ঢাকা, শুক্রবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০১৮

মোস্তফা কামাল

সখিপুর, টাঙ্গাইল প্রতিনিধি

ভোটের জন্য জোট না জোটের জন্য ভোট?

০৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ১৬:৪০:০২

প্রাচ্য অথবা প্রতীচ্য সবখানেই আজকাল জোটবদ্ধ হয়ে নিবার্চনের রেওয়াজ চালু হয়েছে। এটা এক অর্থে শুভ লক্ষণ, আরেক অর্থে অশুভও বটে। শুভ এই অর্থে যে শরিক দলের চাপে নির্বাচিত সরকার যা ইচ্ছা তা-ই করতে পারে না। তাদের সব সময় একটু সতর্কতা অবলম্বন করতে হয়। উন্নয়ন ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডের প্রতি সদা সজাগ থাকতে হয়। জোটের খারাপ দিক হলো যেসব দলের ১ শতাংশও ভোট নেই, এককভাবে নিবার্চন করলে যাদের পরাজিত হওয়ার সম্ভাবনা শত ভাগ, সে সব ছোট দলকেও অনেক সময় বেশি গুরুত্ব দিতে হয়। ক্ষমতার ভাগ দিয়ে তাদের বশে রাখতে হয়। শরিক দলের চাপে বৃহৎ দলটি সারাক্ষণ মানসিক যন্ত্রণার মধ্যে থাকে। ছোট ছোট দলের নেতাদের ব্যথর্তাও বড় দলটিকে বহন করতে হয়। ছোট দলের কমর্কাণ্ডের দায়ভারও বড় দলের ঘাড়ে এসে পড়ে। আবার ক্ষমতাসীন প্রধান শাসক পক্ষকে কেবল ক্ষমতাচ্যুত করার জন্য, সমস্ত বিরোধী দলের একটা সাময়িক সম্মিলিত জোট বানাবার জোড়াল প্রচেষ্টা থাকে ৷

প্রত্যেক দলের একটা ভিন্ন মতাদর্শ থাকে, তাই তারা ভিন্ন দল৷ শুধু ক্ষমতা ভোগের বেলায় তারাই চূড়ান্ত সত্য বাকিরা মিথ্যা৷ ক্ষমতা ভোগের বেলায় ‘আমরা’ ‘ওরা’র ভাগাভাগি মারামারি চলে৷ তখন একদল অপর দলকে সন্দেহের চোখে দেখে। সেই ভিন্ন ভিন্ন দলগুলি হঠাৎই নিজেদের অস্তিত্ব ঠিক রাখতে জনগণের ওপর আস্থা না রেখে জোট বাঁধে৷ জোটবদ্ধ দলগুলি তো কখনো নিজেদের দল ভেঙ্গে দিয়ে একদল-এক আদর্শ বানিয়ে নিচ্ছে না৷ এর কারণ হলো ক্ষমতার মোহ। এইসব রাজনৈতিক নেতাদের সুবুদ্ধির উদয় হলে অবশ্যই স্থানীয় জনগোষ্ঠীর অস্তিত্ব বিকাশের জন্য সচেষ্ট হতো।

প্রত্যেক স্থানীয় ভাষার মানুষকে তার মাতৃভাষা ও সংস্কৃতি রক্ষার অসামান্য অবদান রাখত, অর্থনৈতিক মুক্তির পরিকাঠামো দিত, ডোল বা ভর্তুকির রাজনীতি না করে, শাসক পক্ষ নিজ নিজ অঞ্চলের প্রতি ইঞ্চি জমিকে, প্রতিবিন্দু জলকে, সূর্য শক্তিকে, বাতাসের গতি শক্তিকে, মাটির তলার খনিজকে, বনজ সম্পদকে ও মানবিক শক্তি বুদ্ধিকে উপযোগ নেবার রাজনীতি করত। এতে করে স্থানীয় অঞ্চলের প্রতিটি মানুষের জীবনে সুরক্ষা, সমৃদ্ধি এবং সম্মানের পরিকাঠামো এসে যেত, দারিদ্র্যমুক্ত অঞ্চল তৈরি হয়ে যেত৷

মাতৃভাষা সংস্কৃতি ও সভ্যতার একটা বড় উপাদান৷ তাই দারিদ্র্য মুক্তি অভিযানের পাশাপাশি আঞ্চলিক মাতৃভাষার গুরুত্ব বুঝে আঞ্চলিক ভাষাতেই সরকারি সমস্ত বিভাগের কাজকর্ম চালু রাখলে, উচ্চতর শিক্ষাতে মাতৃভাষাকে ব্যবহার করার পরিকাঠামো তৈরির অভিযান চালু রাখলে, স্থানীয় মানুষ মনের কথা ব্যক্ত করার স্বাধীনতায় মুক্তির স্বাদ পেত৷ তারপরে ভাষার সেন্টিমেন্ট বা দারিদ্র্য সেন্টিমেন্টের বাইরে এসে এক বিশ্ব চেতনার জাগরণের জন্য নন্দন বিজ্ঞান, মোহন বিজ্ঞান, সর্বাধুনিক যন্ত্র বিজ্ঞান, সমবায় চেতনা প্রভৃতির দিকে সুনজর দিত। এতে মানুষ এক নতুন রাজনীতির শোষণমুক্ত নতুন পৃথিবী তৈরির দিশা পেয়ে যেত, নতুন রাজনীতির কারণে সমাজ পেয়ে যেত নতুন সমর্থ মানুষ যাদের জাত-পাত-ধর্ম-ভাষা অর্থ দিয়ে কেনা যায় না৷ সমাজ পেয়ে যেত তেমন নেতা যারা শুধু মানুষ নয়, অসহায় প্রাণি সত্তাদেরও সুরক্ষা ও সুবিকাশের পরিকাঠামো দিতে সচেষ্ট থাকে৷

এমন নেতাদের কী আর ভোটের আগে দরজায় দরজায় হাত জোড় করে নাগরিকের পা ছুঁতে হয়? না, মানুষের জয়জয়কার এমনিতেই আসে। সমৃদ্ধ সমাজের গুণে, প্রতিভা সম্মানের কারণে, অসহায়কে প্রতিরক্ষা দেবার কারণে, দ্রুত আঞ্চলিকভাবে সার্বিক উন্নয়নের কারণে, শহরের সুখ-সুবিধাকে সমস্ত গ্রামে ছড়িয়ে দেবার কারণে, স্থানীয় মানুষের জীবন-যাপনে গতি ও নিপুণতা এনে দেবার কারণে, সার্বিক ভয় মুক্তির পরিবেশ দানের কারণে, স্থানীয় মানুষের জয়জয়কার পেয়ে যেত নতুন রাজনৈতিক দল৷ তখন মানুষের জীবনের দাম, প্রতিভার দাম যত বাড়ত প্রয়োজনে জিনিসপত্রের দাম তত কমে যেত৷

চাহিদার থেকে উৎপাদন শতগুণ বাড়িয়ে দিলে জিনিসের দাম কমত কিন্তু জিনিসের মান বাড়ত, পরিমাণ বাড়ত৷ তেমননি রাজনীতির পাঠ পড়ার ও পড়ানোর সময় এসে গেছে৷ দারিদ্র্যের গপ্প শুনিয়ে মানুষ ক্ষেপানোর রাজনীতি, কেবল ক্ষমতার জন্যে ভণ্ড জোট রাজনীতি বন্ধ হবার সময় এসেছে৷ আজকের দিশাহীন মানুষ সামাজিক-অর্থনৈতিক-সাংস্কৃৃৃতিক ও নিরাপত্তার মতো প্রকৃত দিশা খুঁজে। এই দিশার সন্ধান পেলে রাজনৈতিক কোনো দলের ভোটের জন্য জোটের প্রয়োজন পড়বে না। জনগণ স্বতঃস্ফূর্তভাবে পুঁজিবাদী সম্প্রদায়বাদী জোটের বিরুদ্ধে জোটবদ্ধ হয়ে লড়াই করবে৷

বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্ব দিয়েছিল আওয়ামী লীগ। আওয়ামী লীগের আমলেই বাংলাদেশের রাজনৈতিক, অথৈর্নতিক ও সাংস্কৃতিক অগ্রগতি হয়েছে সবচেয়ে বেশি। আওয়ামী লীগকে ভাবতে হবে তারা একটি সবল দল। শুধু জোটের শক্তিতে ভর করে নয়, প্রয়োজনে তাদের ‘একলা চল’ নীতিও গ্রহণ করতে হবে। এক্ষেত্রে তাদের সাংগঠনিক শক্তিকে আরও জোরদার করা প্রয়োজন। ২০০ আসন নিশ্চিত না করে আওয়ামী লীগের বিশ্রাম নেয়া ঠিক হবে না। যেভাবে ২০০ আসন নিশ্চিত করা যায় সেই পরিকল্পনাই আওয়ামী লীগকে গ্রহণ করতে হবে এবং এটা ধরে রাখতে হবে। দলীয় ভিত মজবুত হলে আওয়ামী লীগের একার পক্ষে ২০০ আসন পাওয়া মোটেই কোনো কঠিন কাজ নয়। আওয়ামী লীগের উচিত হবে ছদ্মবেশী, পল্টিবাজ শরিক দলের ওপর সতর্ক দৃষ্টি রেখে আগামী নিবার্চনে দলের সৎ, যোগ্য ও ত্যাগী নেতাদের মনোনয়ন দেয়া এবং সাংগঠনিক কাযর্ক্রম বেগবান করে ২০০ আসনের লক্ষ্যে নিরন্তর প্রচেষ্টা চালিয়ে যাওয়া।

মোঃ মোস্তফা কামাল
লেখক, গবেষক ও প্রাবন্ধিক

সর্বশেষ

এডিটর ইন চিফ: আমিরুল ইসলাম আসাদ
বিডি২৪লাইভ মিডিয়া (প্রাঃ) লিঃ,
বাড়ি # ৩৫/১০, রোড # ১১, শেখেরটেক, মোহাম্মদপুর, ঢাকা - ১২০৭
ই-মেইলঃ info@bd24live.com

বার্তা প্রধান: ০৯৬১১৬৭৭১৯০
নিউজ রুম: ০৯৬১১৬৭৭১৯১
মফস্বল ডেস্ক: ০১৫৫২৫৯২৫০২
ই: office.bd24live@gmail.com

Site Developed & Maintaned by: Primex Systems