ঢাকা, বুধবার, ২৪ এপ্রিল, ২০১৯

ক্রাইস্টচার্চে সন্ত্রাসী হামলায় নিহতদের স্মরণে সিডনিতে সাংবাদিক সমাজের সভা

২১ মার্চ, ২০১৯ ১১:৪৮:০০

অস্ট্রেলিয়া বাংলাদেশ প্রেস অ্যান্ড মিডিয়া ক্লাবের উদ্যোগে ক্রাইস্টচার্চে সন্ত্রাসী হামলায় নিহতদের স্মরণে অস্ট্রেলিয়ার সিডনির লাকেম্বাস্থ রেইনফরেস্ট রেস্টুরেন্টে বুধবার (২০ মার্চ) সাংবাদিক সমাজের এক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সংগঠনের সভাপতি রহমতউল্লাহর সভাপতিত্বে, সাধারণ সম্পাদক ইউসুফ ইকবাল টুটুলের উপস্থিতিতে সময় টেলিভিশনের অস্ট্রেলিয়া প্রতিনিধি আমিনুল ইসলাম রুবেলের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশের অন্বেষা প্রকাশনের সত্বাধিকারী মোহাম্মদ শাহাদাত হোসেন।

নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চে ঘটে যাওয়া নারকীয় হত্যাকাণ্ডে নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এক মিনিট নিরবতা ও দোয়ার মাধ্যমে শুরু হওয়া এই সভায় বক্তব্য রাখেন জন্মভূমি টেলিভিশনের পরিচালক মোহাম্মদ খান তুষার, নবধারা নিউজের সম্পাদক ও দেশ বিদেশ পত্রিকার সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ, কবি ফজলুল মিরাজ, কলামিস্ট এবং গবেষক ড. শাখাওয়াৎ নয়ন, বাংলা বার্তা পত্রিকার প্রধান সম্পাদক আসলাম মোল্লা, প্রশান্তিকার সাংবাদিক ও লেখক আরিফুল হক, জন্মভূমি টেলিভিশনের ড. ফয়জুল আজিম চঞ্চল, আড়ঙ্গ পত্রিকার সম্পাদক এলিজা আজাদ টুম্পা, স্বাধীন কণ্ঠ পত্রিকার সম্পাদক মিজানুর রহমান সুমন, মুক্তমঞ্চের সম্পাদক নোমান শামীম, এসবিএস বাংলা রেডিওর পরিচালক রেজা আরেফিন, প্রশান্তিকার সাংবাদিক ফাহাদ আসমার এবং কবি ও কলামিস্ট ড. আবুল হাসনাৎ মিল্টন।

বক্তারা সবাই ক্রাইস্টচার্চের সন্ত্রাসী ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে সাংবাদিকদের লেখনীকে আরও জোরদার করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। তারা বলেন, সন্ত্রাসবাদের কোনো নির্দিষ্ট সীমানা নেই। ক্রাইস্টচার্চে শুধু পঞ্চাশজন মুসলমান মরেনি, আসলে পঞ্চাশজন মানুষ মরেছে। ধর্ম-বর্ণ-জাতের ঊর্ধ্বে আমাদের সবার প্রধান পরিচয় হোক মানুষ।

বক্তারা আরও বলেন, নিউজিল্যান্ডের এই সন্ত্রাসী ঘটনা অস্ট্রেলিয়াকেও ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। আমরা অনেকেই আজ এই সমাজে অতটা নিরাপদ বোধ করছি না। আমাদের সম্মিলিতভাবে কাজের মধ্য দিয়েই প্রমাণ করতে হবে অস্ট্রেলিয়া আসলেই বর্ণবৈষম্যহীন বহুজাতির একটি দেশ।

জন্মভূমি টেলিভিশনের পরিচালক মোহাম্মদ খান তুষার বলেন, মুসলমান হিসেব করে এই হত্যাকাণ্ড শুধুই বর্ণবাদী ও অগ্রহণযোগ্য। নবধারা নিউজের সম্পাসক আবুল কালাম আজাদ বলেন, মানুষ প্রকৃত ধর্মাশ্রয়ী হলে এই ধরনের জঘন্য কাজের সাথে লিপ্ত হতে পারে না। কবি ফজলুল মিরাজ বলেন, এটাকে ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে দেখার কোনো সুযোগ নেই, মানুষকে হত্যা করা হয়েছে, আমরা অপরাধটাকেই আমলে নিবো।

কলামিস্ট এবং গবেষক ড. শাখাওয়াৎ নয়ন বলেন, একটি আতঙ্ক তৈরি হয়েছে, যা প্রশমনে সবার যত্নবান হওয়া উচিত মনে করি। বাংলা বার্তা পত্রিকার প্রধান সম্পাদক আসলাম মোল্লা সন্ত্রাসী হামলার নিহতদের স্মরণে দোয়া পরিচালনা করেন এবং বলেন, আল্লাহ নিশ্চয়ই সর্বজ্ঞানী, আমাদের অবশ্যই ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। প্রশান্তিকার সাংবাদিক ও লেখক আরিফুল হক এই হত্যাকাণ্ডেরর তীব্র নিন্দা জ্ঞাপন করে বলেন, এটি বিশ্ব বিবেককে জাগ্রত করেছে। আড়ঙ্গ পত্রিকার সম্পাদক এলিজা আজাদ টুম্পা বলেন, হত্যাকান্ডের স্বীকার পরিবারের জন্য আমরা যা কিছু দরকার করবো। স্বাধীন কণ্ঠ পত্রিকার সম্পাদক মিজানুর রহমান সুমন বলেন, এই ঘটনা থেকে আমাদের শিক্ষা নিতে হবে, আমরা যেমন প্রতিবাদ জানাবো, সেভাবেই আমাদের ব্যবহার হতে হবে সমাজ উত্তীর্ণ।

এসবিএস বাংলা রেডিওর পরিচালক রেজা আরেফিন এই হত্যাকাণ্ডের ভয়াবহতায় হতাশা প্রকাশ করেন এবং তীব্র নিন্দা জ্ঞাপন করে বলেন, শান্তিপূর্ণ দেশ নিউজিল্যান্ড থেকে আমাদের শিক্ষা যেমন নিতে হবে, তেমনই মনে রাখতে হবে, বর্ণবাদের হাত থেকে কেউই দূরে নই। মুক্তমঞ্চের সম্পাদক নোমান শামীম বলেন, সাম্প্রদায়িকতার হাত থেকে কেউই রক্ষা পাবে না যদি আমরা সবাই সতর্ক না হই, সেই সাথে কমিনিটি মিডিয়াকে সাম্প্রদায়িকতার খপ্পর থেকে বের হবার আহবান জানান তিনি।

কবি ও কলামিস্ট ড. আবুল হাসনাৎ মিল্টন বলেন, এখানে শুধু কিছু ধর্মের মানুষকে হত্যা করা হয়েছে বললে ভুল হবে, নিউজিল্যান্ড আমাদের শিখিয়েছে, এখানে মানুষ নিহত হয়েছেন, মানবতা নিহত হয়েছে। এই মুহূর্তে আমাদের হাতে হাত ধরে এই বর্ণ ও সাম্প্রদায়িকতার কালো থাবার বিরুদ্ধে দাঁড়াতে হবে।

বিশেষ অতিথি বাংলাদেশের অন্বেষা প্রকাশনের সত্বাধিকারী মোহাম্মদ শাহাদাত হোসেন, তার সংক্ষিপ্ত সময়ে এই ধরনের একটি সভায় ঐক্যবদ্ধ সাংবাদিক সমাজের এই স্মরণ সভায় নিজের বক্তব্য দেয়ার সুযোগটি তিনি সম্মানের চোখে দেখছেন।


তিনি বলেন, বর্ণ ও ধর্মের অপব্যবহারকে রাজনীতি থেকে দূরে সরিয়ে নেয়া জরুরি, সেই সাথে তিনি নিহতদের আত্মার প্রতি মাগফেরাত কামনা করে বলেন, আপনারা প্রবাসীরা অবশ্যই ধর্ম-বর্ণের বাইরে ঐক্যবদ্ধ থাকবেন এবং এক ভাই আরেক ভাইয়ের দিকে লক্ষ্য রাখবেন।

সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক ইকবাল ইউসুফ টুটুল বলেন, অস্ট্রেলিয়া আমাদের দেশ, বাংলাদেশের প্রতি যেমন, তেমনি এই দেশের প্রতিও আমাদের দায়িত্ব আছে।

পরিশেষে, সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে সভার মুলতবি ঘোষণা করেন, অস্ট্রেলিয়া বাংলাদেশ প্রেস অ্যান্ড মিডিয়া ক্লাবের সভাপতি রহমতউল্লাহ।

বিডি২৪লাইভ/টিএএফ

সর্বশেষ

এডিটর ইন চিফ: আমিরুল ইসলাম আসাদ
বিডি২৪লাইভ মিডিয়া (প্রাঃ) লিঃ, বাড়ি # ৩৫/১০, রোড # ১১, শেখেরটেক, মোহাম্মদপুর, ঢাকা - ১২০৭, 
ই-মেইলঃ info@bd24live.com, 
ফোন: ০২-৫৮১৫৭৭৪৪

বার্তা প্রধান: ০৯৬১১৬৭৭১৯০
নিউজ রুম: ০৯৬১১৬৭৭১৯১
মফস্বল ডেস্ক: ০১৫৫২৫৯২৫০২
ই: office.bd24live@gmail.com

Site Developed & Maintaned by: Primex Systems