ঢাকা, রবিবার, ২১ এপ্রিল, ২০১৯

মো. ইলিয়াস

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট

মির্জা ফখরুল

‘আবেগ দিয়ে যুদ্ধ জয় করা যায় না’

২৪ মার্চ, ২০১৯ ২২:০৬:৪১

নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্য করে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘আবেগ দিয়ে যুদ্ধ জয় করা যায় না।’

তিনি বলেন, বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার নির্দেশেই বিএনপি নির্বাচনে গেছে এবং নির্বাচনের পরেও তার নির্দেশেই ঐক্য ধরে রাখতে কাজ করছে দলটি।

রবিবার(২৪ মার্চ) বিকেলে বিএনপির সাবেক মহাসচিব কেএম ওবায়দুল হকের ১২তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষ্যে রাজধানীর কাকরাইল ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটে এক স্মরণ সভায় নেতাকর্মীদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

এ সময় মির্জা ফখরুল বলেন, ‘নির্বাচনকে আমরা একটি হাতিয়ার হিসেবে বেছে নিয়েছিলাম। বেছে নিয়েছিলাম আমাদের গণতন্ত্রের মাতা (বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া) তারই নিদের্শে। আপনাদের নিশ্চয় মনে আছে, আমাদের সাধারণ সভায় তিনি পরিস্কার করে বলে গিয়েছিলেন যে, দল মত নির্বিশেষে সকলকে নিয়ে গণতন্ত্রের পক্ষে ঐক্য গড়ে তুলতে এবং এই ফ্যাসিবাদকে পরাজিত করতে ঐক্য নিয়ে লড়াই করতে হবে।’

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘আমরা বিশ্বাস করি এই ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে সংগ্রাম লড়াই করতে হলে সমস্ত জনগণের ঐক্য সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন। জনগণের ঐক্য এবং সম্মিলতি প্রয়াস ছাড়া এই ফ্যাসিবাদ স্বৈরাচারকে গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে পরাজিত করা কোনো সুযোগ নেই।’

তিনি বলেন, রাজনৈতিক ইতিহাস বলছে, আন্দোলন সংগ্রামে জয়ী হতে সমগ্র মানুষকে এক করতে হবে। আমরা নির্বাচনের যাওয়ার পূর্বে আমাদের নেত্রীর সঙ্গে যোগাযোগ করেছি। তিনি নির্দেশ দিয়েছেন যে, নির্বাচনে যেতে হবে এবং জনগণের মধ্যে ঐক্য গড়ে তুলতে হবে। এমনকি নির্বাচনের পরে তিনি এই নির্দেশ দিয়েছেন যে, এই ঐক্যকে ধরে রাখতে হবে।

নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্য করে ফখরুল বলেন, ‘আবেগ দিয়ে যুদ্ধ জয় করা যায়না। এখানে অনেকে অনেক কথা বলছেন। আমরা দেখেছি নেত্রী গ্রেপ্তার হওয়ার পরে যখন আমরা কর্মসূচি দিয়েছি দেখেছি কতজন এসেছেন কতজন আসেননি। আমরা তো দেখেছি কারা কারা কর্মসূচি থেকে আস্তে আস্তে চলে গেছেন। আমরা তো দেখেছি এই নির্বাচনের মধ্যে কারা বেরিয়ে এসে প্রতিবাদ করেছেন। সুতরাং শুধুমাত্র কথা বলে একটি বদ্ধ আবদ্ধ ঘরের মধ্যে নিরাপদ জায়গায় এসব কথা বলে শত্রুকে পরাজিত করতে পারবো না।’

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আজকে সুপরিকল্পিতভাবে জনগণের ঐক্যকে ভেঙে ফেলার ষড়যন্ত্র হচ্ছে। ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনে মধ্য দিয়ে জনগণ যেভাবে ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগকে জনগণ বর্জন করেছে, সেই ঐক্যকে ভাঙতে চেষ্টা করা হচ্ছে।’

'আমরা দৃঢ় প্রতিজ্ঞ যে, দেশনেত্রীর নির্দেশে এই ঐক্যকে আরো সুদৃঢ় করবো এবং এই শক্তিকে পরাজিত করবো। ঐক্য ভেঙে গেলে আর কোনোদিন সরাতে পারবো না। সেজন্য ছোট খাটো সমস্যাকে বড় করে না দেখে ঐক্য গড়ে তুলতে হবে। একই সঙ্গে জনগণের মধ্যে ঐক্য গড়ে তুলতে হবে।'

বিএনপিকে ভাঙতে ষড়যন্ত্র হচ্ছে দাবি করে দলটির এই মহাসচিব বলেন, ‘বিএনপি কোনোদিন নিঃশেষ হবে না। বিএনপির রাজনীতি জনগণের রাজনীতি। এর আগে অনেকে বিএনপিকে ভাঙতে চেয়েছিলো। এরশাদ সরকার ভাঙতে চেষ্টা করেছে। এর পরে আওয়ামী লীগও ভাঙতে চেয়েছিলো কিন্তু পারেনি। আবারো এখন ভাঙতে চেষ্টা করছে। কিন্তু একজন কর্মীকেও সরিয়ে নিতে পারেনি। এখন সময় কঠিন। এই কঠিন সময়ে অত্রিক্রম করতে হবে অত্যন্ত ধৈর্য্য ও সাহস নিয়ে।’

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের বক্তব্যের এক পর্যায়ে দর্শক সারি থেকে কেন্দ্রীয় নেতাদের কাছে বিচ্ছিন্নভাবে প্রশ্ন করতে থাকেন। এ সময় মির্জা ফখরুল তাদের মঞ্চে এসে প্রশ্ন করতে বলেন। দর্শক সারি থেকে ঢাকা কলেজের সহ সভাপতি এইচএম রাশেদ মঞ্চের কাছে এসে জানতে চান, জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট সর্বশেষ যে কর্মসূচি ঘোষনা করেছে তাতে খালেদা জিয়ার মুক্তি চাওয়া হয়নি কেন? এ সময় ফখরুল বলেন, ‘কে বলেছে আপনাকে এই কথা। অবশ্যই মুক্তি চাওয়া হয়েছে। ডোন্ট টেল লাই।’ এ সময় উপস্থিত নেতাকর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়।

টি এম গিয়াসউদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে স্মরণসভায় আরও বক্তব্য দেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, ভাইস চেয়ারম্যান শাহ মোয়াজ্জেম হোসেন, নিতাই রায়, যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, খাইরুল কবির খোকন, সাংগঠনিক সম্পাদক শ্যামা ওবায়েদ প্রমুখ।

বিডি২৪লাইভ/এআইআর

সর্বশেষ

এডিটর ইন চিফ: আমিরুল ইসলাম আসাদ
বিডি২৪লাইভ মিডিয়া (প্রাঃ) লিঃ, বাড়ি # ৩৫/১০, রোড # ১১, শেখেরটেক, মোহাম্মদপুর, ঢাকা - ১২০৭, 
ই-মেইলঃ info@bd24live.com, 
ফোন: ০২-৫৮১৫৭৭৪৪

বার্তা প্রধান: ০৯৬১১৬৭৭১৯০
নিউজ রুম: ০৯৬১১৬৭৭১৯১
মফস্বল ডেস্ক: ০১৫৫২৫৯২৫০২
ই: office.bd24live@gmail.com

Site Developed & Maintaned by: Primex Systems