ঢাকা, মঙ্গলবার, ২১ মে, ২০১৯

লক্ষ্মীপুরের দত্তপাড়া

খাল দখল করে দোকান নির্মাণ

২৪ এপ্রিল, ২০১৯ ০০:৫৪:০০

ইসমাইল হোসেন রবিন,
লক্ষ্মীপুর থেকে:

লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার দত্তপাড়া বাজার সংলগ্ন সরকারি খালটি ধীরে ধীরে দখল হয়ে যাচ্ছে স্থানীয় দখলদারদের হাতে। অভিযোগ রয়েছে এই দৌরাত্ম্যের অংশীদার স্থানীয় চুনোপুটি থেকে শুরু করে রাজনৈতিক ও প্রশাসনের কর্তা ব্যক্তিরা।

খালটি দখল হয়ে যাওয়ায় ব্যাহত হচ্ছে এলাকার স্বাভাবিক পানি প্রবাহ। এছাড়া বর্ষা মৌসুমে এলাকার জলাবদ্ধতা তৈরিতে অন্যতম বিষপোঁড় হয়ে দাঁড়ায় এই খাল দখলের কারণে। মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে কৃষি কাজ, পানি নিষ্কাশনসহ স্থানীয় পরিবেশের। খালটির দখলদারিত্ব নিয়ে একাধিক স্থানীয় ও জাতীয় সংবাদ মাধ্যমে সংবাদ প্রচারের পরও টনক নড়েনি এই রাঘব বোয়াল দখল দুর্বৃত্তদের।

এলাকাবাসীর প্রশ্ন, তবে কি জনপ্রতিনিধি থেকে শুরু করে প্রশাসনের কর্তা ব্যক্তি সবাই দখলদারদের পকেট বন্দী?

সরেজমিনে ঘুরে জানা যায়, ৭৩নং দর্জিপাড়া মৌজায় ১৩৪০ দাগের আন্দরে ১নং খাস খতিয়ানের অন্তর্ভুক্ত এ খালটি স্থানীয়ভাবে দর্জিপাড়া খাল হিসাবে পরিচিত। অনেকের কাছে এটি আবার দত্তপাড়া খাল হিসাবে পরিচিত। মূলত মেঘনার অববাহিকার ডাকাতিয়ার বুক চিরে বহমান রহমতখালী খালের একটি প্রশাখা এই দত্তপাড়া খাল।

এক সময় নদী বিধৌত এ অঞ্চলের কৃষি, কৃস্টি, ব্যবসা-বানিজ্য সবই পরিচালিত হতো এ খালের বুক চিরে। বিশাল-বিশাল বানিজ্য নৌকা ছাড়াও জন সাধারণের যাতায়াতের ঢিঙ্গি নৌকা থেকে শুরু করে নববধূর সাম্পানের এক ও অন্যতম পথ ছিল এই খাল। কালের পরিক্রমায় দখল দুর্বৃত্তদের দৌরাত্বে আজ তা বিলিন প্রায়। এমন কি সামান্যতম বৃষ্টি হলে পানি নামতে না পারায় পুরো বাজারটি একটা জলাশয়ে পরিণত হয়।

প্রায় ১৫০টি দোকান ঘর মাসোহারার বিনিময়ে ভাড়া খাটাচ্ছে স্থানীয় প্রভাবশালী মহল।

এদিকে এই খালটির প্রতিবন্ধকতার কারণে এবং দত্তপাড়া ইউনিয়ন ভৌগলিক অবস্থানের কারণে দক্ষিন দিকে মান্দারী ইউনিয়ন, উত্তর দিকে বশিকপুর ইউনিয়ন, পশ্চিম দিকে বাঙ্গাখাঁ ইউনিয়ন, পূর্ব দিকে উত্তর জয়পুর ইউনিয়নের কৃষি, সড়ক, পয়ঃনিষ্কাশনসহ পরিবেশগত সমস্যা দিনের পর দিন ব্যাহত হচ্ছে।

দত্তপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আহসানুল কবীর বলেন, এ খালটি এক সময় দর্জিপাড়া খাল হিসাবে পরিচিত ছিল। এই খালটি সরকারি খাল। অনেক আগেই অবৈধ দখলদারদের হাতে চলে গেছে এবং দখল করে ইমারত তৈরি করেছেন। ইমারত তৈরির কারণে খালের অস্তিত্ব বিলিন হয়ে গেছে। এই কারণে এলাকার সাধারণ মানুষের মাঝে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। এ খালটি দখলের কারণে এখানকার আবাদী জমি চাষাবাদের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। যেহেতু খাল নেই, পানিও নেই।

তিনি আরও বলেন, অনেক বার প্রশাসন থেকে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে খালটি দখল মুক্ত করার জন্য। এর পর কি কারণে স্থগিত হয়ে গেছে আমরা জানিনা। আমি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হিসেবে এবং এই এলাকার জনগণের স্বার্থে দখল বাজদের হাত থেকে খালটি উদ্ধার করতে প্রশাসনকে যতটুকু সহযোগীতা করার আমি ততোটুকু সহযোগীতা করে যাবো। যেন দখল মুক্ত করে পুরনো ঐতিহ্যবাহী এ খালটি ফিরে পাই এটাই কামনা করি।

এ ব্যাপারে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শফিকুর রিদোয়ান আরমান শাকিল জানান, গত ১৫ থেকে ২০ বছর ধরে এই খালটি দখল হয়ে আসছে এ বিষয়টি আমাকে স্থানীয় চেয়ারম্যান জানিয়েছেন। তৎকালীন ইউএনও এবং জেলা প্রশাসক স্যার মিলে উচ্ছেদের উদ্যোগ নিয়ে ছিলেন। বিষয়টি আমি জানার পর উপজেলা ভূমি অফিসকে দায়িত্ব দিয়েছি খালটি পরিমাপ করার জন্য। পরিমাপ করে কে কতটুকু বে-দখলে আছে এবং দখলদারদের তালিকা করার জন্য বলে দিয়েছি। পরে উচ্ছেদ মামলা করে জেলা প্রশাসক স্যারের নেতৃত্বে প্রয়োজনীয় ব্যাবস্থা গ্রহণ করব।

লক্ষ্মীপুর পওর বিভাগ, বাপাউবো নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ মুসা জানান, বর্তমান সরকার খাল খনন এবং খাল পাড়ে অবৈধ দখল দারদের হাত থেকে খাল বাচাঁনো জন্য খুবই আন্তরিক। আমরা লক্ষ্মীপুরের কয়েকটি খালের তালিকা তৈরি করেছি। খুব শীঘ্রই এ গুলিতে উচ্ছেদ অভিযান করা হবে।

বিডি২৪লাইভ/এজে/এইচকে

সর্বশেষ

এডিটর ইন চিফ: আমিরুল ইসলাম আসাদ
বিডি২৪লাইভ মিডিয়া (প্রাঃ) লিঃ, বাড়ি # ৩৫/১০, রোড # ১১, শেখেরটেক, মোহাম্মদপুর, ঢাকা - ১২০৭, 
ই-মেইলঃ info@bd24live.com, 
ফোন: ০২-৫৮১৫৭৭৪৪

বার্তা প্রধান: ০৯৬১১৬৭৭১৯০
নিউজ রুম: ০৯৬১১৬৭৭১৯১
মফস্বল ডেস্ক: ০১৫৫২৫৯২৫০২
ই: office.bd24live@gmail.com

Site Developed & Maintaned by: Primex Systems