ঢাকা, বুধবার, ২২ মে, ২০১৯

জাহিদুল ইসলাম

কুবি প্রতিনিধি

অরক্ষিত শহীদ মিনার, রাতে ফুল, দিনে উধাও!

২১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ২২:০১:০০

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার আজও অরক্ষিত। জাতীয় দিবসগুলো উদযাপন নিয়ে কর্তৃপক্ষের ব্যাপক তোড়জোড় থাকলেও শহীদ মিনারটি রক্ষণে সবাই উদাসীন। দুই দিন আগে শহীদ মিনারে আলোক স্বল্পতা দূর করলেও বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শহীদ মিনার পর্যন্ত যেতে রাস্তাটিতে নেই কোন আলোর ব্যবস্থা।

এদিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে ২১ ফেব্রুয়ারির প্রথম প্রহরে শহীদ মিনারে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যসহ বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের সবাই ফুল দিয়ে ভাষা শহীদদের স্মরণ করে শ্রদ্ধা জানালেও দিনের আলো ফোঁটার সাথে সাথেই গায়েব হয়ে যায় ফুলের ডালাগুলো। যা ভাষা শহীদদের সম্মান জানানোর চেয়ে তাদেও অসম্মান করা হয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের সদস্যরা। এমনকি বিভিন্ন স্থান থেকে ঘুরতে আসা পর্যটকদের কাছেও লজ্জা পেতে হচ্ছে এ পরিবারের সদস্যদের।

বিভিন্ন স্থান থেকে ঘুরতে আসা শফিকুল আলম, শারমিন আক্তার, জামিউল ইসলাম, রাফিউল আলমসহ বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী জানান, শহীদ মিনারে শুনেছি রাতে ফুল দেওয়া হয়েছে কিন্তু সেগুলো তো শহীদ মিনারে থাকার কথা। নিরাপত্তার অভাবে এভাবে ভাষা শহীদদের অসম্মান করা হচ্ছে না? আর আমরা কোথায় জুতা রেখে উঠবো বা জুতা খুলতে হবে কি না এমন কোন নির্দেশনা শহীদ মিনারে লিখা নেই। তারা আরও বলেন, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় প্রাকৃতিক দিক থেকে অনেক দৃষ্টিনন্দন আর শহীদ মিনারটিও বেশ সুন্দর কিন্তু এখানে আসার রাস্তাটির অবস্থা খুবই খারাপ।

বিশ^বিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারটি বছরের বিশেষ কয়েকটি দিন ছাড়া সম্পূর্ণ অরক্ষিত অবস্থায় থাকে। রাতে নিরাপত্তাকর্মীর অনুপস্থিতি ও পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা না থাকায় এর আশেপাশে প্রতিদিন সন্ধ্যা নামলে বসে মাদকের আসর। অথচ আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ও শহীদ দিবস, স্বাধীনতা দিবস, বিজয় দিবসসহ বিভিন্ন জাতীয় দিবসগুলোতে এখানেই শ্রদ্ধা নিবেদন করে সবাই।

নাম প্রকাশ না করা শর্তে বিশ্ববিদ্যালয়ের বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী জানান, যে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ভাষা শহীদদের সম্মানার্থে দেওয়া ফুলগুলো সংরক্ষণ করতে পারে না তারা কিভাবে বিশ্ববিদ্যালয়কে রক্ষা করবে? শহীদ মিনারে ফুল দেয়ার পরে একদিনও যদি না থাকে তবে সেটি অবশ্যই দুঃখজনক।

বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষক বলেন,‘আমি সকালে আমার ছোট মেয়েকে নিয়ে শহীদ মিনারে গিয়েছিলাম। তাকে রাতে যে ফুল দিয়েছি সেটা দেখাতে এবং কেন দিয়েছি তার কারণ বলছিলাম। কিন্তু পরিতাপের বিষয় হচ্ছে শহীদ মিনারে ওঠার পরে একটা ফুলও খুঁজে পেলাম না। আমি আমার মেয়েকে কি শেখাতে পারলাম!’

বিশ্ববিদ্যালয়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা কেমন যে শহীদ মিনারে ফুল দেয়ার পরে আর খুঁজে পাওয়া যায় না এমন প্রশ্নের জবাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা শাখার কর্মকর্তা মো. সাদেক হোসেন মজুমদার বলেন,‘আমরা সকাল ৮.০০ টা পর্যন্ত শহীদ মিনারে ছিলাম। এর পরে শহীদ মিনারে নিরাপত্তার বিষয়ে আমাদের বলা হয়নি।’

বিশিষ্ট চিত্রশিল্পী ও কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের নকশাকারক শিল্পী হাশেম খান বলেন,‘আমাদের ভাষা, সংস্কৃতি এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে অক্ষুন্ন রাখার জন্য প্রতিদিনই আমাদের যুদ্ধ করে চলতে হচ্ছে। সাম্প্রতিক কুমিল্লা বিশ^বিদ্যালয়ে শহীদ মিনারের ফুলগুলো চুরি হওয়ার ঘটনা সত্যিই আমায় ব্যথিত করেছে। একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনারে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেই সেটা কি করে হয়? রাজাকার আলবদররা আপনাদের বিশ্ববিদ্যালয়েও আছে।

তারাও হয়তো ভাষা শহীদদের অসম্মান করার জন্য ফুলগুলো নষ্ট করে ফেলতে পারে। এজন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা ব্যবস্থাই মূল দায়ী। এই নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার জন্য আপনারা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে বাধ্য করেন। দেশের স্বার্থে, ন্যায়ের স্বার্থে ও শহীদ মিনারের পবিত্রতার স্বার্থে এটা করা উচিত।’

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এমরান কবির চৌধুরী বলেন,‘আমি ফুল চুরি হওয়ার বিষয়টি সম্পর্কে এখনও জানি না। আমি এ বিষয়ে খবর নিয়ে দেখছি।’

বিডি২৪লাইভ/এজে

সর্বশেষ

এডিটর ইন চিফ: আমিরুল ইসলাম আসাদ
বিডি২৪লাইভ মিডিয়া (প্রাঃ) লিঃ, বাড়ি # ৩৫/১০, রোড # ১১, শেখেরটেক, মোহাম্মদপুর, ঢাকা - ১২০৭, 
ই-মেইলঃ info@bd24live.com, 
ফোন: ০২-৫৮১৫৭৭৪৪

বার্তা প্রধান: ০৯৬১১৬৭৭১৯০
নিউজ রুম: ০৯৬১১৬৭৭১৯১
মফস্বল ডেস্ক: ০১৫৫২৫৯২৫০২
ই: office.bd24live@gmail.com

Site Developed & Maintaned by: Primex Systems