গোপনাঙ্গে আঘাত, গুরুতর অবস্থায় হাসপাতালে বিজিবি সদস্যের স্ত্রী

২ জুন ২০১৯, ৯:৩৪:০৮

যৌতুকের দাবিতে এক গৃহবধূকে অমানবিক নির্যাতনের পর ঘরে তালাবদ্ধ করে রাখার অভিযোগ উঠেছে এক বিজিবি সদস্য ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে। এ ঘটনা ঘটেছে নেত্রকোনার পূর্বধলা উপজেলায় শিমুলকান্দি গ্রামে।

ওই গৃহবধূ বর্তমানের নেত্রকোনা আধুনিক সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থা রয়েছেন।

নির্যাতিত গৃহবধূ বলেন, ২৮ মে আমার বাবার বাড়ি প্রথম দফায় মারধর করে স্বামী। তারপর ওখান থেকে পূর্বধলা স্বামীর বাড়ি নিয়ে এসে যৌতুকের দাবিতে নির্যাতন করে তালাবদ্ধ ঘরে আটকে রাখে বিজিবির সদস্য স্বামীসহ শ্বশুরবাড়ির লোকজন। এখানে আমার গোপনাঙ্গে লোহার রড দিয়ে আঘাত করা হয়। হাতে-পায়ে বুকে কাঠ দিয়ে পিটিয়ে মারাত্মক জখম করা হয়। আঘাত করা হয় শরীরের বিভিন্ন স্থানে। দুদিন পর (৩০ মে) প্রতিবেশীদের মাধ্যমে খবর পেয়ে আত্মীয়স্বজনরা আমাকে উদ্ধার করে নেত্রকোনা আধুনিক সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে পূর্বধলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ তাওহিদুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বিডি২৪লাইভকে বলেন, আমি ঘটনা শুনে ওই গৃহবধূর সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করেছি। তিনি বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রয়েছে। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক। লিখিত অভিযোগ পেলে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

নির্যাতিত গৃহবধূ বন্যা আক্তারের মা আলমিনা আক্তার জানান, তার মেয়ে বন্যা আক্তারের স্বামী ফারুক আহমেদ চট্টগ্রামে বিজিবির ৮ ব্যাটালিয়নে কর্মরত। দুই মাসের ছুটিতে এসে যৌতুকের দাবিতে স্ত্রী বন্যা আক্তারকে অমানুষিক নির্যাতন করে তালাবদ্ধ ঘরে আটকে রাখে দুদিন। এরপর প্রতিবেশীদের মাধ্যমে খবর পেয়ে মেয়েকে উদ্ধার করে নেত্রকোনা আধুনিক সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

আলমিনা আক্তার বলেন, মেয়ের আধা কাঠা সম্পত্তি স্বামীর নামে লিখে দিতে মেয়েকে বেঁধে স্বামীসহ শ্বশুরবাড়ির লোকজন নির্যাতন চালায়। আমার মেয়েকে অমানুষিক নির্যাতন করা হয়েছে। আমি এ ঘটনার বিচার চাই।

এ ঘটনায় বন্যা আক্তারের ভাই শরীফ আল বেলাল বাদী হয়ে পূর্বধলা থানায় মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

নির্মম এ ঘটনার বিচার চেয়ে প্রতিবেশী মজিদা আক্তার বলেন, পূর্বধলার শিমুলকান্দি গ্রামের মৃত জহুর উদ্দিনের ছেলে ফারুকের সঙ্গে চার বছর আগে বিয়ে হয় বন্যার। স্বামী বিজিবিতে কর্মরত থাকায় প্রায়ই বিভিন্ন অজুহাতে বন্যার ওপর নির্যাতন চালায় শ্বশুরবাড়ির লোকজন।

এ বিষয়ে জানতে চট্টগ্রামে বিজিবি ৮ ব্যাটালিয়নে কর্মরত বন্যা আক্তারের স্বামী ফারুক আহমেদের মুঠোফোনে বার বার যোগাযোগ করেও কথা বলা সম্ভব হয়নি।

এদিকে ঘটনার খবর পেয়ে নির্যাতিত গৃহবধূকে দেখতে নেত্রকোনা আধুনিক সদর হাসপাতালে যায় পুলিশ। গৃহবধূর অবস্থা দেখে এ ঘটনায় জড়িতদের আইনের আওতায় আনার আশ্বাস দেন নেত্রকোনা সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফখরুজ্জামান জুয়েল।

তিনি বলেন, ওই গৃহবধূকে নির্যাতনের পর শ্বশুরবাড়ির লোকজন বাড়িতে তালা দিয়ে পালিয়ে গেছেন। তবে অভিযুক্তদের গ্রেফতারের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

বিডি২৪লাইভ/এইচকে

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।