‘উপার্জনহীন’ কেমন আছে লেগুনা চালকরা?

২৬ ২৬, ২০১৮ ০৮:৩৮:৪৬

সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে ডিএমপি কমিশনার নগরীর রাস্তায় কোনো লেগুনা চলতে দেয়া হবে না- এমন ঘোষণার পর দিন থেকেই রাজধানীর প্রধান প্রধান সড়কে লেগুনা চলাচল বন্ধ রয়েছে। এতে দুর্ভোগে পড়েছেন লেগুনায় চলাচলরত সাধারণ যাত্রীরা। যার ফলে বেকার হয়ে পড়েছেন কয়েক হাজার লেগুনা চালক, হেলপারসহ এ পেশার সাথে সংশ্লিষ্ট বেশ কয়েক হাজার পরিবহণ শ্রমিক। কারণ লেগুনার চাকা ঘুরলেই চলতো তাদের পেট। কিন্তু এ বাহনটি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তারা পড়েছেন বিপাকে।

কেমন কাটছে আয়-রোজগার বন্ধ হয়ে যাওয়া চালক, হেলপারসহ পরিবহন শ্রমিকদের জীবন? এ বিষয়ে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, লেগুনা বন্ধ হয়ে যাওয়ার দিন থেকেই তাদের বেশির ভাগই বেকার হয়ে পড়েছেন। তবে কেউ কেউ অন্য পেশায় গেলেও বেশিরভাগই লেগুনা ফের চালু হবে- এমন আশায় বসে আছেন।

তবে যেসব চালকদের লাইসেন্স আছে তারা চান তাদের হাত ধরেই নগরীর রাস্তায় আবার ফিরে আসুক লেগুনা। লেগুনা ফিরলেই তাদের পেট চলবে, না হলে পেট খালি রাখতে হবে বলে সংশ্লিষ্টদের প্রতি তাদের দাবি।

এদিকে রাজধানীতে আজ সোমবার (১০ সেপ্টেম্বর) ফার্মগেটসহ কিছু জায়গায় সড়কে লেগুনা চলার দৃশ্য চোখে পড়েছে। তবে এখনো লেগুনা চলাচল বন্ধ রয়েছে রাজধানীর অনেক জায়গায়।

এদিকে বিডি২৪লাইভের সঙ্গে কথা হয় চালক মফিদুলের। তিনি মিরপুর টু বাড্ডা রুটে লেগুনার চালক ছিলেন। তিনি বলেন, ‘লেগুনা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বড় ধরনের সমস্যায় পড়েছি। এখন হাতে কোন কাজ নেই। দিন অতি কষ্টে চলছে।’

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘যাদের লাইসেন্স নেই তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া উচিৎ। আমাদের তো ড্রাইভিং লাইসেন্স আছে। যাদের লাইসেন্স আছে, তাদের তো চলাচলে বাধা দেয়া উচিৎ না। যাদের লাইসেন্স নেই, সে যে শাস্তি পাবে। আমার লাইসেন্স থাকা সত্ত্বেও আমি কেন একই শাস্তি পাবো। তাহলে আমি লাইসেন্স করে কি ভুল করেছি? তাছাড়া যে লেগুনার ফিটনেস বা রুট পারমিট নেই তাদের চলাচল বন্ধ রাখলেই তো সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে।’

চালক মুফিদুলের সঙ্গে কথা বলার সময় কথা হয় তার গাড়ির হেলপার মামুনের সঙ্গে। তিনিও লেগুনা বন্ধের আক্ষেপ জানিয়ে বিডি২৪লাইভকে বলেন, ‘লেগুনার চলাচল বন্ধ করে দেয়ায় আমাদের সর্বনাশ হয়েছে। আমাদের এখন আর কিছু করার নেই, বেকার হয়ে আছি। সারাদিন লেগুনার হেলপারি করে যা আয় হতো তা দিয়েই চলে যেত। এখন তো বেকার বসে আছি, কোন কাজ নেই। বেকার থাকলে তো না খেয়ে থাকতে হয়।’

জানা গেছে, অধিকাংশ লেগুনার মালিক কোনো প্রকার কাগজপত্র ব্যতিত স্থানীয় সরকারদলীয় নেতাকর্মী, থানা পুলিশ, ট্রাফিক বিভাগের সার্জেন্ট ও মালিক সমিতির নেতাদের প্রতিদিন, হপ্তা বা মাসোহারা দিয়ে অবৈধভাবে চলাচল করতো।

বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটির (বিএরটিএ) হিসাব মতে, ঢাকা মহানগরীতে অনুমোদিত লেগুনার সংখ্যা ২ হাজার ৫২৫টি। যদিও বাস্তবে সে সংখ্যা ১০ হাজারেরও বেশি। ডিএমপি কমিশনারের ঘোষণার পর বৈধ-অবৈধ সব লেগুনা বন্ধ রয়েছে। মাঝে মধ্যে দু’একটা চললেও তা পুলিশকে ফাঁকি দিয়ে চলছে বলে জানা গেছে।

গত ৪ সেপ্টেম্বর এক সংবাদ সম্মেলনে ঢাকার প্রধান প্রধান সড়কে লেগুনা চলাচলের বিষয়ে ডিএমপি কমিশনার বলেন, ‘ঢাকা মহানগরীতে কোনো ধরণের লেগুনা চলবে না। কারণ সড়কে বিশৃঙ্খলা ও দুর্ঘটনার কারণ এই লেগুনা। এ ছাড়া নগরীর প্রধান প্রধান সড়কে এগুলো চলাচলের কোনো রুট পারমিট নেই। ঢাকা মহানগরীর ভেতরে কোনোভাবেই এগুলো চলতে দেয়া হবে না। এসব মহানগরের বাইরের সড়কে চলবে। ডিএমপি কমিশনারের এ ঘোষণার পরপরই রাজধানীর প্রধান সড়কগুলো থেকে লেগুনার সংখ্যা কমতে থাকে।

বিডি২৪লাইভ/ওয়াইএ

বিডি টুয়েন্টিফোর লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।