ঢাকা, বুধবার, ২২ মে, ২০১৯

সম্পাদনাঃ আরেফিন সোহাগ

ডেস্ক এডিটর।

অভিনয় থেকে হারিয়ে যাচ্ছেন প্রবীণেরা (পর্ব-১)

১১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ১৭:১৬:৫২

লাইট, ক্যামেরা অ্যাকশন.. এভাবেই শুরু হয় চিত্র ধারণের কাজ। কলাকুশলীদের দিন-রাত পরিশ্রমের পর পূর্ণতা পায় একটি সিনেমা। ৬ দশকের কাছাকাছি বাংলা চলচ্চিত্রের বয়স। এই ৬ দশকের মাঝে দীর্ঘ সাড়ে ৪ দশক ছিল অনেক জমকালো। গত এক দশকে বাংলা চলচ্চিত্র সেই জমকালো হারিয়ে আজ জীর্ণ-শীর্ণ ভাবে দাঁড়িয়ে আছে যা দেখলে খুব কষ্ট হয়।

এক সময় লোকেলোকারণ্য ও কর্ম চাঞ্চল্য ছিল বাংলাদেশের ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রি। সেটা আজ শুধুই স্মৃতি। বিডি২৪লাইভ পাঠকদের জন্য আজ সোনালি যুগের প্রবীণদের কিছু গল্প নিয়ে পর্ব সাজিয়েছেন স্টাফ করেসপন্ডেন্ট আরেফিন সোহাগ। যারা আজ সবই স্মৃতি হয়ে আমাদের হৃদয়ের মণিকোঠায় ঠাঁই করে নিয়েছেন। কেউবা হয়েছেন গত, কেউবা বেঁচে থাকলেও পর্দায় নেই। অনেকে হয়েছেন কিংবদন্তী আবার অনেকে এক ঝলক আলো ছড়িয়ে হারিয়ে গেছেন। আসুন আজকের প্রথম পর্বে যারা থাকছেন তাদের শুরু এবং বর্তমান জেনে নিই-

শাবানা:
চলচ্চিত্রের মুকুটহীন সম্রাজ্ঞী শাবানা। সাবলীল অভিনয়ের কারণে অতি অল্প সময়ে জনপ্রিয়তা পেয়ে যান। দর্শক পর্দায় খাটিঁ বাঙ্গালী রমণীর ছায়া খুঁজে পায় অভিনেত্রী শাবানার অভিনয়ের মধ্যে। শাবানা নায়িকা চরিত্রে যেমন জনপ্রিয়তা পেয়েছেন ঠিক তেমন মা বা ভাবীর চরিত্রে অভিনয় করে সমান দর্শকপ্রিয়তা পেয়েছেন। ১৯৬৭ সালে চকোরী চলচ্চিত্রের মাধ্যমে নায়িকা হিসেবে আগমন ঘটে শাবানার।

শাবানা প্রথম জীবনে উর্দু ছবিই বেশি করতেন। তবে তিনি ১৯৬২ সালে ‘নতুন সুর’ ছবিতে প্রথম ছোট্ট মেয়ের চরিত্রে অভিনয় করেন এবং ১৯৬৩ সালে তিনি উর্দু ‘তালাশ’ ছবিতে নাচের দৃশ্যে অংশ নেন। এরপর তারপর বেশ কিছু চলচ্চিত্রে তিনি এক্সট্রা হিসেবে কাজ করেন। শাবানার প্রতিষ্ঠিত চলচ্চিত্র প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান এস এস প্রোডাকশন। শহর বা গ্রামীণ তরুণী, বধূ, মাতা এবং ভাবীর চরিত্রে দক্ষতার সাথে অভিনয় করে গেছেন শাবানা। ১৯৯৭ সালে শাবানা হঠাৎ করেই চলচ্চিত্র-অঙ্গন থেকে বিদায় নেওয়ার ঘোষণা দেন।

এরপর তিনি আর নতুন কোনো চলচ্চিত্রে অভিনয় করেননি। শাবানার উল্লেখ্যযোগ্য ছবি হলো চোকরি, আনাড়ি, সমাধান, জীবনসাথী, মাটির ঘর, লুটেরা, সখি তুমি কার, কেউ কারও নয়, পুত্রবধু, রজনিগন্ধা , দোস্ত দুশমন, ওস্তাদ সাগরেদ, ‘আক্রোশ’, ‘ভাত দে’, অশান্তি, চাপা ডাঙ্গার বউ, দুই পয়সার আলতা, রাজলক্ষ্মী শ্রীকান্ত, সারেন্ডার, বিজয়, অন্ধ বিশ্বাস, স্বাক্ষর, সান্ত্বনা, বিদায়, মরনের পরে, অচেনা, মাস্তান রাজা, কালিয়া, লক্ষির সংসার, রক্ত নিশান, গৃহযুদ্ধ, শ্রদ্ধা, স্নেহ ,স্বামী কেন আসামী, বিশ্বনেত্রী, বাংলার নায়ক সহ প্রভৃতি। ঢাকার ছবিতে প্রায় ৩০ বছর ধরে শাবানা ছিলেন অপ্রতিদ্বন্দ্বী নায়িকা।

শাবানা নাম শুনতেই দর্শকদের উন্মাদনা শুরু হয়ে যেত। শুধুমাত্র শাবানার নামেই হলে দর্শকদের উপচে পড়া ভিড় লেগে যেত। শাবানার রুপালী জগত থেকে চলে যাওয়ার পরও এখনও হাজারো মানুষ তাকে মনে রেখেছে। নায়িকাদের মধ্য তিনি সর্বাধিক সংখ্যক জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছেন ।

নূতন:
নূতনের চলচ্চিত্র জগতে আগমন ঘটে ১৯৭০ সালে মুস্তফা মেহমুদ পরিচালিত ‘নতুন প্রভাত’ সিনেমার মাধ্যমে।তারপর অল্প কিছু চলচ্চিত্রে অভিনয় করে তিনি চলচ্চিত্রে জগত থেকে সাময়িক বিদায় নেন। ১৯৭৮ সালে অভিনেতা রুহুল আমিন বাবুলকে বিয়ে করে আবার চলচ্চিত্র জগতে ফিরে আসেন।নূতন তাঁর ২৮ বছরের তারকা জীবনে প্রায় ২০০-এর কাছাকাছি ছবিতে অভিনয় করেছেন।

অধিকাংশ ছবিতে তিনি ছিলেন সহ নায়িকা। বিনোদন মূলক চলচ্চিত্রের একজন নির্ভরযোগ্য তারকা ছিলেন নূতন। তিনি একজন দক্ষ অভিনেত্রীও ছিলেন। যে সমস্ত গুণাবলী একজন নায়িকার দরকার হয় তার সবই ছিল নূতনের। নৃত্যে তিনি অদ্বিতীয়া, চমকার ফিগার এবং সুন্দর মুখাবয়ব সবই ছিল তাঁর। ৭০-এর দশকের নূতন কিছুটা ম্লান ছিলেন। ৮০-এর দশকের তিনি যৌথ প্রযোজিত চলচ্চিত্রগুলোতে অভিনয় করতে থাকেন।

৯০-এর দশকের প্রথমার্ধে নির্মাতারা তাঁকে একক নায়িকা হিসেবে আনার উদ্যোগ নেন।এক্ষেত্রে দেলোয়ার জাহান ঝন্টু পরিচালিত ‘নাচে নাগিন’ ভালো ব্যবসা করে ও সুপারহিট হয়। তা সত্বেও শীর্ষ নায়িকাদের তালিকাতে তাঁর স্থান হয়নি। তাঁকে পর্দায় মাঝে মাঝে যৌনাবেদনাময়ী রূপ ফোঁটাতে গিয়ে ভ্যাম্পে পরিণত করা হয়েছে। তিনি ১৯৮৭ সালে এবং ১৯৯১ সালে বাচসাস এবং জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করেন।

সুভাষ দত্ত পরিচালিত 'স্ত্রীর পাওনা' ছবিতে অভিনয়ের জন্য নূতন প্রথম জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেন। নতুনের উল্লেখযোগ্য ছবিগুলো হলো- ওরা ১১ জন, পাগলা রাজা, রাজদুলারী, সৎভাই,কাবিন অত্যাচার,বারুদ,নাগিন,রাজনর্তকী,সতী নাগকন্যা,পাতাল বিজয়, বিজয় , রাজলক্ষ্ণী শ্রীকান্ত ,নাগ নাগিনী,প্রহরী,নাচ নাগিনা নাচ,ব্যবধান,নতুন প্রভাতসংগ্রাম,বাদশা,ফান্দে পড়িয়া বগা, প্রাণ সজনী,বদনাম,অলংকার, সৎভাই,কাবিন , বনের রাজা টারজান (১৯৯৫), বাঘা বাঘিনী, নাচে নাগিন, নাগিনী সাপিনী, রূপসী নাগিন, স্ত্রীর পাওনা প্রভৃতি।

রোজিনা:
রোজিনা চলচ্চিত্রে আসেন ১৯৭৬ সালে ‘জানোয়ার’ ছবির মাধ্যমে। এর আগে তিনি জন্ম নিয়ন্ত্রনকারী পণ্য ‘মায়া বড়ি’র বিজ্ঞাপনে মডেল হয়ে সবার নজরে আসেন। পরে তিনি এফ, কবীর পরিচালিত ‘রাজমহল’ সিনেমার মাধ্যমে একক নায়িকা হিসেবে কাজের সুযোগ পান।

এই ছবিটি সফল হয় এবং তিনি হাতে বেশ কিছু ছবি পান।রোজিনার বেশির ভাগ ছবিই পোষাকী। সুঅভিনয় ও গ্ল্যামার দিয়ে তিনি প্রথম শ্রেণীর নায়িকা হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন। ১৯৮০ সালে রোজিনা ‘কসাই’ ছবির জন্য জাতীয় পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ পার্শ্ব অভিনেত্রীর পুরস্কার লাভ করেন।

১৯৮৮ সালে তিনি জাতীয় পুরস্কার পান শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রীর হিসেবে ‘জীবন ধারা’ ছবির জন্য।শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রী হিসেবে তিনি বাচসাস পুরষ্কারও লাভ করেন। রোজিনার অভিনীত ছবিগুলোর মধ্য জানোয়ার, রাজমহল, মাটির মানুষ, অভিযান, শীষনাগ, চম্পা চামেলী, মোকাবেলা, সংঘর্ষ,আনারকলি, রাজনন্দিনী, রাজকন্যা, শাহী দরবার, আলীবাবা, সিন্দবাদ, সুলতানা ডাকু, যুবরাজ, রাজসিংসন, শাহীচোর, দ্বীপকন্যা, জিপ্সী সরদার, কসাই, জীবনধারা, দোলনা, দুনিয়া উল্লেখযোগ্য। তবে তিনি বাংলাদেশের সিনেমা জগত থেকে নির্বাসনে আছেন এবং বর্তমানে তিনি দেশের বাইরেই বাস করেন।

চম্পা:
চিত্রনায়িকা সুচন্দা ও ববিতার বোন চম্পা। তিনি প্রথমে মডেলিং-এর মাধ্যমে তাঁর ক্যারিয়ার শুরু করেন। তারপর টিভি নাটকে অভিনয় করতে থাকেন এবং জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন। শিবলী সাদিক পরিচালিত ‘তিনকন্যা’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে চম্পা চলচ্চিত্রের জগতে আগমন করেন।

চম্পার অভিনয় দক্ষতা ও ছবির ব্যবসায়িক সাফল্য তাঁকে চলচ্চিত্রে সাফল্য এনে দেয়।সামাজিক ও অ্যাকশন উভয় প্রকার সিনেমাতে তিনি অভিনয় করেছেন।কোন নির্দিষ্ট গন্ডিতে নিজেকে আবদ্ধ রাখেননি।তিনি সত্যজিত রায়ের ছেলে সন্দ্বীপ রায়ের ‘টার্গেট’ সিনেমাতে এবং বুদ্ধদেব দাশ গুপ্তের ‘লালদরজা’ সিনেমাতে অভিনয় করার সুযোগ পান। এভাবে তিনি আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও নিজেকে মেলে ধরেছিলেন।

চম্পার মূল বৈশিষ্ট্য গ্ল্যামার, ফ্যাশন সচেতনতা এবং পোষাকে বৈচিত্র্য।গৌতম ঘোষ পরিচালিত ‘পদ্মা নদীর মাঝি’ চলচ্চিত্র ছিল তাঁর সবচেয়ে বড় মাপের কাজ। ১২ বছরের ক্যারিয়ারে প্রায় ১০০-এর বেশি সিনেমাতে তিনি অভিনয় করেছিলেন। বর্তমানে তিনি পর্দায় অনুপস্থিত। আশির দশকের শেষ দিক থেকে ৯০ দশকের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত চম্পা দুর্দান্তভাবে একের পর এক ছবি উপহার দিয়ে গেছেন।

তাঁর উল্লেখযোগ্য ছবিগুলো হলো– তিনকন্যা, নিস্পাপ, নীতিবান, ভেজা চোখ, শঙ্খনীল কারাগার, গর্জন, সহযাত্রী, লটারি, বাপ বেটা ৪২০, অচেনা, বাসনা, পদ্মা নদীর মাঝি , কাসেম মালার প্রেম, শাদী মোবারক, ত্যাগ , গরম হাওয়া, সাক্ষাৎ, মা মাটি দেশ, মাটির কসম, অন্ধ প্রেম , প্রেম দিওয়ানা, ডিস্কো ড্যান্সার, ঘৃণা, শেষ খেলা , বিশাল আক্রমণ সহ প্রভৃতি।

বিডি২৪লাইভ/এএস

সর্বশেষ

এডিটর ইন চিফ: আমিরুল ইসলাম আসাদ
বিডি২৪লাইভ মিডিয়া (প্রাঃ) লিঃ, বাড়ি # ৩৫/১০, রোড # ১১, শেখেরটেক, মোহাম্মদপুর, ঢাকা - ১২০৭, 
ই-মেইলঃ info@bd24live.com, 
ফোন: ০২-৫৮১৫৭৭৪৪

বার্তা প্রধান: ০৯৬১১৬৭৭১৯০
নিউজ রুম: ০৯৬১১৬৭৭১৯১
মফস্বল ডেস্ক: ০১৫৫২৫৯২৫০২
ই: office.bd24live@gmail.com

Site Developed & Maintaned by: Primex Systems