ঢাকা, শুক্রবার, ২৪ মে, ২০১৯

ইমরুল নুর

বিনোদন প্রতিবেদক

নিজের জমি ভাইয়ের দখলে, পান-বিড়ি বেচেন বাচ্চু মিয়া

১৬ জানুয়ারি, ২০১৯ ১৩:৩০:০২

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রোকেয়া হল এবং টিএসসি কেন্দ্রের মাঝামাঝির ভাসমান হকার বাচ্চু মিয়া। যার সহায় সম্বল বলতে একটি বাক্স। যাতে করে পান-সিগারেট বিক্রি করে নিজের ও নিজের পরিবারের খরচ যোগান তিনি।

তবে হকারি করেও শান্তি নেই তার। এলাকায় নতুন হওয়ায় অন্য হকাররা তাকে কোনো যায়গায় বসে বিক্রি করতে দেয় না। তাই এদিকে ওদিক ফেরি করে পান-সিগারেট বিক্রি করেন বাচ্চু মিয়া।

টিএসসি এলাকা থেকে চলে যাওয়ার মূহুর্তে তার সাথে দেখা হয় বিডি২৪লাইভের প্রতিবেদকের সাথে। চোখে মুখে তখন কষ্টের ছাপ। তার সঙ্গে কথা জানা গেল তার নিজের জীবনের দুঃখের ইতিহাস।

নাম তার আহসান উল্লাহ বাচ্চু, বয়স তার পঞ্চাশের কাছাকাছি হবে। দেশের বাড়ি নোয়াখালী জেলার সোনাইমুড়ি থানার অন্তর্গত নাটেশ্বর গ্রামে। পরিবারে স্ত্রী আর দুই ছেলে ও এক মেয়েকে নিয়ে তার সংসার। সবাই বাড়িতে থাকলেও জীবিকার টানে কয়েকমাস আগে ঢাকায় আসেন তিনি। মাথায় তার একটাই চিন্তা কিছু না কিছু না করে টাকা রোজগার করতে হবে। তাই একজনের থেকে সুদে ২ হাজার টাকা ধার নিয়ে ঢকায় আসেন তিনি। তারপরে একটি বাক্স আর সিগারেট, পান কিনে সেগুলো পথে পথে হেটে বিক্রি করে যে কয়টাকা আয় করেন। সেই টাকা দিয়ে নিজে চলেন আর কিছু বাড়িতে পাঠান।

এখানে লালবাগ এলাকার পাশে চকবাজার এলাকায় একটি মার্কেটে রাত্রি যাপন করেন বাচ্চু মিয়া। গ্রামে আগে কৃষি কাজ করে কোন রকমে সংসার চালাতেন কিন্তু সবসময় কাজ থাকে না তাই বছরের নয় মাসই বসে থাকতে হয়।

টিএসসি এলাকায় অন্য হকারদের ব্যবহার সম্পর্কে জানতে চাইলে বাচ্চু মিয়া বলেন, সব হকারগো কিছু কিছু এলাকা আছে কিন্তু আমার নাই। আমি হাইট্যা হাইট্যা বেচি এহানে। একখানে বসলে আরেকজন গালিগালাজ করে খেদাইয়্যা দেয়।

সে জানায়, তাদের ব্যবসা ক্ষতি হবে এমন ভেবে তারা তাকে তাড়িয়ে দেয় ও গালাগাল দেয়। তাই সে শাহবাগ, টিএসসি, ঢাকা মেডিকেল এদিক এলাকায় ঘুরে ঘুরে পান সিগারেট বিক্রি করে।

তিনি আরও জানান, এক যায়গায় স্থির হয়ে যা দাড়ানোর কারণে সারাদিনে একটা পানও বেচতে পারেননি তিনি। শুধু কয়েকটা সিগারেট বেচছেন তিনি।

বাচ্চু মিয়া জানান, প্রতিদিন সকালে ১০ টায় বের হয়ে সন্ধ্যার পর পর্যন্ত ঘুরেন তিনি। চকবাজারের এখানে মার্কেট আছে সেখানে রাত কাটান, তবে তার জন্যে কোন টাকা দেওয়া লাগে না।

তার পরিবারের কথা জানতে চাইলে তিনি বলেন, "আমার একটা ছেলে মেট্রিক পাশ করে একটা দোকানে কাজ করে কিছু টাকা পায়, এটা দিয়ে ও নিজেই চলে আর পারলে কিছু বাড়ি পাঠায় কিন্তু সবসময় পারে না দিতে কারণ বেতনই পায় ২ হাজার টাকা। আমার সবার বড় মেয়েটা সে মাইজদি কলেজ থেকে বিএ পাশ করছে। এখন টিউশনি করায় কয়েকটা বাচ্চারে। দুই থেকে আড়াই হাজার টাকা হয়তো পায়। মেয়ে উপযুক্ত হয়ছে বিয়ে দেওন লাগবে কিন্তু এত টাকা পামু কই? বিয়ে দিতে এখন যৌতুক লাগে, নইলে হয় না। পরিবার নিয়ে ঠিকমত চলতে পারি না, এত টাকা যোগাড় করে বিয়ে দিমু কেমনে? তাই ভাবছি থাক দেখি কতদিন যায়। আমার ছোট ছেলেটা মাদরাসায় পড়ে। কোনরকমভাবে তাগো নিয়ে খেয়ে পড়ে আছি। ওগো লেহাপড়া করাতেও অনেক টাকা লাগে। মেয়েটারে পড়াইছি ভাবছি চাকরী করবো কিন্তু সেখানেও লাখ টাকা ঘুষ লাগে। আমরা গরীবরা এত টাকা কই পামু! সামনে বৈশাখ মাসে বাড়ি যামু তখন ক্ষেতে কাম করমু আবার। কিন্তু যাইতেও ইচ্ছা করে না।"

তার আমার দাদার কিনা ভিটেবাড়িতে থাকি এখন। পাঁচ শতাংশ জায়গার মধ্যে আমার আর আমার এক ভাইয়ের পরিবার। আমার বাপে ৫০ শতাংশ জমি কিনছিলো দাদা মারা যাওয়ার পরে কিন্তু বাপ মরার পর সে জায়গা আমার চাচাত ভাই আক্কাস দখল করে রাখছে। আমার কাছে দলিল আছে এরপরও আমারে জমি দেয় না। চাইলে মারধর করে অত্যাচার করে আমার পরিবারের ওপর। অনেক বছর ধরে এমন হয়ে আসছে। সালিশ বসালে সবাই আক্কাসের কথা শুনে, হে এলাকায় নেতাগিরি করে তো। এলাকার বড় নেতাদের লগে চলে।

জাপানী সায়েদ নামে আমাদের এলাকায় বিচার করে সালিশে, তারে সবাই বিচারক কয়। তারেও কইছি কিন্তু কাম অই না। এরপর অনেকবার থানাতে গেছি ওখানেই কেউ কেইস নেয় না। বলে টাকা লাগবো। নানা কথা বইলা পাঠায় দেয়। এমন কইরা অনেক গেছি কাজ অই না। আজ গরীব বইলা এত অত্যাচারের স্বীকার হইতাছি। আক্কাসের কাছে জমি চাইলেই মারে আমাগো। ঐ জমি পরে অন্যকারো কাছে বেইচা দিছে। ওখানে বাড়ি কইরা অন্য মানুষ থাকে। আমার বাপের কিনা জমি থেকেও আমরা বঞ্চিত, কষ্ট করে থাকি। এত বিচার চেয়েও পাই না।

আর কার কাছে বিচার চাইলে পামু জানি না। কত বেলা না খেয়ে কাটাই দেই যখন কাজ না থাকে। আমাদের কষ্ট কেউ দেখে না। যেখানে যাই মার খাই, অত্যাচারিত হই। গত তিন মাসে ২ হাজার টাকা পাঠাইছি বাড়িতে। এভাবে তো চলতে পারি না। মনটা খুব কান্দে পোলা মাইয়ার জন্য। কি করতে পারলাম এদের জন্য। মেয়ে বিয়ার উপযুক্ত বিয়া দিতে পারি না। একদিন ব্যবসা খারাপ হলে পান সিগারেট না বেচতে পারলে না খেয়ে থাকা লাগে।

বিডি২৪লাইভ/আইএন/এসএস

সর্বশেষ

এডিটর ইন চিফ: আমিরুল ইসলাম আসাদ
বিডি২৪লাইভ মিডিয়া (প্রাঃ) লিঃ, বাড়ি # ৩৫/১০, রোড # ১১, শেখেরটেক, মোহাম্মদপুর, ঢাকা - ১২০৭, 
ই-মেইলঃ info@bd24live.com, 
ফোন: ০২-৫৮১৫৭৭৪৪

বার্তা প্রধান: ০৯৬১১৬৭৭১৯০
নিউজ রুম: ০৯৬১১৬৭৭১৯১
মফস্বল ডেস্ক: ০১৫৫২৫৯২৫০২
ই: office.bd24live@gmail.com

Site Developed & Maintaned by: Primex Systems