনে রেখে হেভিওয়েট দুই প্রার্থী মির্জা আব্বাস ও হাবিব-উন-নবী খান সোহেলের সমর্থকদের মধ্যে এক ধরনের মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ শুরু হয়েছে। এ কারণে সাধারণ নেতাকর্মীরাও অনেকটা দ্বিধা-দ্বন্দ্বে রয়েছেন।

তবে আব্বাস অনুসারীরা বলছেন, বর্তমান সরকারের সময় অসংখ্য মামলা-মোকদ্দমার শিকার হলেও কখনও নেতাকর্মীদের ছেড়ে যাননি মির্জা আব্বাস। বিপরীতে ২০০৮ সালের নির্বাচনের পর নির্বাচনী এলাকায় খুব একটা পা পড়েনি হাবিব-উন-নবী খান সোহেলের। বিগত সময়ের সরকারবিরোধী আন্দোলনেও তিনি নেতাকর্মীদের পাশে দাঁড়াননি। আবার সোহেল ঢাকার স্থায়ী বাসিন্দা না হওয়ায় আগামী নির্বাচনে তাকে প্রার্থী করা হলে এলাকায় একটা বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে। এছাড়া আওয়ামী লীগ জোটের প্রার্থী ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেননের তুলনায় বয়সে অনেক তরুণ আর অনভিজ্ঞ হওয়ায় সোহেল নির্বাচনী লড়াইয়ে অনেকটাই পিছিয়ে থাকবেন। এসব বিবেচনায় এ আসনে মির্জা আব্বাসকেই প্রার্থী হিসেবে দেখতে চান আব্বাস সমর্থকরা।

সোহেলের অনুসারীদের পাল্টা অভিযোগ, দলের জ্যেষ্ঠ নেতা হয়েও বিগত সময়ের আন্দোলনে এই নির্বাচনী এলাকা তো বটেই পুরো ঢাকা মহানগরেই নিষ্ফ্ক্রিয় ছিলেন মির্জা আব্বাস। যে কারণে তৃণমূল নেতাকর্মীদের একটি অংশের ক্ষোভ রয়েছে তার প্রতি। দলের হাইকমান্ড এ বিষয়টি মাথায় রেখেই এখানে আবারও হাবিব-উন-নবী খান সোহেলকে মনোনয়ন দেবে বলেও আশা করছেন তার অনুসারীরা।

তবে মামলা-সংক্রান্ত জটিলতায় আব্বাস-সোহেলের কেউই আগামী নির্বাচনের প্রার্থী হতে না পারলে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মোসাদ্দেক আলী ফালু অথবা দলের চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবদুস সালামের মধ্যে যেকোনো একজনকে এ আসনের প্রার্থী করার চিন্তা-ভাবনা রয়েছে দলের হাইকমান্ডে। দলের প্রভাবশালী এই দুই নেতাও এ এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা। এ ছাড়া রমনা থানা বিএনপির সভাপতি আরিফুল হকও এ আসনে দলের মনোনয়ন চাইতে পারেন বলে গুঞ্জন রয়েছে। অবশ্য এই তিনজনের কারও পক্ষেই নির্বাচনী তৎপরতা চোখে পড়ছে না।

জানতে চাইলে মির্জা আব্বাস সমকালকে বলেছেন, আগে এ এলাকাটিতে একটি আসন ছিল এবং সেই আসনের এমপি ছিলেন তিনি। এখন এখানে দুটি আসন হওয়ায় স্বভাবতই বর্তমান দুটি আসন থেকেই দলের মনোনয়ন চাইবেন তিনি। আর দলীয় মনোনয়ন পেলে দুই আসনেই বিশাল ভোটের ব্যবধানে জিতে আসন দুটি দল ও নেত্রীকে (খালেদা জিয়া) উপহার দিতে পারবেন বলে তার বিশ্বাস।

হাবিব-উন-নবী খান সোহেল বলেন, দলের বর্তমান অবস্থায় নির্বাচন নিয়ে কথা বলার সময় এখন নয়। বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে অন্যায়ভাবে কারাগারে রাখা হয়েছে। দলের সবাই তাকে মুক্ত করার আন্দোলনে রয়েছেন। এছাড়া আগামী সংসদ নির্বাচনের চেয়ে 'নির্বাচনকালীন সহায়ক সরকার' ব্যবস্থার সমাধান আগে হওয়া জরুরি। বিএনপি এই ইস্যুতেও আন্দোলন করছে। তাই সঙ্গত কারণেই কোন আসনে কে প্রার্থী হবেন, এ বিষয়ে আলোচনা এখনও শুরু হয়নি। তবে, এটি বলা যায়, তিনি ঢাকা থেকেই নির্বাচন করবেন এবং সেটি কোন আসন থেকে তা পরে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে দলের চেয়ারপারসনই নির্ধারণ করে দেবেন।

এই আসনে মির্জা আব্বাসের প্রার্থিতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, মির্জা আব্বাস দলের জ্যেষ্ঠ নেতা। তাই ঢাকা-৮ ও ঢাকা-৯ আসনের মধ্য থেকে কে কোন আসনে নির্বাচন করবেন, সেটিও পরে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে ঠিক করে নেওয়া যাবে। সূত্র: সমকাল।

বিডি২৪লাইভ/এমআর

সর্বশেষ

এডিটর ইন চিফ: আমিরুল ইসলাম আসাদ
বিডি২৪লাইভ মিডিয়া (প্রাঃ) লিঃ, বাড়ি # ৩৫/১০, রোড # ১১, শেখেরটেক, মোহাম্মদপুর, ঢাকা - ১২০৭, 
ই-মেইলঃ info@bd24live.com, 
ফোন: ০২-৫৮১৫৭৭৪৪

বার্তা প্রধান: ০৯৬১১৬৭৭১৯০
নিউজ রুম: ০৯৬১১৬৭৭১৯১
মফস্বল ডেস্ক: ০১৫৫২৫৯২৫০২
ই: office.bd24live@gmail.com

Site Developed & Maintaned by: Primex Systems